Facebook Pixel

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬১৩ সালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে। কিন্তু ভারতীয় শাসকদের রাজনৈতিক অদক্ষতার কারণে তারা ১৭৫৭ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতের শাসন ক্ষমতায় আরোহণ করে। বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় এবং পরবর্তী ২০০ বছর তারা ভারতে শাসনকার্য চালায়। ক. সিপাহি বিদ্রোহ কত সালে সংঘটিত হয়? খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উক্ত যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রথমবার অস্তমিত হয়”- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৫৭ সালে। খ. কোম্পানি শাসনামলের শুরুর দিকে বাংলার শাসনভার সংক্রান্ত দায়িত্ব দুটি পৃথক কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করাই হলো দ্বৈতশাসন। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের (রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা) পর লর্ড ক্লাইভবাংলায় দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করেন। দ্বৈতশাসনের অর্থ হলো দু'জনের শাসনব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ফৌজদারি বিচার, শান্তিরক্ষা, দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলার নামমাত্র নবাবের হাতে। অন্যদিকে, বাংলার রাজস্ব আদায়, দেওয়ানি ও জমির বিবাদ সম্পর্কিত বিচার ইত্যাদি লাভজনক কাজ কোম্পানি নিজের হাতে রাখে। বলা হয়, দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা আর অন্যদিকে নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধটি হলো 'পলাশীর যুদ্ধ' যা ১৭৫৭ সালে সংঘটিত হয়েছিল। ১৭৫৬ সালে নবাব আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলা বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু সিরাজের সিংহাসন আরোহণে তাঁর খালা ঘসেটি বেগম, সেনাপতি মীর জাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ প্রমুখের সমর্থন না থাকায় তারা সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। পলাশীর যুদ্ধের কারণসমূহ হলো- ১. ইংরেজদের বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আকাঙ্ক্ষা: ইংরেজরা বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার অধিকার লাভ করে বাংলার নবাবের কাছ থেকে। কিন্তু তারা নবাবের অনুমতি ছাড়াই শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশীয় বণিকদেরও শুল্ক ফাঁকি দিতে সাহায্য করত। ফলে নবাবের রাজস্ব কমে যেত। ২. নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তারা নবাবের শত্রুদের আশ্রয় দিত এবং তাদের পক্ষ নিয়ে নবাবের বিরুদ্ধে কাজ করত। ৩. ইংরেজদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি: ইংরেজরা নবাবের অনুমতি ছাড়াই কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে শুরু করে। নবাব এতে বাধা দিলে তারা কর্ণপাত করেনি। ৪. নবাবের দুর্বলতা: নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন তরুণ ও অনভিজ্ঞ। তাঁর দরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। ফলে তিনি ইংরেজদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ব্যর্থ হন। ৫. পলাশীর যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ: নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির প্রান্তরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। কিন্তু মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব পরাজিত হন এবং বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। ঘ. উক্ত যুদ্ধ অর্থাৎ পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য | প্রথমবার অস্তমিত হয়- উক্তিটি যথার্থ। পলাশীর যুদ্ধ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেখানে স্বাধীনতার সূর্য প্রথমবার অস্তমিত হয়। এটি কেবল একটি সামরিক পরাজয় নয় বরং কোম্পানির কূটকৌশল, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং ঔপনিবেশিক শক্তির আধিপত্য বিস্তারের সূচনা। নবাব সিরাজউদ্দৌলার অদূরদর্শিতা, বিশ্বাসঘাতকতা ও কূটকৌশলের অন্যতম ফসল। বাংলার নবাবের অকর্মণ্যতার সুযোগে রাজকোষে আঘাত হেনেছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ক্ষমতা ও নীতির পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। যেখানে দেশীয় শাসকের পরিবর্তে বিদেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এই যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি গড়ে তোলে। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬১৩ সালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে। কিন্তু ভারতীয় শাসকদের রাজনৈতিক অদক্ষতার কারণে তারা ১৭৫৭ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতের শাসন ক্ষমতায় আরোহণ করে। বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় এবং পরবর্তী ২০০ বছর তারা ভারতে শাসনকার্য চালায়।

ক.

সিপাহি বিদ্রোহ কত সালে সংঘটিত হয়?

খ.

দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

“উক্ত যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রথমবার অস্তমিত হয়”- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।