(ক)
পেটেন্ট হলো নতুন আবিষ্কৃত কোনো বস্তুর ওপর আবিষ্কারকের এমন একচ্ছত্র অধিকার, যার বলে তিনি ওই বস্তুটি তৈরি, উন্নয়ন, ব্যবহার ও বিক্রয়ের একক অধিকার ভোগ করেন।
(খ)
ট্রেডমার্ক হলো পণ্য বা ব্যবসায়ের এমন কোনো স্বতন্ত্র সূচক, বৈশিষ্ট্য, চিহ্ন বা প্রতীক যা সকলের নিকট ব্যবসায় বা পণ্যকে সহজে পরিচিত করে তোলে এবং এর মালিকের তা ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার নির্দেশ করে।
ট্রেডমার্কের মূল বিষয় হলো অন্য পণ্য বা প্রতিষ্ঠান থেকে এর স্বাতন্ত্র্যতা বা ভিন্নতা। এই ভিন্নতা যদি দৃশ্যমান না হয় বা অন্যের পণ্য সম্পর্কে ভুল ধারণার সৃষ্টি করে অথবা এর উৎপত্তিস্থল বা অন্য কোনো বিষয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে তবে তা ট্রেডমার্ক হিসেবে গণ্য হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি সাধারণ 'ঘড়ি' নাম দিয়ে ঘড়ি উৎপাদন ও বিক্রয় করে, তবে ওই 'ঘড়ি' নামটি স্বাতন্ত্র্যসূচক নয়, তাই এটি ট্রেডমার্ক হিসেবে গণ্য হবে না।
(গ)
ফেরদৌসী ব্যবসায়ের কপিরাইট আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, ফেরদৌসী একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং তিনি নিজস্ব প্রচেষ্টায় একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছেন। সফটওয়্যার হলো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টি। এই ধরনের সৃষ্টিশীল কাজের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের জন্য যে আইন ব্যবহৃত হয়, তাকে কপিরাইট আইন বলে। যেহেতু ফেরদৌসী তার তৈরি সফটওয়্যারের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করেছেন, তাই বলা যায় তিনি কপিরাইট আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
কপিরাইট হলো লেখক বা শিল্পী কর্তৃক তাঁর সৃষ্টকর্মের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রাপ্ত স্থায়ী আইনগত অধিকার। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নকল করা থেকে প্রকৃত লেখক, শিল্পী বা সৃষ্টকর্মের স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ সুরক্ষা করা, যাতে স্বত্বাধিকারী আর্থিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
(ঘ)
জনাব ফারহান যথাযথ আইনগত সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন- উদ্দীপকের আলোকে এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করে প্রণেতা বা আবেদনকারীর নাম, সৃষ্টকর্মের নাম ও বিবরণাদি কপিরাইট রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার কাজকেই কপিরাইট নিবন্ধন বলে। এটি এমন এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ যার যথাযথ সংরক্ষণের জন্য নিবন্ধন করা প্রয়োজন। নিবন্ধনের ফলে প্রণেতার সৃষ্টকর্মটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আইনগতভাবে নিরাপদ থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ফেরদৌসী তার তৈরি সফটওয়্যারের মেধাস্বত্ব তার ভাই ফারহানের কাছে হস্তান্তর করেন। ফারহান সাথে সাথে নির্দিষ্ট আইনের মাধ্যমে তা নিবন্ধন করে আইনগত সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সৃষ্টিশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে প্রণেতার নিজস্ব মেধাস্বত্ব থাকে। এই স্বত্বকে রক্ষার জন্য কপিরাইট রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধন অত্যন্ত জরুরি। নিবন্ধন করা না থাকলে লেখক বা শিল্পী আদালতে এর প্রতিকার চাইতে পারেন না। ফারহান যেহেতু মেধাস্বত্বটি নিবন্ধন করেছেন, তাই ভবিষ্যতে কেউ যদি এই সফটওয়্যারটি নকল করে বা অবৈধভাবে ব্যবহার করে, তবে তিনি আইনগতভাবে তার প্রতিকার পাবেন এবং তার ব্যবসায়িক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে। সুতরাং, জনাব ফারহানের গৃহীত পদক্ষেপটি যথাযথ ও সঠিক।