(ক)
নেতৃত্ব হলো লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানুষকে প্রভাবিত, অনুপ্রাণিত ও সঠিক পথে পরিচালিত করার দক্ষতা।
(খ)
মৌলিক অধিকার হলো নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য সেই সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং যা সরকারের নিকট অলঙ্ঘনীয়। একমাত্র রাষ্ট্র ঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় কিংবা সংবিধান স্থগিত ও সংশোধন করা ব্যতীত কোনো সরকারই এ মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না। রাষ্ট্রীয় চেতনাবোধ থেকে এ মৌলিক অধিকার বিকাশ লাভ করে এবং রাষ্ট্রের সংবিধান হলো মৌলিক অধিকারের প্রধান উৎস।
(গ)
উদ্দীপকে গাজার জনগণ মূলত জাতিসংঘ ঘোষিত 'মানবাধিকার' থেকে বঞ্চিত।
মানবাধিকার হলো সেসব অধিকার যা প্রকৃতিগতভাবে সহজাত এবং যেগুলো ছাড়া মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও শিশুদের মৃত্যু এটি প্রমাণ করে যে, সেখানে জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার সনদের ৩নং ধারায় বর্ণিত 'জীবনধারণ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার' চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। গাজার জনগণ তাদের মৌলিক মানবিক মর্যাদা এবং বেঁচে থাকার জন্মগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানবাধিকার সনদের ৫নং ধারা অনুযায়ী কারও প্রতি অমানবিক বা নিষ্ঠুর আচরণ করা চলবে না, যা উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে ভূলুণ্ঠিত। মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তি যে সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা লাভ করে, উদ্দীপকের গাজাবাসীরা বর্তমানে তার কোনোটিই ভোগ করতে পারছে না।
(ঘ)
গাজাবাসীর ভূলুণ্ঠিত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিশ্ববাসী তথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘের ব্যাপক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার ২৮নং ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তি এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অধিকারী যেখানে সকল অধিকার ও স্বাধীনতা পূর্ণভাবে আদায় করা সম্ভব। গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করা বিশ্ববাসীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বিশ্বশান্তি ও প্রগতির জন্য বিশ্ব সমাজের নীতি ও আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করা সকল নাগরিকের আন্তর্জাতিক কর্তব্য।
মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো কার্যকর হতে পারে:
১. আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি: জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
২. মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা: ২৫নং ধারা অনুযায়ী প্রত্যেকের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার উপযোগী খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।
৩. সাম্রাজ্যবাদ ও বর্ণবৈষম্যের বিরোধিতা: বিশ্বশান্তির স্বার্থে যেকোনো প্রকার অন্যায় ও দমনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং জাতিসংঘের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা বিশ্বের সকল নাগরিকের কর্তব্য।
পরিশেষে বলা যায়, মানবাধিকার হলো বিশ্ব স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং শান্তির ভিত্তি। তাই গাজাবাসীর অধিকার রক্ষায় বিশ্ববাসীকে সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।