ক.
পদের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Term |
খ.
'মানুষ' পদটির অর্থ বুঝতে অন্য কোনো পদের সহায়তার প্রয়োজন হয় বলে 'মানুষ' পদটি নিরপেক্ষ পদ (Absolute Term) ।
যে পদের একটা নিজস্ব অর্থ আছে এবং যার অর্থ অপর কোন পদের সাহায্য ছাড়াই বোধগম্য হয় তাকে নিরপেক্ষ পদ বলে। নিরপেক্ষ পদের একটি সহজ সরল অর্থ থাকে। এই শব্দ সরাসরি কোন বস্তু বা গুণকে নির্দেশ করে এই পদকে বুঝতে হলে অপর কোন পদের সাহায্য নিতে হয় না। যেমন- বই, কলম, ঘর, বাড়ি, ক্ষুধা, তৃষ্ণা ইত্যাদি পদগুলো নিরপেক্ষ পদ।
গ.
আরমান ব্যস্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মাঝে বিপরীতধর্মী হ্রাস-বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়েছে।
পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মের একটি দিক হলো এর সীমাবদ্ধতা। এ নিয়ম অনুযায়ী কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে, ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে। অপরদিকে, জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে, জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে। কিন্তু সবক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। যেমন- একটি দ্বীপ আবিষ্কারের পর ঐ দ্বীপের জাত্যর্থ বাড়ে না। অনুরূপ, সৌরজগতে ১১টি গ্রহ আছে। যদি বিজ্ঞানীরা আরও একটি গ্রহের সন্ধান পান, তাতে করে গ্রহের ব্যক্ত্যর্থ বাড়লেও এর আবশ্যিক গুণাবলি অর্থাৎ জাত্যর্থের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাই কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ বাড়লেই যে জাত্যর্থ কমে যাবে এমনটি অপরিহার্য নয়।
উদ্দীপকের ঘটনায় দেখতে পাই, ফাহিম বলল, 'যতই বয়স বাড়ছে। আমাদের আয়ু ততই কমছে।' এখানে ফাহিমের স্বীকৃতি পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মের দিকটি নির্দেশ করে। কিন্তু আরমানের বক্তব্যে, 'আমি কিন্তু এ কথার সাথে সম্পূর্ণ একমত নই।' পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মের সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করেছে। তাই বলা যায়, পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মের সীমাবদ্ধতা এই নিয়মকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ঘ.
ফাহিমের কথায় ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মাঝে হ্রাস-বৃদ্ধির বিপরীতধর্মী সম্পর্ক বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীতিমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। এই বিপরীতিমুখী সম্পর্কের চারটি দিক বা নিয়ম রয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ যখন বৃদ্ধি পায় তখন পদটির জাত্যর্থ কমে যায়। যেমন- 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে 'জীব' হলে জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে কমে কেবল 'জীববৃত্তি' হয়। আবার, যখন কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ কমে যায় তখন পদটির জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন-'জীব' পদটির ব্যক্ত্যর্থ কমে যখন কেবল 'মানুষ' হয় তখন জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি' থেকে বৃদ্ধি পেয়ে 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' হয়। অন্যভাবে বলা যায়, যখন একটি পদের জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায় তখন তার ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পায়। যেমন-'মানুষ' পদটির জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে বাড়িয়ে 'জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা' করা হলে ব্যক্ত্যর্থ কমে 'সকল মানুষ' থেকে কেবল 'শিক্ষিত মানুষ' হয়। আবার, যখন কোনো পদের জাত্যর্থ কমে যায় তখন পদটির ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন- 'শিক্ষিত মানুষ' পদটির জাত্যর্থ কমিয়ে 'জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা' থেকে কেবল 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' করা হলে ব্যক্ত্যর্থ 'শিক্ষিত মানুষ' থেকে বেড়ে 'সকল মানুষ' হয়।
উদ্দীপকের ফাহিমের বক্তব্যেও বলা হয়েছে, 'যতই বয়স বাড়ছে আমাদের আয়ু ততই কমছে।' অর্থাৎ এখানে একটির বৃদ্ধিতে অপরটি' কমছে; যা পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির সম্পর্ককে নির্দেশ করে।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীতমূখী সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থাৎ, এদের একটির হ্রাস বা বৃদ্ধিতে অন্যটির বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে।