Facebook Pixel

বায়ু নানা ধরনের গ্যাসের সংমিশ্রণে গঠিত। জীবের জীবনধারণের জন্য যে গ্যাসের পরিমাণ যতটুকু দরকার, বায়ুতে গ্যাসগুলোর পরিমাণ ঠিক ততটুকুই রয়েছে। কিন্তু মানবজাতি বিশ্বপরিবেশকে অতিমাত্রায় তার অনুকূলে আনতে গিয়ে এমনসব কর্মকান্ড করে বসছে, যার দরুন বায়ুর এই গ্যাসসমূহের পরিমাণ কোথাও, কমে যাচ্ছে, আবার কোথাও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। ক. বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে? খ. জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর অধিক গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে দায়ীকৃত মানুষের কর্মকান্ডগুলো ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বায়ু বা বায়ুর গ্যাসসমূহের এই অস্বাভাবিকত্ব মানবশরীরে কোনোরূপ প্রভাববিস্তার করতে পারে কি? মতামত দাও।

বিষয়: ভূগোল ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বায়ুমণ্ডল ও বায়ুদূষণ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতাকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। খ. জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের সর্বচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ট্রপোস্ফিয়ার। কারণ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উত্তাপ, অক্সিজেন ও অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদানের অনুপাত এ স্তরে বিদ্যামান। এছাড়া মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপসর্গগুলো এ স্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সুতরাং বলা যায় যে, জীবনধারণের জন্য ট্রপোস্ফিয়ার স্তরটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গ. উদ্দীপকে বায়ুমণ্ডলে যেসব গ্যাসের পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটছে তার মূলে রয়েছে মানুষের কর্মকান্ড। নিয়ে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো- অপরিকল্পিত নগরায়ণ: প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে অন্যতম কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। গ্রামীণ এলাকা থেকে মানুষ কর্মের সন্ধানে নগরে ছুটে আসে। ফলে অত্যধিক মানুষের চাপে নগরীয় পরিবেশ দূষিত হয়। একারণে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। পাহাড় কর্তন: পাহাড় কর্তন বর্তমান সময়ে একটি বড় সমস্যা। অনেকেই অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন করছে। এতে ভূমিক্ষয়, ভূমিধস হচ্ছে। ফলে গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন কম হচ্ছে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। শিল্প বর্জ্য: শিল্প প্রতিষ্ঠানের অপরিশোধিত বর্জ্য যত্রতত্র নিষ্কাশনের ফলে পরিবেশ দূষণ ঘটে। এছাড়া কলকারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশ দূষিত করছে। যার কারণে। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। জ্বালানি দহনের নির্গত ধোঁয়া: যানবাহন, ইটভাটা, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রভৃতিতে ব্যবহৃত কয়লা, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, পারমাণবিক জ্বালানি, কাঠ প্রভৃতি থেকে নির্গত ক্ষতিকর ধোঁয়া ও গ্যাসের আধিক্য বাড়ছে। সুতরাং বলা যায় যে, উপরোল্লিখিত মানবীয় কর্মকান্ড ছাড়াও রাড়িতে রেফ্রিজারেটর, এসি প্রভৃতি ব্যবহারেও বায়ুমণ্ডলে গ্যাস হ্রাস-বৃদ্ধি হচ্ছে। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ বায়ু যা দূষণ বা অস্বাভাবিকত্ব হওয়ার ফলে মানবজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বায়ু; যা দূষণের মাত্রা ব্যাপকতর হচ্ছে। এর ফলে আমাদের চারপাশের দূষিত পরিবেশ জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে এবং বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি ছড়াচ্ছে। কলকারখানা হতে নির্গত কালো ধোঁয়া শ্বাস গ্রহণের সময় শরীরে প্রবেশ করে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। সর্দি-কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, শ্বাস গ্রহণে বিঘ্ন ঘটে এবং বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন- অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিজ, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, হাইপারটেনশন, রক্তের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা হ্রাস, হৃদরোগ, অবসন্নতা, মাথা ঘুরা, আলসার, বমিবমি ভাব, খিচুনি প্রভৃতি রোগ দেখা দেয়। এছাড়া নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলোর বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় ফুসফুস ফুলে যায় এবং পানি জমে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে ওজন স্তর নষ্ট হয়ে সূর্য হতে অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে আগমন করছে। ফলে এই রশ্মি মানুষের ত্বকে ক্যানসার সৃষ্টি করে, অন্ধত্ব বৃদ্ধি করে, মানুষসহ সকল প্রাণীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে। সুতরাং বলা যায় যে, মানুষের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফলে বায়ুতে গ্যাসসমূহের হ্রাস-বৃদ্ধি হওয়ায় উপরোল্লিখিত রোগসমূহের বিস্তার ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। এছাড়া কিছু অঞ্চলে কার্বন ডাইঅক্সাইড হ্রাস পাওয়ার ফলে সেখানে সালোকসংশ্লেষণ তৈরিতে বিঘ্ন হচ্ছে। এতে প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরিতে বাধা হচ্ছে। এ কারণে মানুষের খাদ্যজনিত অভাবের কারণে পুষ্টিহীনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বায়ু নানা ধরনের গ্যাসের সংমিশ্রণে গঠিত। জীবের জীবনধারণের জন্য যে গ্যাসের পরিমাণ যতটুকু দরকার, বায়ুতে গ্যাসগুলোর পরিমাণ ঠিক ততটুকুই রয়েছে। কিন্তু মানবজাতি বিশ্বপরিবেশকে অতিমাত্রায় তার অনুকূলে আনতে গিয়ে এমনসব কর্মকান্ড করে বসছে, যার দরুন বায়ুর এই গ্যাসসমূহের পরিমাণ কোথাও, কমে যাচ্ছে, আবার কোথাও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে।

