Facebook Pixel

ব্যক্তির ইচ্ছামত কোনো কিছু করা বা না করাকে বোঝায় , যদি উত্ত কাজের দ্বারা অন্যের অনুরূপ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে। ক. নৈতিকতা কী ? খ. সম্মোহনী নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায় ? গ. উদ্দীপকে কোন বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে ? তার রক্ষাকবচ সম্পর্কে আলোচনা করো। ঘ. উদ্দীপকের বিষয়টির সাথে আইনের সম্পর্ক মূল্যায়ন করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সমাজের বিবেকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ধ্যান-ধারণা ও আদর্শের সমষ্টিকে নৈতিকতা বলে। খ. কোনো নেতা যখন তার বক্তব্য ও কাজ দ্বারা জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত , অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন , তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়। সম্মোহনী নেতৃত্বের ভূমিকা জনগণকে মুগ্ধ , আবেগাপ্লুত এবং অন্ধ অনুকরণে অনুপ্রাণিত করে। সম্মোহনী নেতৃত্ব প্রকৃতপক্ষে এক জাদুকরী নেতৃত্ব। এ ধরনের নেতৃত্বের মাধ্যমে কোনো নেতা তার বক্তব্য , নিপুণতা , চারিত্রিক দৃঢ়তা , সাহসিকতা ও মোহনীয়তা ব্যক্তিত্বের প্রবল জাদুকরী স্পর্শে - জনগণকে তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। মহাত্মা গান্ধী , মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গ. উদ্দীপকে স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। স্বাধীনতার বেশকিছু রক্ষাকবচ রয়েছে। স্বাধীনতা বলতে অপরের স্বাধীনতা বা অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজ ইচ্ছা মতো কাজ করার অধিকারকে বোঝায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে , ব্যক্তির ইচ্ছামতো কোনোকিছু করা বা না করাকে বোঝায় যদি উক্ত ' কাজ অন্যের অনুরূপ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে। উদ্দীপকে উল্লেখিত এ বিষয়টি মূলত স্বাধীনতাকেই নির্দেশ করে। স্বাধীনতার কতগুলো রক্ষাকবচ বিদ্যমান। আইন স্বাধীনতার অন্যতম শর্ত ও সহায়ক শক্তি এবং প্রধান রক্ষাকবচ। আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এজন্য জন লক বলেছেন- ' যেখানে আইন নেই , সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না ' । স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ হলো সংবিধানে মৌলিক অধিকার সন্নিবেশ। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো সংবিধানে সন্নিবেশিত থাকলে এগুলো সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে। সরকার , ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী সেই অধিকার লঙ্ঘন বা হরণ করতে পারে না। ফলে স্বাধীনতা রক্ষিত হয়। গণতন্ত্র স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকায় তা জনস্বার্থে পরিচালিত হয়। এই শাসন ব্যবস্থায় জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। তাছাড়া জনগণ অধিকার সচেতন থাকার ফলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্বাধীনতা রক্ষার ' অতন্দ্র প্রহরী ' হিসেবে কাজ করে। স্বাধীনতার আরেকটি রক্ষাকবচ হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ বলতে সরকারের শাসন ক্ষমতা অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত না করে তা বিভিন্ন পেশাগত গোষ্ঠী বা স্থানীয় সংস্থাগুলোর হাতে অর্পর্ণ করাকে বোঝায়। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের ফলে ব্যক্তি স্বাধীনতা অধিক পরিমাণে সংরক্ষিত হয়। এছাড়াও আইনের অনুশাসন , গণমাধ্যমের স্বাধীনতা , দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা , ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ , স্বাধীন বিচার বিভাগ , সদা সতর্ক জনমত ইত্যাদি স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং বলা যায় , স্বাধীনতা যাতে স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত না হয় সেজন্য উল্লিখিত রক্ষাকবচগুলো থাকা দরকার। ঘ. উদ্দীপকের বিষয়টি অর্থাৎ স্বাধীনতার সাথে আইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। স্বাধীনতা বলতে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অধিকারকে বোঝায়। উদ্দীপকে এ ধারণারই প্রতিফলন ঘটেছে। আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেখা যায় , আইনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া যেমন স্বাধীনতা উপভোগ করা যায় না , তেমনি স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে আইনের বাস্তবায়নও অসম্ভব হয়ে পড়ে। অর্থাৎ আইন ও স্বাধীনতা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। এছাড়া আইন স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষক। যখন ব্যক্তির স্বাধীনতা অন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে খর্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে তখন সে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। আইনের সক্রিয় উপস্থিতি ছাড়া স্বাধীনতার কথা চিন্তা করা যায় না। এর যথাযথ প্রয়োগ ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে। আইনই স্বাধীনতার ভিত্তি দান করে এবং স্বাধীনতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করে থাকে। আইন স্বাধীনতার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে। এর ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে সভ্য , সুন্দর ও মুক্ত জীবনযাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। আইন ব্যক্তি বা সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা দূর করতে ভূমিকা রাখে। আইন প্রত্যেকের কর্মের আওতা নির্ধারিত করে দেয়। ফলে সরকার বা অন্য কারো স্বেচ্ছাচারী হওয়ার অবকাশ থাকে না। আইন ও স্বাধীনতা উভয়ই ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন মুখ্য ভূমিকা পালন করে। জনগণ বিশৃঙ্খল সমাজে স্বাধীনতার কথা চিন্তাই করতে পারে না। একমাত্র আইনই পারে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করে জনগণের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করতে। পরিশেষে বলা যায় , আইন বাস্তবায়নে স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকবে। আবার স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল আইন কাজে আসতে পারে। তবে আইন এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যেন তাতে সকলের সমর্থন থাকে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্যক্তির ইচ্ছামত কোনো কিছু করা বা না করাকে বোঝায়, যদি উত্ত কাজের দ্বারা অন্যের অনুরূপ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে।

ক.

নৈতিকতা কী?

খ.

সম্মোহনী নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে কোন বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে? তার রক্ষাকবচ সম্পর্কে আলোচনা করো।

ঘ.

উদ্দীপকের বিষয়টির সাথে আইনের সম্পর্ক মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।