Facebook Pixel

বিপ্লবী সূর্যসেন নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। শত্রু বিশাল শক্তি এবং চারপাশের বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি পিছু হটেননি। সরকারের ঘোষিত পুরস্কারের লোভে প্রতিবেশী নেত্রসেন তাঁকে ধরিয়ে দিলেও ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত তাঁর কণ্ঠে ছিল দেশের মুক্তির গান। নিজের জীবনের চেয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতাকেই তিনি বড় করে দেখেছিলেন। ক. "আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।"—উক্তিটি কার? খ. "আমাদের মাঝখানে একটি রাজত্বের দেয়াল।"—মর্মার্থ তুলে ধর। গ. উদ্দীপকের নেত্রসেন "সিরাজউদ্দৌলা" নাটকের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়? কীভাবে? ঘ. "প্রেক্ষাপট ও সময়কাল ভিন্ন হলেও সূর্যসেন এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়ই দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।"—মূল্যায়ন কর।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: নাটক - সিরাজউদ্দৌলা

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. "আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।"—উক্তিটি লর্ড ক্লাইভের। খ. উক্তিটির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে। চারদিকে ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত সিরাজ কিছুদিন পর স্ত্রী লুৎফুন্নিসার কাছে ফিরে আসেন। লুৎফা তাঁকে সব দুশ্চিন্তা ভুলে বিশ্রাম নিতে এবং নিজের কাছে থাকতে অনুরোধ করেন। কিন্তু নবাব হিসেবে সিরাজের পক্ষে রাজ্যের সংকট উপেক্ষা করে স্ত্রীর সান্নিধ্যে সাধারণ গৃহস্থের মতো জীবনযাপন করা সম্ভব ছিল না। তাই তিনি অনুভব করেন, তাঁদের গভীর ভালোবাসার মাঝখানে রাজত্ব একটি অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাটকে সিরাজ বলেন, এ বাধা না থাকলে তাঁরা সাধারণ গৃহস্থের একটি ছোট, সাজানো ও শান্ত সংসার লাভ করতে পারতেন। অতএব, রাজকীয় দায়িত্ব, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র সিরাজকে দাম্পত্য সুখ থেকে বঞ্চিত করেছে—এ বেদনাই উক্তিটির মর্মার্থ। গ. উদ্দীপকের নেত্রসেন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মীরজাফর চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়। উদ্দীপকে নেত্রসেন ব্রিটিশ সরকারের ঘোষিত পুরস্কারের লোভে বিপ্লবী সূর্যসেনের গোপন অবস্থানের সংবাদ দিয়ে তাঁকে ধরিয়ে দেয়। সূর্যসেন দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করলেও ব্যক্তিস্বার্থে অন্ধ নেত্রসেন তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। ঐতিহাসিকভাবেও নেত্রসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ব্রিটিশ পুলিশ সূর্যসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল। অন্যদিকে নাটকের মীরজাফর ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি। মাতৃভূমি ও নবাবের প্রতি আনুগত্য রক্ষার পরিবর্তে তিনি ক্ষমতা ও বাংলার মসনদ লাভের আশায় ইংরেজদের সঙ্গে গোপন ষড়যন্ত্রে যুক্ত হন। পলাশির যুদ্ধে বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে নিষ্ক্রিয় থেকে তিনি নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করেন। নাটকের ঘটনাপ্রবাহেও মীরজাফরকে ক্ষমতালিপ্সু ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অতএব, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও পুরস্কারের লোভে দেশপ্রেমিক নেতাকে বিদেশি শাসকের হাতে তুলে দেওয়ার দিক থেকে নেত্রসেন ও মীরজাফর পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. উদ্দীপকের সূর্যসেন ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী একজন বিপ্লবী। তিনি ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে মাতৃভূমির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। প্রবল প্রতিপক্ষ ও চারপাশের বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা তাঁকে কর্তব্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। নেত্রসেনের বিশ্বাসঘাতকতায় গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী সময়ে মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হয়েও তিনি স্বাধীনতার আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি। সূর্যসেন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযানের নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজও ছিলেন বাংলার স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দেশপ্রেমিক শাসক। ইংরেজদের রাজনৈতিক আগ্রাসন এবং দেশীয় স্বার্থান্ধদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তিনি সচেতন ছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত বিশ্রাম ও দাম্পত্য সুখের আহ্বান উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবিলায় ছুটে গেছেন। যুদ্ধের আগে নিজের জীবনের চেয়ে বিশ্বস্ত সৈনিকদের জীবন ও বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা না হওয়ার আশঙ্কাই তাঁকে বেশি পীড়া দিয়েছে। সূর্যসেন ও সিরাজউদ্দৌলা উভয়েই বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। নেত্রসেন অর্থের লোভে সূর্যসেনকে ব্রিটিশদের হাতে ধরিয়ে দেয়; আর মীরজাফর ক্ষমতা ও মসনদের লোভে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সিরাজের পতন ঘটায়। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের কাপুরুষতা তাঁদের দেশপ্রেম ও সংগ্রামী সংকল্পকে নষ্ট করতে পারেনি। পলাশির বিপর্যয়ের পরও সিরাজ নতুন করে শক্তি সংগ্রহ করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তাঁদের সংগ্রামের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সিরাজউদ্দৌলা অষ্টাদশ শতকে বাংলার স্বাধীন নবাব হিসেবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগ্রাসন প্রতিরোধ করেছেন। অন্যদিকে সূর্যসেন বিংশ শতকে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবী আন্দোলন পরিচালনা করেছেন। একজন রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে এবং অন্যজন বিপ্লবী সংগঠক হিসেবে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন। অতএব, সময়, অবস্থান ও সংগ্রামের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকলেও মাতৃভূমির স্বাধীনতাকে ব্যক্তিগত জীবন ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া, প্রতিকূলতার কাছে আত্মসমর্পণ না করা এবং বিশ্বাসঘাতকতার মুখেও আদর্শে অবিচল থাকার ক্ষেত্রে সূর্যসেন ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা একই দেশপ্রেমিক চেতনার ধারক। তাই মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

