Facebook Pixel

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দ পাঠ' উপন্যাস পাঠ করার সময় আরিফ বাংলায় সংঘটিত একটি ভয়বাহ দুর্ভিক্ষের করুণ চিত্র সম্পর্কে জানতে পারে। মূলত ক্ষমতাহীন নবাবের শাসনব্যবস্থা, নবাবের ওপর বিদেশি শক্তির প্রভাব এবং তাদের সীমাহীন লুটপাটের ফলেই এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়েছিল। এতে প্রায় এক কোটি মানুষ খাদ্যাভাবে মারা যায়, যা তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ক. আলীবর্দী খান কে ছিলেন? খ. বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব লেখ। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্ভিক্ষটি কোন সালে সংঘটিত হয়েছিল? এর প্রধান কারণগুলো উল্লেখ কর। ঘ. উক্ত দুর্ভিক্ষ বাংলার সমাজ ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমনঃ ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আলীবর্দী খান বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব ছিলেন এবং সম্পর্কে নবাব সিরাজউদ্দৌলার নানা ছিলেন। খ. ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বক্সারের প্রান্তরে বাংলা স্বাধীনচেতা নবাব মীর কাসিম ও ইংরেজ বাহিনীর মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় ইতিহাসে সেটিই বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত। উপমহাদেশে ব্রিটিশ শক্তির উত্থানে এবং তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধিতে বক্সারের যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এ যুদ্ধের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে। ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্ভিক্ষটি হচ্ছে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, যা ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ সালে সংঘটিত হয়েছিল। দ্বৈতশাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে একদিকে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে, অন্যদিকে অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। তদুপরি পর পর দুই বছর অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় এক প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ ও মহামারি দেখা দেয়। টাকায় এক মণ হতে চালের মূল্য বাড়তে বাড়তে টাকায় তিন সেরে এসে দাঁড়ায়। কোম্পানির কর্মচারীরা খোলাবাজারের খাদ্যশস্য বেশি লাভের আশায় মজুদ করা শুরু করে। ফলে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের অভাবে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। খাদ্যের আশায় দলে দলে লোক কলকাতা, ঢাকা ও মুর্শিদাবাদের দিকে ছুটে আসে। এসময়েও খাজনা মওকুফ করা হয়নি। ১৭৬৫-৭০ খ্রিষ্টাব্দে বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও আদায় প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে গ্রামবাংলা জনশূন্য হয়ে যায়। এ দুর্ভিক্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো ছিল নদীয়া, রাজশাহী, বীরভূম, বর্ধমান, যশোর, মালদহ, পূর্ণিয়া ও চব্বিশ পরগনা। বিশেষ ফসলহানি না হওয়ায় বরিশাল, ঢাকা, ফরিদপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে দুর্ভিক্ষের প্রকোপ তেমন একটা ছিল না। পরিশেষে বলা যায়, ১১৭০ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ ছিল শুধু প্রাকৃতিক অনাবৃষ্টির ফল নয়; ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিষ্ঠুর রাজস্ব নীতি, শস্য মজুত ও প্রশাসনিক উদাসীনতাই এ দুর্ভিক্ষকে ভয়াবহ রূপ দেয়। মানুষের দুঃখষ্ট লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এটি বাংলার ইতিহাসে এক মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ঘ. ১৭৭০ সালে বাংলায় সংঘটিত ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ তথা ছিয়ান্তরের মন্বন্তরের ফলে বাংলার সমাজ, অর্থনীতি এবং জনসংখ্যার ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। এই দুর্ভিক্ষের ফলাফল ছিল ব্যাপক ও বিস্তৃত। ১৭৭০ সালে সংঘটিত মহা দুর্ভিক্ষের ফলে প্রায় ১ কোটি মানুষ অনাহারে মারা যায়। যা বাংলার মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। গ্রামগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ে। বহু কৃষক শ্রমিক মারা যায় ফলে কৃষিকাজ ও উৎপাদন ধ্বংসের মুখে পড়ে যায়। খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়, জমির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং কৃষকদের মধ্যে চাষাবাদের অনীহা সৃষ্টি হয়। অনেক কৃষক ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে জমি ছেড়ে পালিয়ে যায়। দেওয়ানি শাসনের অবসান ঘটে এই দুর্ভিক্ষের ফলে। কেননা দুর্ভিক্ষে কোম্পানির রাজস্ব আয় কমে যায়। বাণিজ্য মন্দা দেখা দেয়। তাই ইংল্যান্ডের পরিচালক সভা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার জন্য ও বাংলার কৃষিশিল্পকে রক্ষার জন্য দ্বৈত শাসনব্যবস্থার লোপ করার সিদ্ধান্ত নেন। ওয়ারেন হেস্টিংকে নির্দেশ দেওয়া হয় কোম্পানি যেন এখন থেকে বাংলার রাজস্ব ও শাসনের প্রত্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণ করে। জনগণের ওপর নেমে আসা দুর্ভিক্ষের জন্য ইংরেজরা এ সময় কিছু প্রশাসনিক সংস্কার করে। যাতে করে এই দুর্ভিক্ষ থেকে দীর্ঘ মেয়াদে উত্তরণ হতে পারে। দুর্ভিক্ষের ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্যের অভাবে মানুষ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এর দিকে ঝুঁকে পড়ে। ধনী ব্যবসায়ীরা দুর্ভিক্ষের সুযোগে খাদ্য মজুদ শুরু করে, যার ফলে ব্যাপক খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণমূলক নীতি ও প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ফলে বাংলার অর্থনীতি, সমাজ ও জনসংখ্যার ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দ পাঠ' উপন্যাস পাঠ করার সময় আরিফ বাংলায় সংঘটিত একটি ভয়বাহ দুর্ভিক্ষের করুণ চিত্র সম্পর্কে জানতে পারে। মূলত ক্ষমতাহীন নবাবের শাসনব্যবস্থা, নবাবের ওপর বিদেশি শক্তির প্রভাব এবং তাদের সীমাহীন লুটপাটের ফলেই এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়েছিল। এতে প্রায় এক কোটি মানুষ খাদ্যাভাবে মারা যায়, যা তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

ক.

আলীবর্দী খান কে ছিলেন?

খ.

বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব লেখ।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্ভিক্ষটি কোন সালে সংঘটিত হয়েছিল? এর প্রধান কারণগুলো উল্লেখ কর।

ঘ.

উক্ত দুর্ভিক্ষ বাংলার সমাজ ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ তোবা ’ রোমান সভ্যতার ইতিহাস পড়ার সময় লক্ষ করল , রোমান সম্রাট নিরো তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যে শক্তিশালী সেনাবা...

ইউরোপীয় জাতিসমূহের মধ্যে দুঃসাহসী ও নৌবিদ্যায় পারদর্শী ছিল-

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মীর কাসিম ছিলেন

দিনেমাররা কোন দেশের অধিবাসী?

পর্তুগিজরা বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত?

পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর ইউরোপীয় সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?

পলাশীর যুদ্ধ কত তারিখে সংঘটিত হয়?

সিরাজউদ্দৌলার প্রকৃত নাম কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।