ক.
কমনওয়েলথ হলো কতগুলো স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাধীন সংস্থা।
খ.
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি হলো সরকার কর্তৃক প্রণীত অপরাপর রাষ্ট্রসমূহের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও আচরণের নীতিমালা। স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বাংলাদেশ 'সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়' এ নীতি অনুসরণ করে বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সব সময়ই বিংশ শতাব্দীর স্নায়ুযুদ্ধে প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহের পক্ষাবলম্বন থেকে বিরত থাকছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হওয়ায় অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর সাথে সুদৃঢ় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থার সাথে আমার পঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর সাদৃশ্য আছে। সার্ক ১৯৮৫ সালে গঠিত একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট। শুরুতে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে এ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে আফগানিস্তান এর সদস্যভুক্ত হয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি সাধনের লক্ষ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত। উদ্দীপকে আফ্রিকায় কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তৈরি এবং পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে যাওয়া সার্কের গঠন ও উদ্দেশ্যের সাথে মিল রয়েছে।
১৯৮০ সালে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের আঞ্চলিক সহযোগিতার কিছু প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে অনুসন্ধানের প্রস্তাব দেন। এর প্রতি এশিয়ার সাতটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের পক্ষ থেকে আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যায়। এটা স্বীকৃত যে আঞ্চলিক সহযোগিতা সকল দেশের পক্ষেই কাম্য এবং সুবিধাজনক। এরই ফলশ্রুতিতে ঢাকায় সার্কের প্রথম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৮৫ সালে সার্কের যাত্রা শুরু হয়।
উদ্দীপকের ফজলুল হক আফ্রিকা সফরে গিয়ে দেখতে পান সেখানকার কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তৈরি করে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। এ সংস্থাটির গঠন এবং কার্যক্রমের সাথে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার মিল আছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক গঠন করে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের সংস্থার সাথে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক-এর সাদৃশ্য আছে।
ঘ.
নিজেদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই উক্ত সংস্থা অর্থাৎ সার্ক-এর লক্ষ্য। বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো- অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ হলো আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট গঠন করা। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গড়ে ওঠে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক। সার্ক সনদের ৮টি উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় জনগণের কল্যাণ এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ii. এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, সামাজিক অগ্রগতি সাধন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন এবং প্রতিটি দেশের স্ব স্ব মর্যাদা সমুন্নত রেখে সহাবস্থানের সকল প্রকার সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করা, iii. দেশগুলোর মধ্যে সমষ্টিগতভাবে আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করা, iv. পারস্পরিক বিশ্বাস স্থাপন, সমঝোতা এবং অন্যের সমস্যা উপলব্ধি করা, v. প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতার প্রসার ঘটানো, vi. অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সাথে সহযোগিতার প্রসার ঘটানো, vii. সর্বজনীন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করা, viii. আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা। সার্ক প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এর লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যদিও নানাবিদ কারণে সার্ক তার অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করতে পারেনি। সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর বাধার কারণে সার্কের মাধ্যমে বহুপক্ষীয় যে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা ছিল তা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। পরিশেষে বলা যায় যে, সার্কের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যমান নানা সমস্যা থাকলেও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী মনোভাবের সমাপ্তির মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় করার ওপর নির্ভর করছে সার্কের অগ্রগতি তথা লক্ষ্যের সঠিক বাস্তবায়ন।