Facebook Pixel

ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক সংকট ও জনগণের দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করে একটি আইন পাশ হয়। নতুন আইনটিতে পূর্ববর্তী একটি আইনে প্রবর্তিত প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা রহিত করা হয়। এ আইনে প্রাদেশিক গভর্নরগণ সীমাহীন ক্ষমতা লাভ করেন। ক. বেঙ্গল প্যাক্টের রূপকার কে ছিলেন? খ. 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের আইনটি ব্রিটিশ ভারতের যে আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনে প্রবর্তিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বেঙ্গল প্যাক্টের রূপকার ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস। খ. উপনিবেশগুলোতে ব্রিটিশ সরকারের চিরাচরিত একটি প্রশাসনিক নীতি হলো "ভাগ কর শাসন কর" নীতি। স্থানীয় জনগণ বা গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজনের মাধ্যমে তাদের দুর্বল করে রাখার একটি ব্রিটিশ নীতি হলো - ভাব কর, শাসন কর নীতি। এ কৌশল তারা ভারতেও প্রয়োগ করেছিল। ক্রমবর্ধমান ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকার উপলব্ধি করে, ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে হলে ভারতীয়দের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে তাদের দুর্বল করতে হবে। এ কৌশল বাস্তবায়নের তারা ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে। এটি ব্রিটিশদের কুখ্যাত ভাগ কর, শাসন কর নীতি। গ. উদ্দীপকের আইনটির সাথে আমার পঠিত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করে একটি আইন পাশ করা হয়। এ আইনে প্রদেশে দ্বৈতশাসন রহিত করা হয় এবং দায়িত্বশীল শাসন প্রবর্তন করা হয়। এরূপ বর্ণনা ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ আইনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো- সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে সর্বপ্রথম ব্রিটিশ ভারতীয় প্রদেশসমূহ এবং দেশীয় রাজ্যের সমন্বয়ে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়। ১৯৩৫ সালের এ আইনে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়গুলো সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত এ দুই ভাগে বিভক্ত। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের দ্বারা এবং সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নর জেনারেলের দ্বারা পরিচালিত হতো। যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত-এ আইন দ্বারা সর্বপ্রথম একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত গঠন করা হয়। এ আদালত সংবিধানের ব্যাখ্যাদান, কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যকার বিবাদ মীমাংসা করতে পারত। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কৃষি, শিক্ষা, স্থানীয় শাসন প্রভৃতির ওপর প্রাদেশিক সরকারের কর্তৃত্ব স্বীকার করা হলেও বাস্তবে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে স্বায়ত্তশাসন ব্যাহত হয়। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ব্রিটিশ ভারতের ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রতিফলিত হয়েছে। ঘ. উক্ত ভারত শাসন আইন অর্থাৎ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এর অর্থ প্রদেশে স্বশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রদেশের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত থেকে প্রদেশের তালিকাভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার প্রাদেশিক শাসনের ওপর কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে না। প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য যৌথভাবে প্রাদেশিক আইনসভার নিকট দায়ী থাকবে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়নি। কারণ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন শুধু তত্ত্বগতই ছিল,বাস্তবে নয়। এ আইনের অধীনে গর্ভনর জেনারেল ছিলেন প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী এবং মহাপরাক্রমশালী শাসক প্রধান। মূলত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল অকার্যকর ও অর্থহীন। পরিশেষে বলা যায়, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকা সত্বেও গর্ভনর জেনারেল, গর্ভনর এবং ভারত সচিবের অযাচিত হস্তক্ষেপ এর ফলে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক সংকট ও জনগণের দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করে একটি আইন পাশ হয়। নতুন আইনটিতে পূর্ববর্তী একটি আইনে প্রবর্তিত প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা রহিত করা হয়। এ আইনে প্রাদেশিক গভর্নরগণ সীমাহীন ক্ষমতা লাভ করেন।

ক.

বেঙ্গল প্যাক্টের রূপকার কে ছিলেন?

খ.

'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকের আইনটি ব্রিটিশ ভারতের যে আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনে প্রবর্তিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।