Facebook Pixel

বাবর ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে ইব্রাহিম লোদীর সাথে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি মাত্র বারো হাজার সৈন্য নিয়ে ইব্রাহিম লোদীকে মোকাবিলা করেন। ইব্রাহিম লোদীর লক্ষাধিক সৈন্যকে পরাস্ত করে তিনি মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ক. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে গঠিত হয়? খ. অন্ধকূপ হত্যা কী? ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন যুদ্ধের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর । ঘ. উক্ত যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের কারণগুলো বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পরিসংখ্যান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ জীব পরিসংখ্যান

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৬০০ সালে ভারত ও পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের একদল বণিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে। খ. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তা ব্যক্তি হলওয়েল প্রচার করেছিলেন যে, কলকাতা দখল করে সিরাজ ১৪৬ জন নর-নারীকে একটি ছোট ঘরে বন্দি করে রেখেছিলেন। সারারাত প্রচণ্ড গরমে শ্বাসকষ্টের ফলে পরের দিন দেখা যায় তাদের মধ্যে ১২৩ জন মারা যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটিকে অন্ধকূপ হত্যা বলা হয়। গ. উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের পলাশীর যুদ্ধের মিল রয়েছে।নিচে ব্যাখ্যা করা হলোঃ উদ্দীপকে বাবর ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে ইব্রাহিম লোদীর সাথে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি মাত্র বারো হাজার সৈন্য নিয়ে ইব্রাহিম লোদীকে মোকাবিলা করেন। ইব্রাহিম লোদীর লক্ষাধিক সৈন্যকে পরাস্ত করে তিনি মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।এখানে লক্ষ্য করা যায় যে মুঘল সম্রাটের সেনা কম থাকলেও তিনি কৌশলে নবাব ইব্রাহিম লোদীকে হারিয়ে দেন। ইংরেজ সৈন্যরা অতি সুকৌশলে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। এবং নবাবের বিশ্বস্তদের তার বিরুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।যার ফলে পর্যাপ্ত সৈন্য থাকার পরেও নির্দেশনা ও ভুল যুদ্ধ কৌশলের কারণে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় নিশ্চিত হয়। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের মত পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বৃটিশদের কৌশলের কাছে পরাজিত হয়েছিল। ঘ. উদ্দীপকের যুদ্ধটি ছিল পলাশীর যুদ্ধ। বাংলার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হলো পলাশির যুদ্ধ। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন এ যুদ্ধ সংঘটিত হলে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ইংরেজ বাহিনীর কাছে পরাজিত হন এবং নিহত হন। যার ফলে সেই সাথে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত যায়।উক্ত যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলোঃ <u>মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতাঃ</u> পলাশির যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের প্রধানতম কারণ হলো মীর জাফরের বিশ্বাস ঘাতকতা। মীর জাফর ছিলেন নবাবের প্রধান সেনাপতি এবং অধিকাংশ সৈন্য তার অধীনে ছিল। তিনি ইংরেজদের সাথে চুক্তি করে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং বিজয় মুহূর্তে নবাবকে যুদ্ধ বন্ধের পরামর্শ দেন। সেই সুযোগে ইংরেজ বাহিনী হামলা চালালে নবাব পরাজিত হন। <u>সিরাজের অনভিজ্ঞতা ও দৃঢ়চিত্তের অভাব</u> : নবাব সিরাজ খুব অল্প বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন বলে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের তেমন সুযোগ পাননি। অপর দিকে তার সেনাপতিদের ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরেও মীর জাফরকে প্রধান সেনাপতির পদে বহাল রেখেছিলেন। এটি ছিল তার দৃঢ়চিত্তের অভাব। ফলে পলাশির প্রান্তরে তাকে পরাজিত হতে হয়েছিল। <u>অর্থনৈতিক কারণ : </u>অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে সিরাজকে প্রায়শই জগৎশেঠের মতো বিত্তবান লোকদের দারস্থ হতে হত। এ কারণে এসব ব্যক্তির ষড়যন্ত্রমূলক কার্যাবলি সম্বন্ধে অবহিত থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে অপারগ ছিলেন। <u>নৌশক্তির অভাব : </u>ইংরেজদের শক্তিশালী নৌবহর নবাবের বিরুদ্ধে তাদের বিশেষ সহায়ক হয়েছিল। অন্যদিকে নবাবের অনুরূপ কোনো নৌবহর ছিল না। ফলে তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হন। <u>ক্লাইভের চাতুর্য ও কূটকৌশল : </u>নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক লর্ড ক্লাইভ ছিলেন রণনীতি ও কূটনীতিতে নবাব অপেক্ষা অনেক বেশি সিদ্ধ হস্ত। তারই চাতুর্য ও কূটকৌশল ইংরেজদের সাফল্যের পথ যেমন সুগম করে, তেমনি নবাবের পরাজয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। পরিশেষে বলা যায় যে, দু একটি কারণে পলাশির প্রান্তরে নবাব সিরাজ পরাজিত হননি বরং এর পিছনে ছিল নানা কারণ। যার ফলে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য ডুবে যায় এবং যা প্রায় ১৯০ বছর ডুবে ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাবর ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে ইব্রাহিম লোদীর সাথে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি মাত্র বারো হাজার সৈন্য নিয়ে ইব্রাহিম লোদীকে মোকাবিলা করেন। ইব্রাহিম লোদীর লক্ষাধিক সৈন্যকে পরাস্ত করে তিনি মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

ক.

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে গঠিত হয়?

খ.

অন্ধকূপ হত্যা কী? ব্যাখ্যা কর ।

গ.

উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন যুদ্ধের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ.

উক্ত যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের কারণগুলো বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

147570 বর্গ কি. মি. আয়তনের ছোট কিন্তু জনবহুল একটি দেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর &ldquo;আদম শুমারি ও গৃহগণনা-2011&rdquo; এর ত...

147570 বর্গ কি.মি. আয়তনের ছোট কিন্তু জনবহুল একটি দেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর "আদম শুমারী ও গৃহগণনা-2011” এর তথ্য মতে মোট জন...

2011 সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত ছিল?

2011 সালে বাংলাদেশে সাধারণ প্রজনন হার (প্রতি হাজারে) কত ছিল?

2011 সালের আদম শুমারী অনুযায়ী বছরের মাঝামাঝি সময় একটি দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় 14,40,43,697 জন এবং ঐ দেশের 2023 সালের...

2011 সালের আদম শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের কোন বিভাগের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার বেশি ?

2011 সালের আদম শুমারি তথ্যানুযায়ী কোন বিভাগের জনসংখ্যার ঘনত্ব কম?

2011 সালের আদম শুমারির তথ্যমতে বাংলাদেশের সাধারণ প্রজনন হার প্রতি হাজারে কত জন?

2011 সালের আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী বাংলারের কোন বিভাগের জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?

2015 সালে একটি শহরের প্রজনন স্তরের মহিলার সংখ্যা 22,560 জন এবং ঐ বছরের জন্মগ্রহণকারী মোট শিশুর সংখ্যা 430 জন হলে, ঐ শহরে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।