(ক) ঘাসফড়িং-এর পুঞ্জাক্ষির গঠন ও কাজের এককই হলো ওমাটিডিয়াম।
(খ) যে রূপান্তরে একটি পতঙ্গ ডিম ফুটে বেরিয়ে কয়েকটি নিম্ফ দশা অতিক্রমের পর পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিণত হয় তাকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলে। প্রত্যেক নিম্ফ দশা দেখতে প্রায় পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গের ক্ষুদ্র প্রতিরূপের মতো দেখায়, কিন্তু এগুলো ডানা ও জননাঙ্গবিহীন থাকে এবং স্পষ্ট বর্ণ পার্থক্য প্রদর্শন করে। অসম্পূর্ণ রূপান্তরের শিশু অবস্থায় প্রাণীকে নিম্ফ (nymph) বলে। উদাহরণ- ঘাসফড়িং ও তেলাপোকার রূপান্তর।
(গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। ঘাসফড়িং-এর দর্শন অঙ্গের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো ওমাটিডিয়াম। নিচে ওমাটিডিয়ামের গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. কর্নিয়া : এটি ওমাটিডিয়ামের বাইরের দিকের বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উত্তল ও ষড়ভুজাকার কিউটিকল আবরণী। এটি লেন্সের মতো কাজ করে।
২. কর্নিয়াজেন কোষ : এরা কর্নিয়ার নিচে একজোড়া চ্যাপ্টা ও পাশাপাশি অবস্থিত কোষ। এদের ক্ষরণ থেকে কর্নিয়া সৃষ্টি হয়।
৩. ক্রিস্টালাইন কোন কোষ : এগুলো কর্নিয়াজেন কোষের নিচে ক্রিস্টালাইন কোনকে ঘিরে অবস্থিত দীর্ঘ ৪টি কোষ। এসব কোষের ক্ষরণ থেকে ক্রিস্টালাইন কোন গঠিত হয়।
৪. ক্রিস্টালাইন কোন : এটি কোন কোষে পরিবেষ্টিত এবং এগুলোর মধ্যবর্তীস্থানে অবস্থিত স্বচ্ছ, মোচাকৃতি অঙ্গ। কোন কোষ থেকে নিঃসৃত পদার্থে ক্রিস্টালাইন কোন গঠিত হয়।
৫. আইরিশ রঞ্জক আবরণী : এগুলো দীর্ঘ রঙিন (কালো কণিকা বহনকারী) কোষ যা কোন কোষগুলোকে ঘিরে রাখে। তীব্র আলোতে এ আবরণ প্রসারিত হয়ে কোন কোষগুলোকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে, আবার মৃদু আলোতে সংকুচিত হয়ে আংশিক উন্মুক্ত রাখে।
৬. রেটিনুলার কোষ : কোন কোষগুলোর নিচে বৃত্তাকার ৭-৮টি লম্বা রেটিনুলার কোষ অবস্থিত। এগুলোর নিউক্লিয়াস কোষ সংলগ্ন প্রান্তে অবস্থিত। এসব কোষ একদিকে কোন কোষের সাথে অন্যদিকে স্নায়ুতন্তুর সাথে যুক্ত।
৭. র্যাবডোম : ক্রিস্টালাইন কোনের নিচে অবস্থিত স্বচ্ছ প্রলম্বিত এ অঙ্গটি অনুপ্রস্থভাবে রেখাঙ্কিত। একে ঘিরে অবস্থিত রেটিনুলার কোষগুলোর ক্ষরণ থেকেই র্যাবডোম গঠিত ও পুষ্ট হয়।
৮. রেটিনাল রঞ্জক আবরণী : এটি রেটিনুলার কোষকে ঘিরে রঞ্জকময় কোষে গঠিত কালো পর্দার একটি আবরণ। এটি প্রত্যেক ওমাটিডিয়ামকে পরস্পর থেকে পৃথক করে রাখে।
৯. ভিত্তিপর্দা : ওমাটিডিয়াম যে পাতলা পর্দার উপর অবস্থান করে তার নাম ভিত্তিপর্দা। এটি ওমাটিডিয়ামকে ধারণ করে।
১০. স্নায়ুতন্তু : প্রতিটি রেটিনুলার কোষ থেকে স্নায়ুতন্তু বেরিয়ে অপটিক স্নায়ুর সাথে যুক্ত হয়। এসব তন্তু ওমাটিডিয়ামের মাধ্যমে গৃহীত প্রতিবিম্ব মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।
(ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি ঘাসফড়িং, যার দর্শন একক হলো ওমাটিডিয়াম। আলোর তীব্রতা অনুসারে এদের দর্শন কৌশল পরিবর্তিত হয়। দর্শন অঙ্গটি দিনের উজ্জ্বল আলো ও দিনের শেষে মৃদু আলোতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে এদের দৃষ্টিশক্তি কার্যকর করে। মৃদু আলোতে সুপারপজিশন এবং উজ্জ্বল আলোতে অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব গঠন করে। নিচে দর্শন কৌশল দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ উল্লেখ করা হলো-
| পার্থক্যের বিষয় | অ্যাপোজিশন (Apposition) | সুপারপজিশন (Superposition) |
|---|
| আলোর তীব্রতা | তীব্র ও উজ্জ্বল আলোতে প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। | স্তিমিত ও মৃদু আলোয় প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। |
| গৃহীত আলোকরশ্মি | কেবলমাত্র লম্বভাবে আপতিত আলোকরশ্মি ওমাটিডিয়ামে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। | উলম্ব ও তির্যক উভয়ভাবে আপতিত আলোক রশ্মি ওমাটিডিয়ামে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। |
| রঞ্জক আবরণী (আইরিশ ও রেটিনাল) | রঞ্জক আবরণী প্রসারিত হয়ে ওমাটিডিয়ামকে সম্পূর্ণ আবৃত করে। | রঞ্জক আবরণী সংকুচিত হয়ে ওমাটিডিয়ামের গোড়ার দিকে অবস্থান করে। |
| প্রতিবিম্বের প্রকৃতি | সুস্পষ্ট ও পৃথক প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি হয়। | প্রতিচ্ছবি অস্পষ্ট ও ঝাপসা (একটির ওপর আরেকটি আপতিত) হয়। |
| ওমাটিডিয়ামের ভূমিকা | প্রতিটি ওমাটিডিয়াম স্বাধীনভাবে কাজ করে। | ওমাটিডিয়ামগুলো মিলিতভাবে কাজ করে। |
| প্রতিবিম্বের উপরিপাতন | বস্তুর বিভিন্ন অংশের প্রতিবিম্ব একে অপরের ওপর পতিত হয় না। | প্রতিবিম্বগুলো একে অপরের ওপর পতিত হয়। |