(ক)
আইনের দ্বারা স্বীকৃত অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিককে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে কর্তব্য বলে।
(খ)
আইনগত অধিকার বলতে সেসব সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায় যা রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত এবং যার পেছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সমর্থন বিরাজ করে। যেমন: সম্পত্তির অধিকার। আইনগত অধিকার ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয়।
(গ)
উদ্দীপকে ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
মানুষ পৃথিবীতে জন্মগতভাবে যে সকল সুযোগ-সুবিধার দাবিদার হয় এবং যা ছাড়া মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না সে সকল সুযোগ-সুবিধা হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকার অধিকারেরই একটি বিস্তৃত রূপ, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আইনগত ও নৈতিক অধিকারগুলোর মধ্যে সেসব অধিকারকে মানবাধিকার বলা হয়, যা পৃথিবীর সকল মানুষ শুধু মানুষ হিসেবে দাবি করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে মানব পরিবারের সকল সদস্যের জন্য সহজাত, সর্বজনীন ও হস্তান্তরযোগ্য কিছু অধিকারই হলো মানবাধিকার।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। সব ধরনের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর গাজাবাসি খাদ্য, ঔষধ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে ভুগছে। নিজ মাতৃভূমিতে অবাধে চলাফেরায় বাধা দেওয়ার কারণে তাদের জীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এরূপ বর্ণনায় স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেননা, মানুষ হিসেবে তাদের বেঁচে থাকার সমস্ত অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত অধিকার তথা মানবাধিকার রক্ষায় সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা রকম করণীয় রয়েছে।
মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের ভূমিকাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। যখন কোনো জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং বৈশ্বিক মানবতার ওপরও আঘাত। তাই ব্যক্তির জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজকে সচেতন, সক্রিয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত গাজা নগরীতে চলমান সংকট মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও চলাচলের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার থেকে হাজারো মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বহুমাত্রিক।
প্রথমত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও চুক্তিগুলো অনুসরণ করে আক্রান্ত জনগণের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরোধী কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হতে পারে তাৎক্ষণিক করণীয়। পাশাপাশি, নির্যাতিত জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠন ও গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়াও মানবাধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা যায়। সর্বোপরি, মানবাধিকারের বিষয়ে শিক্ষা, সচেতনতা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ-এসব উদ্যোগ একটি সহনশীল সমাজ গঠনে সহায়ক।
অতএব বলা যায় যে, মানবাধিকারের সুরক্ষা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি আন্তর্জাতিক নৈতিকতার প্রশ্ন। রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত পদক্ষেপেই মানবিক বিপর্যয় রোধ এবং মানবতার কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।