Facebook Pixel

ব্যবসায়ী রফিক সাহেব তার বিশ্বস্ত কর্মচারী করিমকে তার ব্যবসার একটি অংশের দায়িত্ব দেন। কিন্তু কিছুকাল পরেই করিম ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেই দোকানের মালিকানা দাবি করতে শুরু করে। এই জালিয়াতিতে তাকে মদদ দেয় রফিক সাহেবের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী সোহেল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা; যাদের লক্ষ্য ছিল রফিক সাহেবের ব্যবসা দখল করা। ক. ওয়ালী খান কীসের জন্য ইংরেজদের পক্ষে যুদ্ধ করেছে? খ. "আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই।"—তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। গ. উদ্দীপকের করিমের আচরণ "সিরাজউদ্দৌলা" নাটকের কার সাথে অধিক সম্পর্কযুক্ত? কেন? ঘ. "স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতার মানদণ্ডে উদ্দীপক এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূলভাব প্রায় অনুরূপ।"—মন্তব্যের যথার্থতা বিচার কর।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: নাটক - সিরাজউদ্দৌলা

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ওয়ালী খান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির টাকার জন্য ইংরেজদের পক্ষে যুদ্ধ করেছে। খ. মোহনলাল পলাশির যুদ্ধে আসন্ন পরাজয় ও নিজের মৃত্যু অনিবার্য মনে করে সিরাজউদ্দৌলাকে আলোচ্য কথাটি বলেছে । পলাশির যুদ্ধে মিরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লৎফ তাদের সৈন্যবাহিনী নিয়ে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে ছিল।যে কারণে বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকা সত্ত্বেও নবাবকে পরাজয় বরণ করতে হয়। কিন্তু নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মোহনলাল, নৌবে সিং, বদ্রি আলি প্রমুখ জীবন বাজি রেখে লড়াই করে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মোহনলাল সিরাজউদ্দৌলাকে মুর্শিদাবাদে ফিরে গিয়ে সৈন্য সংগ্রহের পরামর্শ দেয়। নবাব একাই ফিরে যাবেন কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহনলাল প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। গ. উদ্দীপকের করিমের আচরণ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মীরজাফর চরিত্রের সঙ্গে অধিক সম্পর্কযুক্ত। উদ্দীপকে রফিক সাহেব করিমকে বিশ্বাস করে ব্যবসার একটি অংশের দায়িত্ব দেন। কিন্তু করিম সেই বিশ্বাসের মর্যাদা না রেখে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দোকানের মালিকানা দাবি করে। রফিক সাহেবের প্রতিদ্বন্দ্বী সোহেল ও তার সহযোগীদের মদদে সে মালিকের সম্পদ দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। একইভাবে মীরজাফর ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি ও আস্থাভাজন ব্যক্তি। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও নবাবের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের পরিবর্তে তিনি বাংলার মসনদ লাভের আশায় ইংরেজদের সঙ্গে গোপন চুক্তি ও ষড়যন্ত্রে যুক্ত হন। পলাশির যুদ্ধে তিনি বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে নিষ্ক্রিয় থেকে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করেন এবং পরে ইংরেজদের সহায়তায় নবাবের সিংহাসন দখল করেন। অতএব, দায়িত্বপ্রাপ্ত ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হয়েও বিশ্বাসঘাতকতা করা, প্রতিপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করা এবং মালিকের সম্পদ বা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করার দিক থেকে করিম ও মীরজাফর সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে করিমের ভুয়া দলিল তৈরির বিষয়টি ক্লাইভের জাল চুক্তির ঘটনাকেও স্মরণ করায়; তা সত্ত্বেও চরিত্রগতভাবে করিমের সঙ্গে মীরজাফরের মিলই প্রধান। ঘ. উদ্দীপকের মূল বিষয় হলো ব্যক্তিস্বার্থে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অন্যের সম্পদ দখলের ষড়যন্ত্র। রফিক সাহেব করিমকে বিশ্বাস করে ব্যবসার দায়িত্ব দিলেও করিম সেই বিশ্বাসের সুযোগ নেয়। সে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দোকানের মালিকানা দাবি করে এবং রফিক সাহেবের প্রতিদ্বন্দ্বী সোহেলের সহযোগিতায় তাঁর ব্যবসা দখল করতে চায়। করিমের বিশ্বাসঘাতকতা এবং সোহেলের ষড়যন্ত্রের মূল প্রেরণা ব্যক্তিগত লাভ। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতার মোহ ও বিশ্বাসঘাতকতা প্রধান বিষয় হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। মীরজাফর নবাবের বিশ্বস্ত প্রধান সেনাপতি হয়েও মসনদের লোভে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলায়। ঘসেটি বেগম ক্ষমতা ও প্রতিহিংসার কারণে সিরাজের পতন চান। জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ ও উমিচাঁদের মতো স্বার্থান্ধ ব্যক্তিরাও অর্থ ও ক্ষমতার জন্য ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়। অন্যদিকে ক্লাইভ ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার সম্পদ ও শাসনক্ষমতা দখলের জন্য দেশীয় বিশ্বাসঘাতকদের ব্যবহার করে। এখানে রফিক সাহেবের অবস্থানের সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার, করিমের সঙ্গে মীরজাফরের এবং সোহেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ইংরেজ কোম্পানি ও দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের সাদৃশ্য রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বস্ত ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতা প্রতিপক্ষকে অন্যের সম্পদ বা ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দিয়েছে। তবে দুই ঘটনার ব্যাপ্তি ও পরিণতি এক নয়। উদ্দীপকের ঘটনা একটি ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলকে কেন্দ্র করে; আর নাটকের ষড়যন্ত্রের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় এবং দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ তৈরি হয়। অর্থাৎ উদ্দীপকের সংকট ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক, কিন্তু নাটকের সংকট জাতীয়, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক। সুতরাং ঘটনা ও পরিণতির ব্যাপ্তিতে পার্থক্য থাকলেও স্বার্থপরতা, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোপন আঁতাত এবং অন্যের অধিকার দখলের মানদণ্ডে উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূলভাব প্রায় অনুরূপ। তাই মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

