ক.
সহানুমানের যে আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদটি থাকে তাকে প্রধান আশ্রয়বাক্য বলে।
খ.
সহানুমানের প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে বলে মধ্যপদকে বিবাহের ঘটকের সাথে তুলনা করা যায়।
সহানুমানের আশ্রয়বাক্য দুটিতে প্রধান পদ ও অপ্রধান পদ প্রথমে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় যাকে। পরবর্তী সময়ে মধ্যপদের মধ্যস্থতায় এদের মধ্যে একটি সম্বন্ধ স্থাপিত হয়। কেননা, মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের সাথে সম্পর্কিত হয় এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদের সাথে সম্পর্কিত হয়। এর ফলে প্রধান ও অপ্রধান পদের একটি যোগসূত্র তৈরি হয়। এক্ষেত্রে মধ্যপদ আশ্রয়বাক্যদ্বয়ে অবস্থান করেই সম্বন্ধ স্থাপনের কাজ করে। তাই সহানুমানের প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য মধ্যপদের ভূমিকাকে বিবাহের ঘটকের সাথে তুলনা করা যায়।
গ.
বাইডেন সাহেবের অনুমানটিতে চতুষ্পদী অনুপপত্তি ঘটেছে।
সহানুমানের ক্ষেত্রে দুটি আশ্রয়বাক্যে প্রধান ও অপ্রধান পদের সাথে মধ্যপদের আবশ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে আবশ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কোনো সহানুমানে তিনটি পদের অধিক পদ ব্যবহার করলে সে সম্পর্ক স্থাপিত হয় না। আর তিনের অধিক পদ ব্যবহার করলে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে চতুষ্পদী অনুপপত্তি বলে। এক্ষেত্রে তিনটি পদের স্থানে চারটি পদ দেখা যায়। যেমন- 'মানুষ মুরগি খায়, মুরগি কেঁচো খায়, অতএব, মানুষ কেঁচো খায়। এ দৃষ্টান্তটিতে পদের সংখ্যা চারটি। যথা- ১. মানুষ, ২. যারা মুরগি খায়, ৩. মুরগি, ৪. যারা কেঁচো খায়। তাই এখানে চতুষ্পদী অনুপপত্তি ঘটেছে।
উদ্দীপকের বাইডেন সাহেব ভাবছেন, রাশিয়ার সাথে চীনের গভীর সম্পর্ক। আবার, চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব রয়েছে। সুতরাং রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব থাকবে। এই দৃষ্টান্তটিতে চারটি পদের ব্যবহার করা হয়েছে। যথা- ১. রাশিয়া ২. চীনের সাথে গভীর সম্পর্ক ৩. চীন ও ৪. বাংলাদেশের বন্ধুত্ব। এখানে তিনটি পদের অধিক চারটি পদ ব্যবহার করার কারণে চতুষ্পদী অনুপপত্তি ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সিদ্ধান্তটি অবৈধ।
ঘ.
সহানুমানের নিয়মানুসারে মি. বিনের যুক্তিটি একটি বৈধ যুক্তি। উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রিনের যুক্তিটিতে সহানুমানের প্রথম সংস্থানের তৃতীয় বৈধ মূর্তি A ও I এর প্রতিফলন ঘটেছে। প্রদত্ত যুক্তিটি হলো-
A- সকল ভারতীয় আমেরিকায় যেতে চায়।
I - হরিশ একজন ভারতীয়।
∴ I - হরিশ আমেরিকায় যেতে চায়।
এখানে, সহানুমানের নিয়মানুযায়ী তিনটি পদ যথা- ‘আমেরিকায় যেতে চায়' (প্রধান পদ), ভারতীয় (মধ্যপদ) এবং হরিশ (অপ্রধান পদ) রয়েছে। দৃষ্টান্তটির আশ্রয়বাক্য যুগলের মধ্যে প্রধান আশ্রয়বাক্যটি সার্বিক হওয়ায় তার উদ্দেশ্য পদটি (ভারতীয়) মধ্যপদ হিসেবে একবার ব্যাপ্য হয়েছে। আশ্রয়বাক্য দুটি সদর্থক তাই সিদ্ধান্তও সদর্থক হয়েছে আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হয়নি। কেননা সিদ্ধান্ত হলো । যুক্তিবাক্য। 1 যুক্তিবাক্যের কোনো পদই ব্যাপ্য নয়। এছাড়া সহানুমানের অন্যকোনো নিয়মও এখানে অমান্য করা হয়নি। তাই এটি একটি বৈধ যুক্তি ।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, প্রথম সংস্থানের বৈধ যুক্তিগুলোর মধ্যে উদ্দীপকে উল্লিখিত যুক্তিটি একটি বৈধ যুক্তি।