ক.
পদের ব্যাপ্তি হলো পদের ব্যাপকতা বা বিস্তৃতি ।
খ.
পদের ব্যাপ্ততার নিয়ম অনুযায়ী সার্বিক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদ অব্যাপ্য। আর নঞর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য কিন্তু উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য। আর নঞর্থক হিসেবে ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী বিধেয় পদ ব্যাপ্য। তাই ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্যের কেবল বিধেয় পদ ব্যাপ্য হয় ।
গ.
উদ্দীপকের রাতুলের বক্তব্যের মাধ্যমে সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে। আর ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্যের কেবল উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য ।
যুক্তিবাক্য হলো দুটি পদের মধ্যকার স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিজ্ঞাপক সম্পর্কের লিখিত বা মৌখিক বিবৃতি। যুক্তিবাক্যকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবিভাগ করা হয়ে থাকে। গুণ ও পরিমাণের যৌথ নীতি অনুযায়ী যুক্তিবাক্যকে চার ভাগে ভাগ করা যায়, যার মধ্যে একটি হলো সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্য। যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে স্বীকার করে তাকে সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্য বলে। এই প্রকার যুক্তিবাক্য পরিমাণের দিক থেকে সার্বিক এবং গুণের দিক থেকে বিশেষ। যেমন— 'সকল ফুল হয় সুন্দর' এই যুক্তিবাক্যটি একটি সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য। কেননা এখানে বিধেয় পদটি (সুন্দর) উদ্দেশ্য পদ (ফুল) এর সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে স্বীকার করেছে। পদের ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী সার্বিক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য কিন্তু বিশেষ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য নয়। আর নঞর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য কিন্তু সদর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ ব্যাপ্য নয়। তাই ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী সার্বিক সদর্থক বা ‘A’ যুক্তিবাক্যের কেবল উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য। উদ্দীপকের রাতুল তার বক্তব্যে প্রত্যেক গোলাপ হয় সুগন্ধী ফুল'- এমন বক্তব্য প্রদান করেছে। এখানে বিধেয় পদ 'সুগন্ধী ফুল' উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে স্বীকার করেছে। তাই রাতুলের বক্তব্যের মাধ্যমে সার্বিক সদর্থক বা ‘A' যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে। আর ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্যের কেবল উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য।
ঘ.
উদ্দীপকের ফাহিমের বক্তব্যে সার্বিক নঞর্থক বা 'E' যুক্তিবাক্য এবং মৃদুলের বক্তব্যে বিশেষ সদর্থক বা 'I' যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে। আর পদের ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী ‘E’ যুক্তিবাক্যের উভয় পদই ব্যাপ্য কিন্তু 'I' যুক্তিবাক্যের কোনো পদই ব্যাপ্য নয় ।
যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে অস্বীকার করে তাকে সার্বিক নঞর্থক বা 'E' যুক্তিবাক্য বলে। যেমন— “কোনো গর্ নয় ঘোড়া'— এই যুক্তিবাক্যটি একটি সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য। কেননা এখানে বিধেয় পদটি (ঘোড়া) উদ্দেশ্য পদের (গরু) সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে অস্বীকার করেছে। পদের ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী সার্বিক নঞর্থক বা 'E' যুক্তিবাক্যের উভয় পদই ব্যাপ্য। উদ্দীপকের ফাহিম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছে যে, 'কোনো ফুল নয় অসুন্দর'। এই যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ 'অসুন্দর' উদ্দেশ্য পদের (ফুল) সমগ্র জাত্যর্থকে অস্বীকার করেছে। তাই ফাহিমের বক্তব্যের মাধ্যমে সার্বিক নঞর্থক বা 'E' যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে। আর পদের ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী সার্বিক নঞর্থক বা 'E' যুক্তিবাক্যের উভয় পদই ব্যাপ্য।
অপরপক্ষে, যে যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে স্বীকার করে তাকে বিশেষ সদর্থক বা 'I' যুক্তিবাক্য বলে। যেমন— 'কিছু মানুষ হয় শিক্ষিত' এই যুক্তিবাক্যটি একটি বিশেষ সদর্থক বা 'I' যুক্তিবাক্য। কেননা যুক্তিবাক্যটির বিধেয় পদ 'শিক্ষিত' উদ্দেশ্য পদ 'মানুষ'-এর আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে স্বীকার করেছে। পদের ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ হিসেবে 'I' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য এবং সদর্থক হিসেবে 'I' যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ অব্যাপ্য। তাই পদের ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী I' যুক্তিবাক্যের কোনো পদই ব্যাপ্য নয়। উদ্দীপকের মৃদুল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছে যে, কিছু গোলাপ হয় লাল'। এই যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ লাল উদ্দেশ্য পদ গোলাপ-এর আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে স্বীকার করেছে। তাই মৃদুলের বক্তব্যের মাধ্যমে বিশেষ সদর্থক বা 'I' যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে। আর পদের ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ সদর্থক 'বা 'I' যুক্তিবাক্যের কোনো পদই ব্যাপ্য নয় ।