ক.
গ্লাসনস্ত অর্থ খোলামেলা নীতি ।
খ.
স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন ইউরোপের প্রধান ঘটনা ছিল ১৯৪৯ সালের বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফরাসি বাহিনী পশ্চিম বার্লিন ও সোভিয়েত সৈন্যবাহিনী পূর্ব বার্লিনে প্রবেশ করেছিল। মিত্রপক্ষের মতানৈক্যের ফলে জার্মানি দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়। একদিকে সোভিয়েত প্রভাবিত পূর্ব জার্মানি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেন প্রভাবিত পশ্চিম জার্মানি। বার্লিন অবরোধকে কেন্দ্র করে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয় যা স্নায়ুযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে ।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধাবস্থার সঙ্গে আমার পাঠ্যবইয়ের রুশ-মার্কিন যুদ্ধাবস্থা তথা স্নায়ুযুদ্ধের মিল রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন আদর্শগত কারণে পরস্পর প্রতিপক্ষে পরিণত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র। অপরদিকে, পুঁজিবাদকে উৎখাত করে রুশ বিপ্লবের মাধ্যমেই সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্থান ঘটেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক যোসেফ স্ট্যালিন কর্তৃক পূর্ব ইউরোপের প্রতি গৃহীত রুশনীতি এবং এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান কর্তৃক 'ট্রুম্যান ডকট্রিন' ঘোষণা করা হলে স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে ইউরোপে সমাজতন্ত্রের বিস্তার রোধে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ মার্শাল তার 'মার্শাল পরিকল্পনা' প্রকাশ করেন। মার্শাল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সর্বাপেক্ষা মারাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বার্লিন অবরোধ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা চিন্তিত হয়ে পড়ে। সোভিয়েত আগ্রাসন থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে রক্ষা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের নিয়ে NATO জোট গঠন করে। এর প্রতিক্রিয়ায় কমিউনিস্ট দেশগুলো সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বে Warsaw নামক সামরিক জোট গঠন করে। এভাবে স্নায়ুযুদ্ধ চরম পর্যায়ে উপনীত হয় এবং বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইতিহাস ক্লাসে বিন্তি এমন এক যুদ্ধাবস্থার কথা জানলো যা প্রত্যক্ষ যুদ্ধ নয় বরং যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থা। এটি ছিল মূলত একটি আদর্শগত বিরোধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী মতাদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাই এই অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। বিন্তির জানা এ যুদ্ধাবস্থা মূলত উপরে বর্ণিত স্নায়ুযুদ্ধকেই ইঙ্গিত করছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বর্ণিত যুদ্ধাবস্থার সাথে স্নায়যুদ্ধের মিল রয়েছে।
ঘ.
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হয়। এছাড়াও স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পিছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে।
উত্তেজনা প্রশমন এবং বোঝাপড়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি পরিবেশ হলো দাঁতাত। দাঁতাত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উভয় দেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আসে এবং অস্ত্র সীমিত করণে মত দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক পরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আঞ্চলিকতাবাদের সূচনা হয়। ফলে দুই পরাশক্তির শিবিরভুক্ত হওয়ার পরিবর্তে আঞ্চলিকতাবাদে উদ্বুদ্ধ করে যা স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে যথেষ্ট সাহায্য করে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্ব দুই মেরুতে বিভক্ত ছিল। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ায় শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান করে। ফলে স্নায়ুযুদ্ধের প্রবণতা একেবারেই হ্রাস পায়। বিশ্বে শান্তির বাতাস প্রবাহিত হতে দেখা যায় ।
১৯৮০ দশকে দুই পরাশক্তি সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও শক্তি প্রয়োগ না করে বরং সংযম দেখাতে শুরু করে। যেমন উদাহরণ হিসেবে SALT-1 এর কথা উল্লেখ করা যায়। ১৯৭৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান আক্রমণ করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সৈন্য পাঠায়নি। তাই সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অবশেষে ১৯৯১- সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান হয়।