Facebook Pixel

ফুলকলি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলধারা জনগোষ্ঠী আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মাঝে সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যায়। আবাসিক হল, খাবারের মান, লাইব্রেরি সুবিধা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আদিবাসীরা চরম বৈষম্যের শিকার হলেও তারা শক্ত কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। আদিবাসীরা পাহাড়ি, সমতল ইত্যাদি শ্রেণিতে বিভক্ত থাকায় তাদেরকে নির্যাতন করা আরও সহজ হয়। অবশেষে জিং ওয়েবাও সকল আদিবাসীকে ঐক্যবন্ধ করে দাবি আদায়ের সংগ্রামে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন। ক. দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রার নাম কী? খ. দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবস্থা ব্যাখ্যা কর। গ. জিং ওয়েবাওয়ের অনুসৃত কৌশলের মধ্যে বর্ণবাদবিরোধী কোন ভারতীয় নেতার প্রভাব লক্ষ করা যায়? বর্ণনা কর। ঘ. উক্ত ভারতীয় বর্ণবাদবিরোধী নেতার আন্দোলন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে কীভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তুমি মনে কর? তোমার মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রার নাম র‍্যান্ড। খ. দক্ষিণ আফ্রিকায় একই বাড়িতে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের বসবাস নিষিদ্ধ করা হয়। এখানে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে বিবাহ এবং যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ ছিল। কৃষ্ণাঙ্গ স্বামী-স্ত্রী একই কারখানায় কাজ না করলে একত্রে বসবাস করতে পারত না। কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের জন্য আলাদা যাত্রীবাহী বাসের ব্যবস্থা ছিল। শ্বেতাঙ্গ এলাকায় কৃষ্ণাঙ্গরা জমি ক্রয় করতে পারত না। নিম্নমানের কায়িক পরিশ্রম শ্বেতাঙ্গদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে কৃষ্ণাজাদের জন্য কোনো ভোটাধিকার ছিল না। গ. আদিবাসীদের দাবি আদায়ের সংগ্রামে জিং ওয়েবাও-এর অনুসৃত কৌশলের মধ্যে বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ লক্ষ করা যায়। মহাত্মা গান্ধী ১৮৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন একজন আইনজীবী হিসেবে। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী নীতি ও অত্যাচার তাকে ব্যথিত করে। কিন্তু বর্ণবাদের শিকার কৃষ্ণাঙ্গরা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত থাকায় কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। স্থানীয় অধিবাসীরা ভারতীয়দেরকে বহিরাগত মনে করত এবং এ দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হতো। তাদের মধ্যে কোনো ঐক্য না থাকায় শ্বেতাঙ্গরা খুব সহজেই নির্যাতন অব্যাহত রাখতে পেরেছিল। গান্ধী এ অবস্থার অবসানে সকল কৃষ্ণাঙ্গকে একত্রিত করেন। ফলে পরবর্তীকালে ভারতীয়, উপজাতীয় এবং স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গরা একত্রিত হয়ে অধিকার আদায়ে ঐক্যবন্ধভাবে কাজ করেছিল। যার ফলাফল কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়া। ফুলকলি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিং ওয়েবাও তাই গান্ধীকে অনুসরণ করছেন। ঘ. উক্ত ভারতীয় বর্ণবাদবিরোধী নেতা অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধী ছিলেন অহিংস আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেছেন। এজন্য তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের মাঝে ঐক্য স্থাপনের কাজ করেন। এ ঐক্য দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগণ, ভারতীয় জনগণ এবং আদিবাসী আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের মাঝে। ঐক্য স্থাপনের মাধ্যমে তিনি কৃষ্ণাঙ্গদেরকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রবর্তী করে গড়ে তোলেন। এছাড়াও তার আন্দোলন সংগ্রামের মূলপন্থা ছিল অহিংস সত্যাগ্রহ। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যকে তিনি কখনো প্রশ্রয় দিতেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তার সংগ্রাম চলত। প্রয়োজনে তিনি অনশন করতেন। এ পদ্ধতিতে আন্দোলন পরিচালনার মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে তিনি দাবি আদায় করতেন। যে কারণে তিনি অহিংস 1 আন্দোলনের জনক হিসেবেও পরিচিত। মার্কিন বর্ণবাদবিরোধী নেতা মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা, ডেসমন্ড টুটু প্রমুখ নেতা মহাত্মা গান্ধীর অনুসারী ছিলেন। তাদের আন্দোলনের সফলতা এসেছে গান্ধীবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে। আর এ পদ্ধতি ও কৌশল যদি ফুলকলি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীরা অনুসরণ করে, তবে তারা সফল হবেই। গান্ধীর মতাদর্শ অনুসরণ করলে আদিবাসীদেরকে প্রথমে ঐক্যবন্ধ হতে হবে। দাবি আদায়ের জন্য তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের ধারা হবে অহিংস। শান্তিপূর্ণ উপায়ে এ আন্দোলন চালাতে হবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত। গান্ধীর অহিংসবাদ উপায়ে এ আন্দোলন হবে কোনোরূপ সহিংসতা ব্যতিরেকে। দেরিতে হলেও তারা এ উপায়ে আন্দোলন করলে সফল হবেই হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ফুলকলি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলধারা জনগোষ্ঠী আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মাঝে সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যায়। আবাসিক হল, খাবারের মান, লাইব্রেরি সুবিধা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আদিবাসীরা চরম বৈষম্যের শিকার হলেও তারা শক্ত কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। আদিবাসীরা পাহাড়ি, সমতল ইত্যাদি শ্রেণিতে বিভক্ত থাকায় তাদেরকে নির্যাতন করা আরও সহজ হয়। অবশেষে জিং ওয়েবাও সকল আদিবাসীকে ঐক্যবন্ধ করে দাবি আদায়ের সংগ্রামে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন।

ক.

দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রার নাম কী?

খ.

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবস্থা ব্যাখ্যা কর।

গ.

জিং ওয়েবাওয়ের অনুসৃত কৌশলের মধ্যে বর্ণবাদবিরোধী কোন ভারতীয় নেতার প্রভাব লক্ষ করা যায়? বর্ণনা কর।

ঘ.

উক্ত ভারতীয় বর্ণবাদবিরোধী নেতার আন্দোলন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে কীভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তুমি মনে কর? তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।