Facebook Pixel

বিদেশি শাসনাধীন একটি রাষ্ট্রে দুটি প্রধান সম্প্রদায় বাস করে। দুই সম্প্রদায়ই দেশটি স্বাধীন করতে তীব্র আন্দোলনে লিপ্ত। প্রায়শই সম্প্রদায় দুটি বিরোধে মেতে থাকে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও ঔপনিবেশিক সরকার ব্যর্থ হয়। দেশটি বিভক্ত করাই সমাধান ভেবে সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করে। আইনটিতে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বিদেশি শাসনের অবসান ঘটানো হয়। ক. ক্লিপ্স মিশন কত সালে ভারতবর্ষে আগমন করে? খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রের পার্লামেন্টে পাসকৃত আইনের সাথে ভারতবর্ষের কোন আইনের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত আইনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ক্লিপ্স মিশন ১৯৪৬ সালে ভারতবর্ষে আগমন করে। খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশের স্বাধীনতাকেই বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের যে ব্যবস্থা রাখা হয় এর ফলশ্রুতি হিসেবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়। ১৯৩৫ সালের আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। প্রাদেশিক স্বায়ত্ব শাসনের মূলকথা হলো প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার প্রাদেশিক আইনসভার কাছে জবাবদিহিতা থাকবে এবং আইনসভা সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হবে। গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত রাষ্ট্রের পার্লামেন্টে পাশকৃত আইনের সাথে ভারতবর্ষের ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মিল রয়েছে। ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ এক বিস্তৃত ইতিহাস।ইতিহাসের এই অধ্যায়ে অগ্রগতির ধাপে ধাপে রচিত হয়েছে নানা গুরুত্বপূর্ণ আইন। তন্মধ্যে ভারতীয় কাউন্সিল আইন (১৮৬১ ও ১৮৯২) বঙ্গভঙ্গ আইন (১৯০৫) ও বঙ্গভঙ্গ রদ (১৯১১)-মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন (১৯০৯)-ভারত শাসন আইন ১৯১৯ ও ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ গুরুত্বপূর্ণ। এসব আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষে শাসন প্রতিষ্ঠা অব্যাহত, রাখার চেষ্টা করেছেন। এতদসত্ত্বেও ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন না থাকায় জনগণ পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। কেননা, উপমহাদেশীয় রাজনীতিবিদ ও জনগণের দুর্বার প্রত্যাশা ছিল স্বাধীনতা অর্জন ও স্বশাসন কায়েম। আর এই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ঘটেছিল ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। অবশেষে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ভারত স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭প্রণয়ন করে। উদ্দীপকে উল্লিখিত বিদেশি শাসনাধীন একটি রাষ্ট্রে দুটি প্রধান সম্প্রদায় বাস করে। দুই সম্প্রদায়ই দেশটি স্বাধীন করতে তীব্র আন্দোলন লিপ্ত। তাই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়ে শাসকগোষ্ঠী অবশেষে একটি আইন প্রণয়ন করে রাষ্ট্রটিকে দুটি ভাগে ভাগ করে। ফলে দুটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। উক্ত ঘটনা নিঃসন্দেহেই তা ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। তাই পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনটি হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। ঘ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের যে ঘটনা বা আইনের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। নিচে ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করা হলো- ১. এ আইন ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ভারতের ওপর থেকে ১৯০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটায়। ২. এ আইন ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে ভারতীয় ইউনিয়ন ও পাকিস্তান নামে দুটি ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠা করে। এর দ্বারা ডোমিনিয়ন দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ৩. সিন্ধু প্রদেশ, সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তান, পাঞ্জাব ও পূর্ব বাংলা নিয়ে গঠিত হবে পাকিস্তান। ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশ নিয়ে ভারত রাষ্ট্র গঠিত হবে। ৪. প্রত্যেক রাষ্ট্রের জন্য একজন গভর্নর জেনারেল থাকবেন। তিনি হবেন হেড অব দি স্টেট। ৫. ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনে ভারত সচিবের পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ৬. এ আইনে বলা হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভার পরামর্শে গভর্নর নিয়োগ করবেন। ৭. এ আইনে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন, বিচারবুদ্ধিজনিত ক্ষমতা ও বিশেষ দায়িত্ব বিলোপ করা হয়। ৮. ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এ আইনের বিভিন্ন ধারা কার্যকর করার কথা বলা হয়। ৯. এ আইনে ব্রিটিশ রাজা 'ভারত সম্রাট' উপাধি পরিত্যাগ করবেন। ১০. পূর্বে ভারতবর্ষের যেকোনো সংবিধান সংস্কার এবং নতুন আইন প্রণীত হতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। কিন্তু এ আইনে বলা হয় যে, ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্টের পর থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রণীত আইন ভারত ও পাকিস্তানের ওপর প্রযোজ্য হবে না।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিদেশি শাসনাধীন একটি রাষ্ট্রে দুটি প্রধান সম্প্রদায় বাস করে। দুই সম্প্রদায়ই দেশটি স্বাধীন করতে তীব্র আন্দোলনে লিপ্ত। প্রায়শই সম্প্রদায় দুটি বিরোধে মেতে থাকে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও ঔপনিবেশিক সরকার ব্যর্থ হয়। দেশটি বিভক্ত করাই সমাধান ভেবে সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করে। আইনটিতে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বিদেশি শাসনের অবসান ঘটানো হয়।

ক.

ক্লিপ্স মিশন কত সালে ভারতবর্ষে আগমন করে?

খ.

প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রের পার্লামেন্টে পাসকৃত আইনের সাথে ভারতবর্ষের কোন আইনের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত আইনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।