Facebook Pixel

ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের একাংশের বাঙালি জনগণ শাসকগোষ্ঠীর একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে জনগণের দাবি পূর্ণতা পায়। ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হয় কত সালে? খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের ঘটনা দ্বারা কোন আন্দোলনকে ইঙ্গিত করেছে? তার কারণ ব্যাখ্যা করো। ঘ. বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে উক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশগুলোর নিজস্ব স্বাধীন শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়েছিল। এতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন তিনটি নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। প্রথমত, সংবিধান অনুযায়ী প্রাদেশিক সরকারের ওপর ন্যস্ত বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। দ্বিতীয়ত, প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রদেশ আত্মনির্ভরশীল হবে। মোটকথা, প্রদেশগুলোর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা প্রাপ্তি এবং প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্বশীল হওয়াই হলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। গ. উদ্দীপকের ঘটনা দ্বারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ নিয়ে মতবিরোধ শুরু হয় স্বাধীনতার বছর ১৯৪৭ সালের শুরু থেকেই। ১৯৪৭ সালের ১৮ মে মজলিস-ই-ইত্তেহাদ নামকরণের এক সম্মেলনে মুসলিম লীগ নেতারা ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দিলে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। ১৯৪৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে গণপরিষদের ভাষা করার প্রস্তাব দিলে তা অগ্রাহ্য করা হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের একাংশের বাঙালি জনগণ শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকেই দেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বাংলার ছাত্র-জনতা তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করে। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঢাকায় এসে পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। এর ফলে বাংলার ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং গঠিত হয় 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। এ আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ঢাকায় ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ছাত্র-জনতা সমাবেশ ও মিছিল করলে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায় এবং সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। ১৯৫৬ সালে সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়, যা উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ। ঘ. উক্ত আন্দোলনটি হলো ভাষা আন্দোলন (১৯৫২)—এটি বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই সংগ্রাম বাঙালি সমাজে যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার উন্মেষ ঘটায়, তা পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূলভিত্তি হয়ে ওঠে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা আত্মপ্রকাশ করে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বীজ রোপিত হয়। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হয়। বাঙালি প্রথমবার রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার' অর্জনের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়। এই আন্দোলনে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ গণআন্দোলনের জন্য গণভিত্তি তৈরি করে। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক-শ্রমিক সকলেই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ভাষার মর্যাদা রক্ষার শপথ নেয়। পরবর্তীতে এ চেতনা ছড়িয়ে পড়ে ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, নির্বাচন ও অবশেষে মুক্তিযুদ্ধে। ভাষা আন্দোলনের বিজয় যেমন বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে, তেমনি রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্যবোধ বাঙালির মাঝে গভীরভাবে রোপিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সুতরাং বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও ত্যাগ বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি স্থাপন করে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের অনিবার্য প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের একাংশের বাঙালি জনগণ শাসকগোষ্ঠীর একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে জনগণের দাবি পূর্ণতা পায়।

ক.

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা হয় কত সালে?

খ.

প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকের ঘটনা দ্বারা কোন আন্দোলনকে ইঙ্গিত করেছে? তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে উক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নির্যাতনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে নির্বাচনে পরাজিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল জোটভুক্ত ...

'A' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে রাষ্ট্রের একাংশের একটি রাজনৈতিক দ...

P নামক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের একটি নির্বাচনে শাসক দলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ কর...

"Six Point demand was the Demand for the Survival of the Bangalis." -উক্তিটি কার?

'The Politics of Development the case study of Pakistan' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

'X' উপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে...

'X' নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা লাভের প্রায় দুই যুগ পর একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর শা...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতি সাধন হবে। কিন্তু তারা শাসকশ্...

'Z' নামক রাষ্ট্রটি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে স্বাধীনতা লাভ করে। ওই রাষ্ট্রে বহু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। স্বাধীনত...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।