ক.
রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সেসব মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধ, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
খ.
সংবাদপত্র জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনগণ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদ, তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যাদির ওপর মতামত ব্যক্ত করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেশের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের অভিমত জনসম্মুখে তুলে ধরে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। সংবাদপত্রের গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা, সম্পাদকীয় এবং ব্যঙ্গচিত্র জনমত গঠনের ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী বাহন হিসেবে কাজ করে। এজন্য এটিকে সমাজের দর্পণও বলা হয়ে থাকে।
গ.
উদ্দীপকে?' চিহ্নটি দ্বারা যে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে তা হলো জনমত। কেননা উদ্দীপকে জনমতের কিছু মাধ্যম বা বাহন উপস্থাপিত হয়েছে। সাধারণ অর্থে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে জনমত বলা হলেও পৌরনীতিতে এর অর্থ সুসংহত। পৌরনীতি ও সুশাসনে কেবল যুক্তিযুক্ত, প্রভাবশালী, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত। বলা হয়ে থাকে। পরিবার রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের অন্যতম মাধ্যম যা পরিবারস্থ সদস্যদের চিন্তাভাবনা ও ধ্যান-ধারণাকে প্রভাবিত করে। আর এতে করেই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পরিবারের সকলের মাঝে সমজাতীয় মনোভাব ধারণ করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়, যা জনমত গঠনে সহায়ক। আইনসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক, যুক্তি উপস্থাপন, আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করে থাকেন। জনগণ সেসব বক্তব্য-বিবৃতির মূল্যায়ন করে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ মতামত গঠন করে থাকে। আবার রাজনৈতিক দল সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ, প্রচারপত্র, সংবাদপত্র, জনসংযোগ প্রভৃতি কর্মসূচি পালন করে থাকে। ফলে জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক জ্ঞান লাভ ও মতায়ত প্রকাশে অনুপ্রাণিত হয় যা জনমত গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বাণী, সমালোচনা প্রভৃতি জনগণের নিজস্ব মতামত গঠনে সাহায্য করে থাকে। দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের • প্রতিটি উপাদান এককভাবে 'জনমতের বাহন হিসেবে কাজ করে থাকে। আর তাই তাদের সম্পর্কিত মূল ধারণাটি নিঃসন্দেহে জনমত।
ঘ.
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত বিষয়টি অর্থাৎ জনমত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য- উক্তিটি যথার্থ।
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জনমতের ওপর নির্ভরশীল। গণতন্ত্র ও জনমত প্রায় সমার্থক শব্দ। গণতন্ত্র হচ্ছে 'জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন'। জনসম্মতির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকারি দল জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বাধ্য হয়। তাই বলা হয়ে থাকে, গণতন্ত্রে সদাজাগ্রত জনমত সরকারের স্বেচ্ছাচার রোধ করে গণতন্ত্রের স্বরূপ বজায় রাখে। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল জনমতকে ভয় করে চলে। জনমত গণতান্ত্রিক সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। সরকার জনকল্যাণ সাধনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে তা সাধারণত জনমতের দিকে লক্ষ রেখেই করা হয়ে থাকে। জনমত সরকারকে গতিশীল হতে সাহায্য করে থাকে। জনমতের চাপে সরকার রক্ষণশীল মনোভাব পরিত্যাগ করে। সরকার যুগোপযোগী ও প্রগতিশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। জনমত যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অনুকূলে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে সরকার দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতার সাথে যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রণীত ও পরিবর্তিত হয় জনমতের চাপে বা প্রভাবে।
সুতরাং, জনমত হচ্ছে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি বা প্রাণ। আর তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।