Facebook Pixel

ব্রিটিশ সরকারের শাসনে নিষ্পেষিত হয়ে ভারতের জনগণ বিভিন্ন দাবি- দাওয়া নিয়ে দফায় দফায় আন্দোলন করেছিল। তাদের মূল দাবি ছিল 'স্বাধীনতা ও স্বাধীন রাষ্ট্র। ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রস্তাব, মিশন-পরিকল্পনা নিয়ে আসলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অবশেষে জনগণের আন্দোলনের চাপে বাধ্য হয়ে ব্রিটিশ সরকার একটি নতুন আইন তৈরি করে ভারতীয় উপমহাদেশকে দু'টি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে, তারা ভারতীয় উপমহাদেশ ত্যাগ করে। ক. আগরতলা মামলায় আসামী কতজন ছিল? খ. ফরায়েজি আন্দোলন কী? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি তোমার পঠিত কোন আইনের সাথে সাদৃশ আছে কি? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের সাথে যে আইনের সাদৃশ্য রয়েছে, আইনটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব লেখো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আগরতলা মামলায় মোট আগামী ছিলেন ৩৫ জন। খ. ফরায়েজি আন্দোলন বলতে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ফরজভিত্তিক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনকে বোঝায় । ১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কা থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দেখলেন, মুসলমানরা নানাপ্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তারা কবর পূজা, পীর পূজা, ওরস ও মানত করে পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করত । এ অবস্থা দেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। এতে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয় । এই আন্দোলনই ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা দূর করার লক্ষ্যে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন । এটি কার্যকর করার লক্ষ্যে ৪ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনি একটি বিল উত্থাপন করেন। এ বিলে ব্রিটিশ ভারতে ‘ভারত' ও 'পাকিস্তান’ নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই বিলটি রাজকীয় সম্মতির মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়। এটিই ১৯৪৭ সালের ‘ভারত স্বাধীনতা আইন' নামে খ্যাত। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগণ বহু আইন প্ৰণয়ন করেছেন। কিন্তু আইনগুলো উপমহাদেশের জনগণকে পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও এ আইনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ আইনটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিবিদ ও জনগণের জন্য বহুল প্রত্যাশিত। এখানে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী, 'ভারত' ও 'পাকিস্তান' নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত আইনের সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইন অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য বা গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হয়। এর মাধ্যমে ভারতবর্ষে দুইশত বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ‘পাকিস্তান' ও 'ভারত' নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এ আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে। ফলে পাকিস্তান ও ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দূরীভূত হয়। দীর্ঘ আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পর ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন করা হয়। এজন্য এ আইন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দলিল। উক্ত আইন প্রণয়নের ফলে এ উপমহাদেশে দীর্ঘ ১৯০ বছরের কোম্পানি ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হয়ে স্বাধীন দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের কৃষ্টি, সভ্যতা, সাহিত্য ইত্যাদিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। নতুন প্রেরণা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দুটি স্বাধীন দেশের জনগণ নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য বা গুরুত্ব অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্রিটিশ সরকারের শাসনে নিষ্পেষিত হয়ে ভারতের জনগণ বিভিন্ন দাবি- দাওয়া নিয়ে দফায় দফায় আন্দোলন করেছিল। তাদের মূল দাবি ছিল 'স্বাধীনতা ও স্বাধীন রাষ্ট্র। ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রস্তাব, মিশন-পরিকল্পনা নিয়ে আসলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অবশেষে জনগণের আন্দোলনের চাপে বাধ্য হয়ে ব্রিটিশ সরকার একটি নতুন আইন তৈরি করে ভারতীয় উপমহাদেশকে দু'টি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে, তারা ভারতীয় উপমহাদেশ ত্যাগ করে।

ক.

আগরতলা মামলায় আসামী কতজন ছিল?

খ.

 ফরায়েজি আন্দোলন কী?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি তোমার পঠিত কোন আইনের সাথে সাদৃশ আছে কি? ব্যাখ্যা করো। 

ঘ.

উদ্দীপকের সাথে যে আইনের সাদৃশ্য রয়েছে, আইনটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব লেখো। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।