(ক)
হাইটেক শিল্প বলতে সেই সব শিল্পকে বোঝায় যা উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞান ও পুঁজিভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব এবং মূলত গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তির (IT) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
(খ)
অর্থনীতিতে পণ্য উৎপাদনকারী একটি একক প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম এবং একই ধরনের পণ্য উৎপাদনকারী সকল ফার্মের সমষ্টিকে শিল্প বলা হয়।
ফার্ম হলো উৎপাদনের ক্ষুদ্রতম একক, যার মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা সর্বোচ্চ করা। অন্যদিকে, শিল্প হলো একটি বৃহৎ ধারণা, যা বাজারের মোট জোগান নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, 'স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস' একটি ফার্ম, কিন্তু বাংলাদেশের সকল ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি হলো 'ঔষধ শিল্প'। অর্থাৎ, ফার্ম হলো শিল্পের একটি অংশ মাত্র।
(গ)
উদ্দীপকে বনির উৎপাদন কার্যক্রমটি কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
সাধারণত অল্প মূলধন ও স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পারিবারিক পরিবেশে এবং পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় যে শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে কুটির শিল্প বলে। এই শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কারখানায় নয়, বরং বাসগৃহে স্থাপিত হয় এবং এখানে ভারী যন্ত্রপাতির পরিবর্তে হস্তচালিত যন্ত্রপাতি ও দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। মূলত বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত কারিগরি জ্ঞান ও পারিবারিক শ্রমই এই শিল্পের চালিকাশক্তি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বনি তার বাড়িতেই স্থানীয় বাঁশ ও বেত দিয়ে পণ্য তৈরি করছে এবং এতে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে সাহায্য করছে। যেহেতু এখানে কোনো বাইরের শ্রমিক নেই এবং উৎপাদন কাজটি সম্পূর্ণ পারিবারিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাই বনির এই কার্যক্রমটি কুটির শিল্প।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো কুটির শিল্প। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও জনবহুল দেশের অর্থনীতিতে কুটির শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: কুটির শিল্প শ্রমনিবিড় হওয়ায় অল্প পুঁজিতে অধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। এটি গ্রামীণ বেকারত্ব ও ছদ্মবেশী বেকারত্ব দূর করতে সহায়ক।
২. গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন: গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষ কুটির শিল্পের মাধ্যমে আয় করে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। উদ্দীপকের বনির মতো অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এই শিল্পের মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করছে।
৩. নারীর ক্ষমতায়ন: কুটির শিল্পের কাজ ঘরে বসেই করা যায় বলে গ্রামের নারীরা সাংসারিক কাজের পাশাপাশি এতে অংশগ্রহণ করতে পারে, যা তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে।
৪. স্থানীয় কাঁচামালের সদ্ব্যবহার: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সহজলভ্য বাঁশ, বেত, কাঠ ও চামড়ার মতো কাঁচামাল ব্যবহার করে নান্দনিক পণ্য তৈরি হয়, ফলে অব্যবহৃত সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
৫. ঐতিহ্য রক্ষা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: নকশিকাঁথা, তাঁত ও বাঁশ-বেতের কাজের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলো কুটির শিল্পের মাধ্যমে টিকে থাকে। এসব পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কুটির শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য।