ক.

বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে?

খ.

জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর অধিক গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে দায়ীকৃত মানুষের কর্মকান্ডগুলো ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বায়ু বা বায়ুর গ্যাসসমূহের এই অস্বাভাবিকত্ব মানবশরীরে কোনোরূপ প্রভাববিস্তার করতে পারে কি? মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. বায়ুতে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের শতকরা পরিমাণ কত? খ. গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া কী? গ. উদ্দীপকের ক-স্তরের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। ঘ....

ক. সৌরপর্দা কাকে বলে? খ. বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণগুলো ব্যাখ্যা কর। গ. 'ক' চিত্রে কোন নিয়ত বায়ুপ্রবাহকে ইঙ্গিত করা হয়...

ক. দূষণ কাকে বলে? খ. বিষমমণ্ডল কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে প্রেক্ষাপট-২ এ উল্লিখিত বিষয়টির কারণ বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকে...

ক. বায়ু দূষণ কী? খ. স্ট্রাটোস্ফিয়ারের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ। গ. ছকে উল্লিখিত 'ক' উপাদানটি বায়ুমণ্ডলে কী ভূমিকা পালন করে?...

ক. জলবায়ু কাকে বলে? খ. সাময়িক বায়ু কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' বায়ু স্তরটির বিবরণ দাও। ঘ. উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' এ...

ক. বায়ুদূষণ কাকে বলে? খ. জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'খ' স্তরের বর্ণনা দাও। ঘ...

ক. সিএফসি এর পূর্ণরূপ কী ? খ. বায়ু দূষণের কারণ ব্যাখা করো। গ. চিত্রে বর্ণিত কোন স্তরটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন তা ব্যা...

ক. দূষণ কাকে বলে ? খ. জীবজগতের জন্য ট্রপোমণ্ডল গুরুত্বপূর্ণ — ব্যাখ্যা দাও ৷ গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' স্তরের বর্ণন...

ক. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে? খ. জলীয়বাষ্প বায়ুমন্ডলের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে চিত্র ২ এর 'ক' স্তরের বর...

ক. দূষক কাকে বলে? খ. বনায়নের দ্বারা পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' স্তরের বর্ণনা দ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।