Facebook Pixel

ব্রিটিশ ভারতে উল্লেখযোগ্য একটি আইনে লক্ষ করা যায়, সেখানে প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়। তার প্রায় ১৬ বছর পর অপর আইনে প্রদেশের দ্বৈত শাসনব্যবস্থা রহিত করে কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করা হয়। শেষোক্ত আইনে প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও তা ছিল নামমাত্র এবং অর্থহীন। ক. মুসলিম লীগ কত সালে গঠিত হয়? খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকের দুটি ভারত শাসন আইনের দ্বৈত শাসনের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধর। ঘ. উল্লিখিত স্বায়ত্তশাসনকে নামমাত্র এবং অর্থহীন বলা হয়েছে কেন? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালে গঠিত হয়। খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ভারতকে রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত করার নির্ণায়ক ও আদর্শশ্রয়ী একটি রাজনৈতিক মতবাদ। ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন অবসানের প্রাক্কালে বিশ শতকের চল্লিশের দশকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের এ ধারণার উন্মেষ ঘটান। এ তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। গ. উদ্দীপকে দুটি ভারত শাসন আইন বলতে ১৯১৯ ও ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে বুঝানো হয়েছে। এ দুটি 'আইনের অতি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে প্রদেশে দ্বৈত শাসন এবং ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ১৯১৯ সালের আইনে প্রাদেশিক বিষয়সমূহকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। অন্যদিকে, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন কেন্দ্রীয় বিষয়সমূহে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ১৯১৯ সালের আইনে হস্তান্তরিত বিষয়সমূহ প্রাদেশিক গভর্নরগণ প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালনা করতেন কিন্তু ১৯৩৫ সালের আইনে হস্তান্তরিত বিষয়সমূহ গভর্নরের উপর ন্যস্ত না করে নির্বাচিত মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত করা হয়। অপরদিকে, ১৯১৯ সালের আইনে প্রবর্তিত দ্বৈতশাসনে সংরক্ষিত বিষয়সমূহ গভর্নর সরাসরি উপদেষ্টাদের সহযোগিতায় পরিচালনা করতেন যেমন- ১৯৩৫ সালে সংরক্ষিত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে চিত্রের কোনো ভিন্নতা নেই। উপর্যুক্ত দুই আইনে প্রবর্তিত দ্বৈত শাসনের পার্থক্য মূলত কিছু শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রকৃতপক্ষে দুটি দ্বৈতশাসনব্যবস্থা একই কূটকৌশল থেকে উৎসারিত। তা হলো যেকোনো মূল্যে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন কায়েম ও তা দীর্ঘস্থায়ী করা। ঘ. উক্ত ভারত শাসন আইন অর্থাৎ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এর অর্থ প্রদেশে স্বশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রদেশের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত থেকে প্রদেশের তালিকাভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার প্রাদেশিক শাসনের ওপর কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে না। প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য যৌথভাবে প্রাদেশিক আইনসভার নিকট দায়ী থাকবে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়নি। কারণ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন শুধু তত্ত্বগতই ছিল,বাস্তবে নয়। এ আইনের অধীনে গর্ভনর জেনারেল ছিলেন প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী এবং মহাপরাক্রমশালী শাসক প্রধান। মূলত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল অকার্যকর ও অর্থহীন। পরিশেষে বলা যায়, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকা সত্বেও গর্ভনর জেনারেল, গর্ভনর এবং ভারত সচিবের অযাচিত হস্তক্ষেপ এর ফলে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্রিটিশ ভারতে উল্লেখযোগ্য একটি আইনে লক্ষ করা যায়, সেখানে প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়। তার প্রায় ১৬ বছর পর অপর আইনে প্রদেশের দ্বৈত শাসনব্যবস্থা রহিত করে কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করা হয়। শেষোক্ত আইনে প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও তা ছিল নামমাত্র এবং অর্থহীন।

ক.

মুসলিম লীগ কত সালে গঠিত হয়?

খ.

দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকের দুটি ভারত শাসন আইনের দ্বৈত শাসনের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধর।

ঘ.

উল্লিখিত স্বায়ত্তশাসনকে নামমাত্র এবং অর্থহীন বলা হয়েছে কেন? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।