Facebook Pixel

ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছর শাসন করে তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল । ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেও ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। একসময় একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ভারতীয় উপমহাদেশের বড় একটি প্রদেশ প্রশাসনিক ও অন্যান্য সুবিধার কারণ দেখিয়ে দু'টি প্রদেশে বিভক্ত করলেন । ফলে উপমহাদেশের একটি গোষ্ঠী খুশি হলেও অন্য একটি গোষ্ঠী ভীষণ - ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ হয়ে সন্ত্রাসীমূলক কার্যকলাপ শুরু করে। ক. ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ কত সালে, কার নেতৃত্বে সম্পাদিত হয়? খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটির সাথে ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক যে ঘটনার মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে পাঠ্যপুস্তকের ঐতিহাসিক ঘটনাটির ফলাফল আলোচনা করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ‘বেঙ্গল প্যাক্ট' ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে সম্পাদিত হয়। খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশগুলোর স্বাধীন শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়েছিল । এতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন তিনটি নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। প্রথমত, সংবিধান অনুযায়ী প্রাদেশিক সরকারের ওপর ন্যস্ত বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না। দ্বিতীয়ত, প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রদেশ আত্মনির্ভরশীল হবে। মোটকথা, প্রদেশগুলোর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা প্রাপ্তি এবং প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্বশীল হওয়াই হলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটির সাথে ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ ঘটনার মিল রয়েছে। ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত ‘বাংলা প্রদেশ' ছিল আয়তনে ও জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড়। একজন গভর্নর জেনারেলের পক্ষে এত বড় প্রদেশ শাসন করা খুবই কষ্টকর ছিল। তাই গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে লিখেছিলেন যে, একটিমাত্র কেন্দ্র থেকে এত বড় ও জনবহুল এলাকা শাসন করা সম্ভব নয়। তার এ লিখিত রিপোর্টের আলোকেই ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করে দুটি প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। নতুন প্রদেশটি গঠিত হয় পার্বত্য ত্রিপুরা, ঢাকা, রাজশাহী (দার্জিলিং বাদে), চট্টগ্রাম ও আসাম নিয়ে। এর নাম হয় 'পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ। ঢাকাকে এ নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয়। অন্যদিকে, পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ; কলকাতা হয় এর রাজধানী। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছরের শাসনামলে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেও ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। একসময় একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ভারতীয় উপমহাদেশের বড় একটি প্রদেশকে প্রশাসনিক ও অন্যান্য সুবিধার কারণ দেখিয়ে দুটি প্রদেশে বিভক্ত করলেন, যা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ঘটনাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান। ঘ. ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে উদ্দীপকের উক্ত ঘটনাটি অর্থাৎ ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল। বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলার হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনগ্রসর মুসলমানরা মনে করেছিল বঙ্গভঙ্গের ফলে নতুন প্রদেশ হলে শিক্ষা-দীক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উন্নয়ন হবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার অবসান ঘটবে। অন্যদিকে, হিন্দু সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গের ঘটনাকে বাঙালি জাতির বিকাশমান সংহতি ও চেতনার ওপর আঘাত হিসেবে দেখে। পূর্ববাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ হওয়ায় পূর্ববঙ্গে ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি গড়ে ওঠে। তবে পশ্চিম বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়, বিশেষ করে ধনাঢ্য ভূস্বামীরা বঙ্গভঙ্গের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই সম্প্রদায়ের ওপর বঙ্গভঙ্গের এই বিপরীতধর্মী প্রভাবের ফলে সাম্প্রদায়িক চেতনার বিষবৃক্ষ রোপিত হয়। হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য তীব্র আন্দোলন শুরু করে। আপাতদৃষ্টিতে, বঙ্গভঙ্গ মুসলিমদের অনুকূলে একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হলেও প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে ব্রিটিশদের বড় একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়। বঙ্গভঙ্গ ছিল তাদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নামে পরিচিত কূটকৌশলের অংশ। বাংলা প্রদেশকে ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার কৌশলে কলকাতাকেন্দ্রিক সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ করার সুযোগ লাভ করে। এছাড়া এর ফলে বাংলা তথা ভারতের রাজনীতিতে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। অন্যদিকে, মুসলমানদের মধ্যেও বিচ্ছিন্নতার বোধ ও কট্টরপন্থার জন্ম হয়। এটি বাংলার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গ বাংলার রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক বিভক্তি উস্কে দেয়। এমনকি বঙ্গভঙ্গ রদের পরেও, রাজনীতি এবং অধিকার আদায়ের প্রশ্নে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সত্যিকারের কোনো ঐক্য আর গড়ে ওঠেনি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছর শাসন করে তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল । ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেও ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। একসময় একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ভারতীয় উপমহাদেশের বড় একটি প্রদেশ প্রশাসনিক ও অন্যান্য সুবিধার কারণ দেখিয়ে দু'টি প্রদেশে বিভক্ত করলেন । ফলে উপমহাদেশের একটি গোষ্ঠী খুশি হলেও অন্য একটি গোষ্ঠী ভীষণ - ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ হয়ে সন্ত্রাসীমূলক কার্যকলাপ শুরু করে। 

ক.

‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ কত সালে, কার নেতৃত্বে সম্পাদিত হয়?

খ.

প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটির সাথে ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক যে ঘটনার মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের আলোকে পাঠ্যপুস্তকের ঐতিহাসিক ঘটনাটির ফলাফল আলোচনা করো। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।