(ক)
অধিকার হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও আইন দ্বারা সংরক্ষিত কতকগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে একজন নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটে।
(খ)
রাষ্ট্রের শাসনকার্যে এবং রাজনীতি পরিচালনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করার সুযোগকে রাজনৈতিক অধিকার বলা হয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এই অধিকার স্বীকৃত হয়। যেমন: ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার, রাজনৈতিক দল গঠন করার অধিকার এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার প্রভৃতি। রাজনৈতিক অধিকার নাগরিকের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং তাকে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
(গ)
অতীতে 'প্রভাত রাজ্যে' কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত ছিল।
সামাজিক সাম্য বলতে বোঝায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা পেশাগত কারণে মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য না করা এবং সামাজিক ক্ষেত্রে সকলকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রভাত রাজ্যে শ্বেতাঙ্গরা সমাজের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও কৃষ্ণাঙ্গরা শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক খাতে সমান সুযোগ পায়নি। বর্ণের কারণে তাদের সাথে বৈষম্য করা হতো, যা সামাজিক সাম্যের পরিপন্থী। তাই বলা যায়, কৃষ্ণাঙ্গরা সামাজিক সাম্য থেকে বঞ্চিত ছিল।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সাম্য হলো দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধনসম্পদ অর্জনের সমান সুযোগ লাভ করা। উদ্দীপক অনুযায়ী, প্রভাত রাজ্যে ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গদের সমান সুযোগ ছিল না। অর্থাৎ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এটি অর্থনৈতিক অসাম্যের বহিঃপ্রকাশ।
সুতরাং, এটি স্পষ্ট যে প্রভাত রাজ্যের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় সাম্য থেকেই বঞ্চিত ছিল।
(ঘ)
"সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাম্যের ভূমিকা অপরিসীম"- উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে যথার্থ।
সুশাসন হলো এমন এক শাসন প্রক্রিয়া যেখানে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং নাগরিকরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলতে সেই সব আদর্শ ও চিন্তাধারাকে বোঝায় যা মানুষের গণতান্ত্রিক আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে, যেমন: পরমতসহিষ্ণুতা, সাম্য এবং ন্যায়বিচার।
একটি রাষ্ট্রে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। যখন সমাজে সাম্য বিরাজ করে, তখন ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক তাদের প্রাপ্য অধিকার ভোগ করতে পারে। সাম্য থাকলে নাগরিকরা ভয়ভীতিহীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে, যা সুশাসনের মূল শর্ত।
উদ্দীপকের প্রভাত রাজ্যের উদাহরণ থেকে দেখা যায়, যখন সেখানে বর্ণবাদের কারণে সাম্যের অভাব ছিল, তখন সমাজ অশান্ত ছিল এবং কৃষ্ণাঙ্গরা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে যখন বৈষম্য দূর করে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন সেখানে শান্তি বিরাজ করে। এটি প্রমাণ করে যে, সাম্য ছাড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সাম্যহীন সমাজে শ্রেণিবিভেদ ও বৈষম্য তৈরি হয়, যা সুশাসনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করে।
পরিশেষে বলা যায়, সাম্যের মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠিত হয়। তাই সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে সাম্যের ভূমিকা অপরিসীম।