বিপ্লবী সূর্যসেন নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। শত্রু বিশাল শক্তি এবং চারপাশের বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি পিছু হটেননি। সরকারের ঘোষিত পুরস্কারের লোভে প্রতিবেশী নেত্রসেন তাঁকে ধরিয়ে দিলেও ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত তাঁর কণ্ঠে ছিল দেশের মুক্তির গান। নিজের জীবনের চেয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতাকেই তিনি বড় করে দেখেছিলেন।

ক.

"আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।"—উক্তিটি কার?

খ.

"আমাদের মাঝখানে একটি রাজত্বের দেয়াল।"—মর্মার্থ তুলে ধর।

গ.

উদ্দীপকের নেত্রসেন "সিরাজউদ্দৌলা" নাটকের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়? কীভাবে?

ঘ.

"প্রেক্ষাপট ও সময়কাল ভিন্ন হলেও সূর্যসেন এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়ই দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।"—মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রথম সংলাপটি কার?

মিরন সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ শুনিয়েছিল- i. দরবারের পদস্থ আমির-উমরাদের মর্যাদাহানি ii. মতিঝিলের জলসা চিরদিনের...

মীর জাফরের প্রকৃত নাম কী?

'খাজাঞ্চি' বলতে কোন ব্যক্তিকে বোঝায়?

"ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।" উমিচাঁদের এই সংলাপের মধ্যদিয়ে আমরা অনুধাবন করতে পারি- i. সিংহে...

পিতৃ-মাতৃহারা, সহায়-সম্বলহীন মাহাবুবের জীবন চলার পথ দিশেহারা। বন্ধু রিপন এ সময় তারই এক আত্মীয়া নিঃসন্তান খালার বাড়িতে মা...

তিস্তাপাড়ে আজকাল নাকি ফসলি জমির অভাব। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জমিতে মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করে নেয় ভূগর্ভস্থ পাথর। এখানে ফ...

সিরাজের কোন অমাত্য নিরীশ্বরবাদী জৈন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?

কখন জনগণের মঙ্গল হওয়ার চেয়ে অমঙ্গলই বেশি হয়- i. শাসকরা যখন শোষক হয় ii. স্বৈরাচার যখন জেঁকে বসে iii. আমলাতন্ত্রের দৌর...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও: ভরসা হলো, আর দমাতে পারবে না। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা না করে উপায় নাই। এই আন্দোলনে দ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।