Facebook Pixel

বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি পায়। মুসলমান নেতারা উপলব্ধি করেন যে তাদের শিক্ষা, চাকরি ও প্রশাসনিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। নবাব সলিমুল্লাহর চেষ্টায় ঢাকায় এক গুরুত্বপূর্ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে একটি নতুন কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই সংগঠন ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলমানদের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে। ক. ক্রিপস মিশনের সদস্য সংখ্যা কত? খ. বঙ্গভঙ্গ রদ বলতে কী বোঝায়? গ. বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী পরিস্থতিতে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংঠনটির কাঠামো বা নেতৃত্ব গঠনে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় বিশ্লেষণ করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর মুসলমান সমাজের শিক্ষা, রাজনৈতিক অধিকার ও ৪ প্রশাসনিক অংশগ্রহণে কী ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করে- মূল্যায়ন করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ক্রিপস মিশনের সদস্য সংখ্যা ছিল তিন জন। খ. বঙ্গভঙ্গ রদ বলতে ১৯০৫ সালে কার্যকর হওয়া বঙ্গভঙ্গকে ১৯১১ সালে বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় দুই বাংলাকে একত্রিত করাকে বোঝায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও স্বদেশী আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। ব্রিটিশ সরকার এই প্রবল গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লির দরবারে সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন। এর ফলে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ পুনরায় একীভূত হয়ে যায় এবং ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত রাজনৈতিক সংগঠনটি হলো ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ', যার কাঠামো ও নেতৃত্বে মুসলিম স্বার্থ সংরক্ষণের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশনাল কনফারেন্সের অধিবেশনে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রতি মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা। উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, বঙ্গভঙ্গের পর মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা একটি আলাদা প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এই প্রেক্ষাপটে নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে যে সংগঠনটি গঠিত হয়, তার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন মুসলিম অভিজাত ও শিক্ষিত সমাজ। এর কাঠামোতে দেখা যায়, এটি ছিল মুসলমানদের প্রথম কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সংগঠন যা ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে মুসলমানদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দান করে। উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, এই সংগঠনের নেতৃত্ব ছিল সুসংগঠিত এবং তারা মুসলমানদের শিক্ষা ও চাকরির অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিল। মুসলিম লীগের এই নেতৃত্বই পরবর্তীতে ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি আদায়ে সক্ষম হয়, যা উদ্দীপকের রাজনৈতিক আত্মসচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠন অর্থাৎ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পর মুসলমান সমাজের শিক্ষা, রাজনৈতিক অধিকার ও প্রশাসনিক অংশগ্রহণে অত্যন্ত কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করে- উক্তিটি যথার্থ। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ভারতীয় মুসলমানরা শিক্ষা ও রাজনীতিতে হিন্দুদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। কংগ্রেস মূলত হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষা করছে-এমন ধারণা থেকে মুসলমানরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য একটি শক্তিশালী সংগঠনের অভাব বোধ করছিল। এই প্রেক্ষাপটে মুসলিম লীগ গঠিত হয়ে মুসলমানদের দাবি-দাওয়া ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তুলে ধরার পথ প্রশস্ত করে। উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ফলে মুসলমানদের মধ্যে যে রাজনৈতিক জাগরণ ঘটে, তা তাদের প্রশাসনিক অংশগ্রহণের পথ সুগম করে। ১৯০৬ সালে সিমলা ডেপুটেশনের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে মুসলিম লীগের ক্রমাগত চাপের মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনব্যবস্থা মেনে নেয়। এটি ছিল মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকারের এক বিশাল বিজয়। এছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে অনগ্রসরতা দূর করতে এই সংগঠনটি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বৃত্তির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা উদ্দীপকে বর্ণিত মুসলমানদের শিক্ষা ও চাকরির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায়, মুসলিম লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল ছিল না, বরং এটি ছিল মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার হাতিয়ার। এই সংগঠনের মাধ্যমেই মুসলমানরা তাদের স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে সক্ষম হয়। ১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেসের কাছ থেকে মুসলমানদের দাবি আদায় এবং পরবর্তীতে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন- সবই ছিল এই সংগঠনের সফলতার ধারাবাহিকতা। সুতরাং, মুসলমানদের শিক্ষা, রাজনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়নে মুসলিম লীগের ভূমিকা ছিল অপরিসীম এবং এটিই পরবর্তীতে ভারত বিভাজন ও পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি পায়। মুসলমান নেতারা উপলব্ধি করেন যে তাদের শিক্ষা, চাকরি ও প্রশাসনিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি আলাদা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। নবাব সলিমুল্লাহর চেষ্টায় ঢাকায় এক গুরুত্বপূর্ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার উদ্দেশ্যে একটি নতুন কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই সংগঠন ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলমানদের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে।

ক.

ক্রিপস মিশনের সদস্য সংখ্যা কত?

খ.

বঙ্গভঙ্গ রদ বলতে কী বোঝায়?

গ.

বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী পরিস্থতিতে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংঠনটির কাঠামো বা নেতৃত্ব গঠনে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় বিশ্লেষণ করো।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর মুসলমান সমাজের শিক্ষা, রাজনৈতিক অধিকার ও ৪ প্রশাসনিক অংশগ্রহণে কী ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করে- মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।