ক.
সামাজিক নিরাপত্তার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Social Security.
খ.
Robertson তার Sociology নামক গ্রন্থে বলেন, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হলো সমাজের সদস্যবৃন্দের সমাজস্বীকৃত পন্থায় কাঙ্ক্ষিত আচরণ করার একটি প্রক্রিয়া।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এমন এক ব্যবস্থা, কৌশল, পদ্ধতি, প্রক্রিয়া বা সংগঠিত প্রচেষ্টা, যার দ্বারা সমাজের মানুষকে সমাজের আদর্শ, মূল্যবোধ ও রীতিনীতির অনুগামী করার মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হয়। সামাজিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যক্তি ও সমষ্টির মধ্যকার দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও বিরোধ হ্রাস করে সমাজের শান্তি সমুন্নত রাখে এবং সমাজকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পরিচালিত করে।
গ.
উদ্দীপকটি সনাতন সমাজকল্যাণের ধর্মগোলার প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ধর্মগোলা এমন একটি বিশেষ শস্যভান্ডার এতে মৌসুমের সময় স্থানীয়ভাবে উদ্বৃত্ত শস্য সংগ্রহ করে মজুদ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে খাদ্যাভাব দেখা দিলে দুর্গতদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়। ধর্মগোলার মূল লক্ষ্য হলো দুর্ভিক্ষ ও আপদকালীন অনাহারে অকালমৃত্যু রোধ। ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে পর পর কয়েকটি দুর্যোগ দেখা দেয়। দুর্যোগগুলো মোকাবিলা করতে গিয়ে শাসকরা বিচলিত হয়ে। পড়ে। শাসক ও মানবহিতৈষী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় স্থানীয়ভিত্তিক যে শস্যভান্ডার গড়ে তোলা হয় তাই ধর্মগোলা নামে পরিচিত।
ধর্মগোলা যে প্রেক্ষাপটে গড়ে তোলা হয়েছে উদ্দীপকের শস্যভান্ডারটিও 'অনুরূপ প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। উদ্দীপকের শস্যভান্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাথে ধর্মগোলার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি সনাতন সমাজকল্যাণের ধর্মগোলার প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘ.
উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠান, হলো ধর্মগোলা। ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধর্মগোলার গুরুত্ব অপরিসীম।
স্থানীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সমস্যার মোকাবিলা এ নীতির ওপর ভিত্তি করে ধর্মগোলার উদ্ভব। ভারত বিভক্তির পর থেকে ধর্মগোলার অস্তিত্ব ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে এ অস্তিত্ব না থাকলেও সরকারি উদ্যোগে ধান সংগ্রহ অভিযানকে ধর্মগোলারই পরিমার্জিত বা আধুনিক রূপ বলে ধরা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছরই বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং পোকামাকড়ের অক্রিমণে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। যে কারণে কৃষকসমাজ চরম দুরবস্থার শিকার হয় এবং তারা চড়া সুদে গ্রাম্য মহাজনদের কাছ থেকে অর্থ বা শস্য ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। এটি বন্ধ করতে স্থানীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ধর্মগোলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ এ প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি কার্যকরী এবং দৃঢ় ভিত্তি প্রদানে সক্ষম। ঋণে জর্জরিত জীবন থেকে উদ্ধার করে স্বউদ্যোগে নিজের সমস্যা সমাধানে ধর্মগোলার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও যেকোনো ধরনের আকস্মিক দুর্ঘটনার মোকাবিলায় অগ্রিম ব্যবস্থা হিসেবে এর ব্যতিক্রম হয় না। বর্তমান ব্যবস্থায় টিসিবিসহ অন্যান্য খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রমের ব্যতিক্রম হতে পারে এই প্রাচীন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান ধর্মগোলা।।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, ধর্মগোলা অবিভক্ত ভারতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট দুরবস্থা থেকে মানুষকে রক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। ধর্মগোলার ন্যায় প্রতিষ্ঠান গঠন করা গেলে আজও এটি খাদ্য সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।