ক.
উদ্দেশ্য (Subject) এবং বিধেয় (Predicate) নামক দুটি পদের মধ্যে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপক কোনো সম্পর্কের লিখিত বা মৌখিক বিবৃতি হলো যুক্তিবাক্য।
খ.
যুক্তিবাক্য (Proposition) এবং অবধারণের (Judgement) মধ্যে পার্থক্য আছে।
দুটি ধারণার মধ্যকার কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি অথবা সংযোগমূলক মানসিক অবস্থা হলো অবধারণ। পক্ষান্তরে, দুটো পদের মধ্যে সম্পর্ক জ্ঞাপক ভাষায় প্রকাশিত রূপ হলো যুক্তিবাক্য। আবার, অবধারণ যুক্তির অংশ হতে পারে না। কেননা, তার অবস্থান মনে। সেটি অনুমানের বিষয় হতে পারে। কিন্তু যুক্তিবাক্য যুক্তির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গ.
উদ্দীপকে অর্চনার বক্তব্যে পরিমাণ অনুসারে যুক্তিবাক্যের শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিমাণ অনুসারে যুক্তিবাক্য দুই প্রকার- ১. সার্বিক যুক্তিবাক্য ও ২. বিশেষ যুক্তিবাক্য। যে যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ (Denotation) সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে সার্বিক যুক্তিবাক্য বলে। যেমন- 'সকল দার্শনিক হয় বিচক্ষণ।' এখানে 'বিচক্ষণ' বিধেয় পদটিকে উদ্দেশ্য দার্শনিক পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করা হয়েছে। আবার, 'কোনো মানুষ নয় অমর' এখানে 'অমর' বিধেয় পদটিকে উদ্দেশ্য 'মানুষ' পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয়েছে। অপরদিকে, যে যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্যের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে বিধেয়কে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে বিশেষ যুক্তিবাক্য বলে। যেমন: 'কিছু ছাত্র হয় মেধাবী' এখানে 'মেধাবী' বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য 'ছাত্র' পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করা হয়েছে। একইভাবে 'কিছু মানুষ নয় সৎ' এই যুক্তিবাক্যে 'সৎ' বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য 'মানুষ' পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয়েছে। উদ্দীপকে অর্চনার বক্তব্যে বলা হয়েছে, কিছু কিছু আম ছোট। এখানে আংশিক আমের ক্ষেত্রে ছোট হওয়াকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। যা বিশেষ যুক্তিবাক্যের অনুরূপ।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাবার বক্তব্যের বিষয় হলো গুণ ও পরিমাণের যৌথ নীতি অনুসারে যুক্তিবাক্যের শ্রেণিবিন্যাস।
গুণ ও পরিমাণের যৌথ নীতি অনুসারে- যুক্তিবাক্যকে সার্বিক সদর্থক, সার্বিক নঞর্থক, বিশেষ সদর্থক ও বিশেষ নঞর্থক এই চারভাগে ভাগ করা যায়। এই চার প্রকার যুক্তিবাক্যকে যথাক্রমে A, E, I এবং O দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
যেসব যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদ (Predicate) উদ্দেশ্য পদের (Subject) সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ (Denotation) সম্পর্কে স্বীকার করা হয় তাকে সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য (Universal Affirmative Proposition) বা A বাক্য বলে। যেমন- 'সকল মানুষ হয় মরণশীল।' এখানে বিধেয় পদ 'মরণশীল' কে উদ্দেশ্য পদ 'মানুষ' এর সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। যেসব যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয় তাকে সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য (Universal Negative Proposition) বা E বাক্য বলে। যেমন- 'কোনো মানুষ নয় অমর' এখানে বিধেয় 'অমর' পদকে উদ্দেশ্য 'মানুষ' পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয়েছে। আবার, যেসব যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করা হয় তাকে বিশেষ সদর্থক যুক্তিবাক্য (Particular Affirmative Preposition) বা I বাক্য বলে। যেমন- 'কিছু ফুল হয় লাল' এই যুক্তিবাক্যে 'লাল' বিধেয় পদকে 'ফুল' উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে, যেসব যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদকে উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয় তাকে বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য (Particular Negative Proposition) বা বাক্য বলে। যেমন- 'কিছু মানুষ নয় সৎ' এই যুক্তিবাক্যে বিধেয় 'সৎ' পদকে উদ্দেশ্য 'মানুষ' পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বাবার বক্তব্যে উল্লিখিত গুণ ও পরিমাণের একত্রে বর্ণনা উপরের গুণ ও পরিমাণের যৌথ নীতি অনুসারে যুক্তিবাক্যের শ্রেণিবিন্যাসের অনুরূপ।