(ক)
রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধ্যাদেশ বা সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় গঠিত হয়।
(খ)
দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এমন ব্যবসায়গুলো হলো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। এই ধরনের ব্যবসায়সমূহ রাষ্ট্রের অধীনে থাকা উচিত কারণ বেসরকারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। রাষ্ট্রীয় মালিকানায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো থাকলে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ও সেবা সরবরাহ নিশ্চিত হয় এবং জনগণের নাগরিক সেবা সহজলভ্য হয়। এছাড়া দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের অধীনে রাখা অপরিহার্য।
(গ)
উদ্দীপকে সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি হলো বিটিসিএল (Bangladesh Telecommunications Company Ltd.)।
সারা দেশে মৌলিক টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে BTCL কাজ করে। এই প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারনেট সংযোগ, টেলিফোন সংযোগ স্থাপন, পুনঃসংযোগ এবং প্রি-পেইড কল সার্ভিসসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সেবা প্রদান করে থাকে। উদ্দীপকে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া দ্বীপে সরকারি একটি সংস্থা হোটেল ও মোটেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইন্টারনেট সুবিধা, রিজার্ভেশন ও অন্যান্য তথ্য প্রচারের জন্য তারা আরেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা গ্রহণ করেছে। যেহেতু তথ্য প্রচার এবং ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা BTCL-এর প্রধান কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত, তাই বলা যায় যে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানটি হলো BTCL।
(ঘ)
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপকের মূল প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (BPC) কর্মকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যথার্থ বলে আমি মনে করি। পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে BPC কাজ করে, যা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের আলোকে BPC-এর কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: সংস্থাটি সোনাদিয়া দ্বীপে হোটেল ও মোটেল স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজে নিয়োগ দিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
২. পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি টেকসই পর্যটনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।
৩. পর্যটন শিল্পের প্রসার: অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় ভ্রমণকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পর্যটন কেন্দ্রের পরিচিতি বাড়ছে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: সরকারি উদ্যোগে হোটেল ও মোটেল স্থাপনের ফলে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থার উন্নতি ঘটছে।
পরিশেষে বলা যায়, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটন খাতের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে BPC দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখছে।