ক.
যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের অপরিহার্য গুণের অংশবিশেষ বা পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ করে এবং কোনো নতুন তথ্য প্রদান করে না, তাকে বিশ্লেষক যুক্তিবাক্য বলে।
খ.
একাধিক বক্তব্য সম্বলিত বাক্যকে 'যৌগিক যুক্তিবাক্য' বলা হয়।
যে যুক্তিবাক্যে একাধিক উদ্দেশ্য বা একাধিক বিধেয় থাকে অথবা একাধিক সরল যুক্তিবাক্যের সমন্বয় ঘটে, তাকে যৌগিক যুক্তিবাক্য বলে। যেমন-'রহিম ও করিম হয় মেধাবী'। এখানে দুটি আলাদা বক্তব্যকে একটি বাক্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এই ধরনের বাক্যে একাধিক বক্তব্য বা তথ্য একত্রে অবস্থান করে।
গ.
উদ্দীপকের প্রথম দুটি লাইনে যথাক্রমে সদর্থক যুক্তিবাক্য ও নঞর্থক যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে।
গুণের দিক থেকে যুক্তিবাক্য দুই প্রকার; যথা- সদর্থক ও নঞর্থক। উদ্দীপকের প্রথম লাইন 'বাদল হয় ললিতার পরিচালক' একটি সদর্থক যুক্তিবাক্য এবং দ্বিতীয় লাইন 'তিনি নন গর্বিত' একটি নঞর্থক যুক্তিবাক্য। পদের ব্যাপ্যতা বলতে কোনো পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ গ্রহণ করাকে বোঝায়। যদি কোনো পদ তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে প্রকাশ করে তবে তাকে ব্যাপ্য পদ বলে, আর যদি আংশিক ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে অব্যাপ্য পদ বলে। উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটি একটি সদর্থক যুক্তিবাক্য (বাক্য হিসেবে গণ্য)। ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী, সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদ অব্যাপ্য। এখানে 'বাদল' পদটি ব্যাপ্য এবং 'ললিতার পরিচালক' পদটি অব্যাপ্য। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বাক্যটি একটি নঞর্থক যুক্তিবাক্য ব্যাপ্য হিসেবে গণ্য। ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী, নঞর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য। এখানে 'তিনি' এবং 'গর্বিত' উভয় পদই তাদের পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ করায় ব্যাপ্য হয়েছে। সুতরাং, সদর্থক ও নঞর্থক যুক্তিবাক্যের ক্ষেত্রে পদের ব্যাপ্যতা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
ঘ.
উদ্দীপকে মেন্টর ও ললিতার উক্তিগুলো যথাক্রমে প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য ও বৈকল্পিক যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে। এদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান।
উদ্দীপকে বাদল বা মেন্টরের উক্তি- "তুমি যদি সম্মান চাও তাহলে গুরুজনদের পরামর্শ মেনে চলো” হলো একটি প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য। কারণ যে সাপেক্ষ যুক্তিবাক্যে 'যদি-তবে' শর্ত উল্লেখ থাকে তাকে প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য বলে। অন্যদিকে, ললিতার উক্তি- "হয় আমাকে পড়তে হবে না হয় কাজ করতে হবে" হলো একটি বৈকল্পিক যুক্তিবাক্য। কারণ যে সাপেক্ষ যুক্তিবাক্যে 'হয়-না হয়' দিয়ে দুটি বিকল্পের উল্লেখ থাকে তাকে বৈকল্পিক যুক্তিবাক্য বলে।
প্রাকল্পিক ও বৈকল্পিক উভয়ই সাপেক্ষ যুক্তিবাক্যের অন্তর্ভুক্ত। প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্যের দুটি অংশ থাকে- পূর্বগ ও অনুগ। এখানে শর্তটি আগে থাকে এবং ফলাফল পরে আসে। অন্যদিকে, বৈকল্পিক যুক্তিবাক্যের দুটি অংশকে বিকল্প বলা হয়। ললিতার উক্তিতে পড়া এবং কাজ করা- এই দুটি বিকল্পের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই দুই ধরনের যুক্তিবাক্যের মধ্যে প্রধান সম্পর্ক হলো এরা উভয়ই শর্তাধীন বা সাপেক্ষ। প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্যে শর্তটি সরাসরি একটির ওপর অন্যটির নির্ভরশীলতা - প্রকাশ করে। কিন্তু বৈকল্পিক যুক্তিবাক্যে একাধিক বিকল্পের মধ্যে একটির সত্যতা বা গ্রহণীয়তা প্রকাশ পায়। প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্যকে বৈকল্পিক যুক্তিবাক্যে এবং বৈকল্পিক যুক্তিবাক্যকে প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্যে রূপান্তর করা সম্ভব, যা এদের মধ্যকার গভীর যৌক্তিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকল্পিক ও বৈকল্পিক যুক্তিবাক্য গঠনগতভাবে ভিন্ন হলেও উভয়ই মানুষের চিন্তন প্রক্রিয়ায় শর্ত ও বিকল্প বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকের উক্তি দুটির মাধ্যমে জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শর্ত ও বিকল্পের এই যৌক্তিক প্রয়োগটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।