Facebook Pixel

বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতে, 'আজ অবধি মানব সমাজের ইতিহাস শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস'। তার মতে উৎপাদন কৌশল তথা অর্থনৈতিক উৎপাদন সমাজের মৌল কাঠামো। এটি মানব সমাজের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। ক. সমাজ কাঠামো কী? খ. যান্ত্রিক সংহতি ও জৈবিক সংহতি কী? গ. উদ্দীপকে শ্রেণি সম্পর্কিত তত্ত্বটি আলোচনা কর। ঘ. উদ্দীপকের সমাজের মৌল কাঠামোটি পর্যালোচনা কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ সামাজিক স্তরবিন্যাস ও অসমতা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সমাজকাঠামো বলতে সমাজস্থ লোকের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দ্বারা সৃষ্ট সুসংবদ্ধ জটিল ও নিবিড় সম্পর্ককে বোঝায়। খ. যান্ত্রিক সংহতি ও জৈবিক সংহতি হলো সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের সামাজিক সংহতিকে পৃথক করা দুটি সমাজব্যবস্থা। যান্ত্রিক সংহতি হলো সাদৃশ্যের সংহতি। এ সংহতি হলো সাদৃশ্যের সংহতি। এ সংহতির নিয়ামক উপাদান হলো গোষ্ঠীর ঐকমত্য। এ সমাজে রক্তের বন্ধন, পরস্পর নির্ভরতা, সহানুভূতি প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, জৈবিক সংহতি হলো বৈসাদৃশ্যের সংহতি। এ সংহতির মূল সমাজে ব্যক্তির বৈসাদৃশ্যের মধ্যে নিহিত। এটি সমাজে স্বাধীনতার জন্ম দেয়। গ. উদ্দীপকে শ্রেণি সম্পর্কিত তত্ত্বটি কার্ল মার্কসের দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্ব নামে পরিচিত। দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্ব সমাজের স্তরবিন্যাস বিশ্লেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এ তত্ত্ব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমাজের অর্থনৈতিক সম্পর্কের সাথে যুক্ত। মার্কস তার তত্ত্বে বলেন, ইতিহাসে সামাজিক সংগঠন এবং সামাজিক পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত আচরণের মূল চাবিকাঠি হলো শ্রেণি। সমাজে এ শ্রেণি সৃষ্টি হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে। তিনি বলেন, সমাজ দুটি বিপরীত শ্রেণিতে বিভক্ত। একটি শ্রেণি গঠিত হয় তাদের দ্বারা যারা উৎপাদনের সাথে জড়িত নয় অর্থাৎ শোষক শ্রেণি। আবার অপরটি হলো উৎপাদন সম্পর্কের সাথে যারা জড়িত অর্থাৎ শোষিত শ্রেণি। এ সমাজের মূলকথা হলো অর্থনৈতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে সমাজে শ্রেণি সৃষ্টি হয়। উদ্দীপক্ষে লক্ষণীয়, মার্কস বলেন, আজ অবধি মানব সমাজের ইতিহাস শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। যা উপরে আলোচিত শ্রেণি সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কার্ল মার্কসের শ্রেণি সম্পর্কিত দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্বটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ। ঘ. উদ্দীপকের সমাজে বর্ণিত কার্ল মার্কসের মৌল কাঠামোটি সমাজকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি তত্ত্ব। কার্ল মার্কস তার বিখ্যাত 'The Communist Meinfesto' গ্রন্থে সমাজকাঠামোকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা: ১. মৌল কাঠামো ও ২, উপরি কাঠামো। এর মধ্যে মৌল কাঠামো হলো সমাজের উৎপাদন কৌশল তথা অর্থনৈতিক উৎপাদন। এটি মানবসমাজের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। এসব মৌল কাঠামো বলতে মার্কস সমাজের বস্তুগত এবং অর্থনৈতিক ভিত্তির কথা বুঝিয়েছেন। এর দ্বারা উৎপাদিত শক্তি এবং সামাজিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়। মার্কস আরো বলেন, অর্থনীতি হলো সমাজের মৌল কাঠামো। এ অর্থনীতিকে কেন্দ্র করেই সমাজে দুটি শ্রেণির সৃষ্টি হয়। এক শ্রেণি যারা উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে অর্থাৎ বুর্জোয়া শ্রেণি। অন্যদিকে, যারা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না অর্থাৎ সর্বহারা শ্রেণি। এভাবে সমাজে এক শ্রেণি দ্বারা অন্য শ্রেণি শোষিত হলেই শ্রেণিদ্বন্দ্ব অনিবার্যভাবে দেখা দেয়। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কার্ল মার্কসের মৌল কাঠামো সমাজকাঠামোর অন্যতম একটি প্রত্যয়। যেখানে শ্রেণি সম্পর্কের মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক উৎপাদন এবং শ্রেণি সমাজের মূলে রয়েছে শোষণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতে, 'আজ অবধি মানব সমাজের ইতিহাস শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস'। তার মতে উৎপাদন কৌশল তথা অর্থনৈতিক উৎপাদন সমাজের মৌল কাঠামো। এটি মানব সমাজের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে।

ক.

সমাজ কাঠামো কী?

খ.

যান্ত্রিক সংহতি ও জৈবিক সংহতি কী?

গ.

উদ্দীপকে শ্রেণি সম্পর্কিত তত্ত্বটি আলোচনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের সমাজের মৌল কাঠামোটি পর্যালোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।