Facebook Pixel

ব্রিটিশ সরকার জনগণের প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম উন্নয়নের দাবির প্রেক্ষিতে 'ক' নামক বৃহত্তম প্রদেশটিকে বিভক্ত করলেও কতিপয় উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতার তীব্র বিরোধীতার কারণে পুণরায় তা একত্রীকরণ করে। ফলে সমউন্নয়ন ও ব্যাহত হয়। ক. কত সালে, কোথায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের জন্ম হয়। খ. সিপাহী বিদ্রোহ কেন হয়েছিল? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের কোন ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ভারতবর্ষের রাজনীতিকে কিভাবে প্রভাবিত করেছিল? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগের জন্ম হয়। খ. ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পিছনে রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক সামাজিক,সামরিক বৈষম্য দায়ী ছিল। পলাশীর যুগের পর থেকে ইংরেজরা শাসনকর্মে হস্তক্ষেপ করার মাধ্যমে জনগণকে শোষণ করতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে দেশের জনগণের মনে ক্ষোভ জমতে থাকে। অবশেষে ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ হয়। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গভঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে ‘ক’ নামক একটি বৃহত্তম প্রদেশকে প্রথমে বিভক্ত করা হলেও পরবর্তীতে কিছু মানুষের বিরোধিতার কারণে পুনরায় একত্রিত করতে বাধ্য হয়। যা মূলত বঙ্গভঙ্গকে নির্দেশ করে। বঙ্গভঙ্গ ব্রিটিশ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে হয়েছিল। ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশ ছিল আয়তনে ও জনসংখ্যায় বড়। একজন গভর্নর জেনারেলের পক্ষে এত বড় প্রদেশ শাসন করা সম্ভব ছিল না, তাই ১৯০৫ সালে বঙ্গ প্রদেশকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটি প্রদেশ হয় পূর্ববঙ্গ ও আসাম, যার রাজধানী হয় ঢাকা। অপরদিকে অন্য প্রদেশটি হলো পশ্চিমবঙ্গ,যার রাজধানী কলকাতা। এটি ব্রিটিশ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি প্রশাসনিক বোঝাও লাঘব করে। তাছাড়া নবগঠিত পূর্ববঙ্গের অর্থনীতি ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা করে। উদ্দীপকে ‘ক’ দেশটির ভাগ হওয়ার সাথে বঙ্গভঙ্গের সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. বঙ্গভঙ্গ ভারতবর্ষের রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পেছনে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ থাকলেও এর অন্যতম কারণ ছিল রাজনৈতিকতথা ভারতবাসীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা। ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের ফলে ভারতীয়রা নিজেদের অধিকারের বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হলে তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চিন্তা চেতনার বিকাশ ঘটে। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে সমগ্র ভারতে বিশেষ করে বাংলা প্রদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ‘যুগান্তর দল’ও ‘অনুশীলন সমিতি’ নামে দুটি অতি বিপ্লবী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতা। এসব আন্দোলনে ভীত হয়ে ব্রিটিশ সরকার তাদের চিরায়ত শাসন কৌশল ‘ভাগ কর এবং শাসন কর’ নীতি প্রয়োগ করে। বাংলা তথা বঙ্গপ্রদেশকে বিভক্ত করে ব্রিটিশরা এদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন কে দুর্বল করে তাদের শাসনকে দীর্ঘায়িত করার কৌশল গ্রহণ করে। এছাড়া ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বঙ্গভঙ্গের পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। জনগণকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে,নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের সুযোগ পাবে।অন্যদিকে বাংলার অধিকাংশ বাণিজ্য ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের হাতে। বঙ্গভঙ্গের ফলে তারা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবেই হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আর এই পথ অবলম্বন করেই ব্রিটিশ শাসকগণ কৌশলে কলকাতা কেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলন নস্যাৎ করার সুযোগ লাভ করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্রিটিশ সরকার জনগণের প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম উন্নয়নের দাবির প্রেক্ষিতে 'ক' নামক বৃহত্তম প্রদেশটিকে বিভক্ত করলেও কতিপয় উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতার তীব্র বিরোধীতার কারণে পুণরায় তা একত্রীকরণ করে। ফলে সমউন্নয়ন ও ব্যাহত হয়।

ক.

কত সালে, কোথায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের জন্ম হয়।

খ.

সিপাহী বিদ্রোহ কেন হয়েছিল? 

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের কোন ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।  

ঘ.

উদ্দীপকের ঘটনাটি ভারতবর্ষের রাজনীতিকে কিভাবে প্রভাবিত করেছিল? বিশ্লেষণ কর।  

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।