ব্যবসায়ী রফিক সাহেব তার বিশ্বস্ত কর্মচারী করিমকে তার ব্যবসার একটি অংশের দায়িত্ব দেন। কিন্তু কিছুকাল পরেই করিম ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেই দোকানের মালিকানা দাবি করতে শুরু করে। এই জালিয়াতিতে তাকে মদদ দেয় রফিক সাহেবের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী সোহেল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা; যাদের লক্ষ্য ছিল রফিক সাহেবের ব্যবসা দখল করা।

ক.

ওয়ালী খান কীসের জন্য ইংরেজদের পক্ষে যুদ্ধ করেছে?

খ.

"আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই।"—তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

গ.

উদ্দীপকের করিমের আচরণ "সিরাজউদ্দৌলা" নাটকের কার সাথে অধিক সম্পর্কযুক্ত? কেন?

ঘ.

"স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতার মানদণ্ডে উদ্দীপক এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূলভাব প্রায় অনুরূপ।"—মন্তব্যের যথার্থতা বিচার কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রথম সংলাপটি কার?

মিরন সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ শুনিয়েছিল- i. দরবারের পদস্থ আমির-উমরাদের মর্যাদাহানি ii. মতিঝিলের জলসা চিরদিনের...

মীর জাফরের প্রকৃত নাম কী?

'খাজাঞ্চি' বলতে কোন ব্যক্তিকে বোঝায়?

"ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।" উমিচাঁদের এই সংলাপের মধ্যদিয়ে আমরা অনুধাবন করতে পারি- i. সিংহে...

পিতৃ-মাতৃহারা, সহায়-সম্বলহীন মাহাবুবের জীবন চলার পথ দিশেহারা। বন্ধু রিপন এ সময় তারই এক আত্মীয়া নিঃসন্তান খালার বাড়িতে মা...

তিস্তাপাড়ে আজকাল নাকি ফসলি জমির অভাব। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জমিতে মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করে নেয় ভূগর্ভস্থ পাথর। এখানে ফ...

সিরাজের কোন অমাত্য নিরীশ্বরবাদী জৈন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?

কখন জনগণের মঙ্গল হওয়ার চেয়ে অমঙ্গলই বেশি হয়- i. শাসকরা যখন শোষক হয় ii. স্বৈরাচার যখন জেঁকে বসে iii. আমলাতন্ত্রের দৌর...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও: ভরসা হলো, আর দমাতে পারবে না। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা না করে উপায় নাই। এই আন্দোলনে দ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।