Facebook Pixel

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে 'ছয়দফা' কর্মসূচি একটি অনন্য দলিল। বঙ্গবন্ধু ছয় দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। ছয় দফা কেন্দ্রিক আন্দোলনের পথ বেয়েই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণরায় আসে। যা জন্ম দেয় স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। তাই ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তিরসনদ বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলা হয়। ক. কখন, কোথায় আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়? খ. কখন, কোথায় এবং কীভাবে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্বাচনের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের যোগসূত্র ব্যাখ্যা করো। ঘ. “ছয় দফা বাঙালির মুক্তির সনদ বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা ” উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়। খ. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয় সেটিই মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের (পরে জেলা) বৈদ্যনাথতলা গ্রামে আওয়ামী লীগের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ জারি করেন। এ ঘোষণা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। বাংলাদেশের এ প্রথম অস্থায়ী সরকার 'মুজিবনগর সরকার' বা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার নামেও অভিহিত হয়। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র বিদ্যমান। উদ্দীপকে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ ও স্বাধিকারের দাবির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর সুদীর্ঘ ২৩ বছরের অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে বাঙালির মুক্তিলাভের আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয় অর্জন করলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেও তা আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতালের ডাক দেন। ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ভাষণে তিনি কৌশলে স্বাধীনতার ডাকও দেন। ১৯৭১ সালের ২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন চলে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ অবস্থায় ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন। এ ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। কাজেই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের যোগসূত্র রয়েছে। ঘ. ছয় দফা বাঙালির মুক্তির সনদ বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা'— উক্তিটি যথার্থ। পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের শোষণ, নির্যাতন ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছয় দফা ছিল একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। শোষিত বাঙালিদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ই ছিল এ কর্মসূচির লক্ষ্য। পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছয় দফা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এ স্বাধিকার আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় এবং ছিনিয়ে নিয়ে আসে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ জন্যই ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক উত্থাপিত ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা প্রথম লিখিতভাবে স্বায়ত্তশাসনের দাবি পেশ করে। পাকিস্তান সরকার এ দাবিকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তবে এ অঞ্চলের জনগণ ক্রমেই ছয় দফার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে থাকে। এর ফলে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত যা ছিল স্বায়ত্তশাসনের দাবি, ১৯৭১ সালে এসে তা স্বাধীনতার দাবিতে পরিণত হয়। ছয় দফা দাবিতে উজ্জীবিত হয়েই বাঙালি শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায়ই আমরা চূড়ান্ত মুক্তি বা স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছিলাম। পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফাকেন্দ্রিক আন্দোলনের পথ ধরেই জন্ম নিয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। নাগরিক হিসেবে মানসম্পন্ন জীবনযাপনের জন্য যেসব সুযোগ দরকার তা-ই ছিল ছয় দফার বিষয়বস্তু। এ কারণেই এ আন্দোলন বা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে 'ছয়দফা' কর্মসূচি একটি অনন্য দলিল। বঙ্গবন্ধু ছয় দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। ছয় দফা কেন্দ্রিক আন্দোলনের পথ বেয়েই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণরায় আসে। যা জন্ম দেয় স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। তাই ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তিরসনদ বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।

ক.

কখন, কোথায় আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়?

খ.

কখন, কোথায় এবং কীভাবে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়?

গ.

উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্বাচনের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের যোগসূত্র ব্যাখ্যা করো। 

ঘ.

“ছয় দফা বাঙালির মুক্তির সনদ বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা” উক্তিটি মূল্যায়ন করো। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নির্যাতনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে নির্বাচনে পরাজিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল জোটভুক্ত ...

'A' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে রাষ্ট্রের একাংশের একটি রাজনৈতিক দ...

P নামক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের একটি নির্বাচনে শাসক দলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ কর...

"Six Point demand was the Demand for the Survival of the Bangalis." -উক্তিটি কার?

'The Politics of Development the case study of Pakistan' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

'X' উপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে...

'X' নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা লাভের প্রায় দুই যুগ পর একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর শা...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতি সাধন হবে। কিন্তু তারা শাসকশ্...

'Z' নামক রাষ্ট্রটি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে স্বাধীনতা লাভ করে। ওই রাষ্ট্রে বহু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। স্বাধীনত...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।