ক.
'লালফিতার দৌরাত্ম্য'-এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Red Tapism.
খ.
ই-গভর্ন্যান্স ধারণাটি মূলত আধুনিক কালের একটি ধারণা। সরকারি সেবা বণ্টন, তথ্য সরবরাহ এবং অন্যান্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) র ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার ও জনগণ, সরকার ও ব্যরসায়িক গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের মধ্যকার বিভিন্ন সংস্থার আন্তঃযোগাযোগ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত শাসনব্যবস্থাই হলো ই-গভর্ন্যান্স (e-Governance) | জাতিসংঘ এক সংজ্ঞায় বলেছে, সরকারি তথ্য ও নাগরিকসমূহের যাবতীয় তথ্য ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌঁছানোর ব্যবস্থাই হলো ই-গভর্ন্যান্স।
গ.
জনাব ডেভিড সাহেবের অনলাইনে আয়কর প্রদানের ঘটনা সরকারের ই-গভর্ন্যান্স দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে। কেননা ই-গভর্ন্যান্স হলো সরকারের অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম যা নাগরিককে সেবা প্রদানে ব্যবহৃত হয়। আর উদ্দীপকের সহজ, দ্রুত ও নিরাপদে অনলাইনে আয়কর প্রদান তাই ই-গভর্ন্যান্সকেই তুলে ধরেছে। ই-গভর্ন্যান্সের সুবিধা ব্যাপক ও বিস্তৃত। ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যই হলো নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন, দ্রুত, নিরাপদ ও সহজসাধ্য সেবা। তাই ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিক সেবার মান উন্নত হয়। নাগরিকেরা সহজেই সরকারি সেবা লাভ করতে পারে। এর মাধ্যমে দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় সেবা গ্রহণ ও প্রদান-উভয়ই নিশ্চিত হয়। ই- গভর্ন্যান্সের অন্যতম সুবিধা হলো স্বচ্ছতা ও দ্রুততার মাধ্যমে সেবা, আদান-প্রদান। ফলে দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাসও ই- গভর্ন্যান্সের সুবিধা হিসেবে আবির্ভূত হয়। ই-গভর্ন্যান্সের ফলে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ হয় ও সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ নিশ্চিত হয়। ফলে পারস্পরিক নিশ্ছিদ্র যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধিত হয় যা প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে সহায়ক। ই-গভর্ন্যান্সের ফলে তথ্যের সহজলভ্যতা সৃষ্টি হয়। যা নাগরিকের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত ও সহজ করে। আবার ই-গভর্ন্যান্সের ফলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও স্বচ্ছতা রক্ষিত হয় বিধায় এটি সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পক্ষে সহায়ক। এছাড়াও ই- গভর্ন্যান্স আরও বিভিন্ন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সুবিধা প্রাপ্তিকে সহজ ও অবাধ করে।
ঘ.
উদ্দীপকে দেখা যায় যে, ব্যবসায়ী ডেভিড সাহেব অনলাইনে আয়কর প্রদান করেছেন। এতে ই-গভর্ন্যান্সের একটি দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থার অবর্তমানে আয়কর প্রদানে পূর্ববর্তী ও সনাতন পদ্ধতি অনুসৃত হতো। সনাতন পদ্ধতিতে আয়কর প্রদান করতে চাইলে ডেভিড সাহেবকে নির্দিষ্ট অফিসে গিয়ে লাইন ধরে প্রথমে অপেক্ষা করতে হতো। এরপর অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর হাতে হাতে টাকা প্রদান করতে পারতেন তিনি। কিন্তু দুর্নীতি, জবাবদিহিতা, দক্ষতা প্রভৃতির অভাবে তার টাকা আদৌ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হলো কিনা বা কত টাকা জমা দেবার বিপরীতে কত টাকা জমা হলো, কবে জমা হলো প্রভৃতি তিনি জানতে পারতেন না। কিন্তু অনলাইনে জমাদানের মাধ্যমে তার সময় ও পরিশ্রম সাশ্রয় হয়েছে। আবার তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পেরেছেন এবং নিশ্চিত হয়েছেন যে তার জমাকৃত অর্থের সর্বশেষ অবস্থান কোথায়। আর এতে সরকারও নির্বিঘ্নে দুর্নীতিমুক্তভাবে শতভাগ অর্থ গ্রহণ করতে পেরেছে, যা ই-গভর্ন্যান্স ব্যতীত সম্ভব ছিল না। আর এভাবেই দৈনন্দিন নাগরিক জীবনের বিভিন্ন স্তরে সেবার মান উন্নয়ন, সহজ ও দ্রুত সেবা, নিরাপদ, দক্ষ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিতকল্পে ই- গভর্ন্যান্সের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অসীম।