Facebook Pixel

প্রদীপদের সংসারে মোট ৭ জন সদস্য। অভাবের সংসার। প্রদীপ ও তার মা কোনো একটি গ্রামের NGO' থেকে ঋণ নিয়ে হস্তচালিত তাঁতের লুঙ্গি, শাড়ি, গামছা তৈরি করেন। এ কাজে তাদের দাদা-দাদিরাও সাহায্য করেন। কিন্তু হস্তচালিত হওয়ায় তাদের উৎপাদন কম ও সময় সাপেক্ষ। তাই প্রদীপ আরও কিছু ঋণ নিয়ে কয়েকটি মেশিন কিনে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছার পাশাপাশি কিছু হোসিয়ারি দ্রব্য তৈরি করে। ফলে তার আয় যেমন বাড়ে, সবার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, দারিদ্র্য কমে তেমনি দেশেরও উন্নতি হয়। ক. মাঝারি শিল্প কাকে বলে? খ. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে পার্থক্য কী? গ. প্রদীপদের শিল্প কী ধরনের শিল্প? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে উল্লিখিত শিল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ বাংলাদেশের শিল্প

উৎস: Board Exam Question RB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যে শিল্পকারখানায় ২০ জনের অধিক কিন্তু ২৩০ জনের কম শ্রমিক নিয়োগ করা হয় তাকে মাঝারি শিল্প বলে। (খ) ক্ষুদ্র শিল্প ও কুটির শিল্পের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. মালিকানা ও পরিচালনা: কুটির শিল্প সাধারণত পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয় এবং পরিবারের সদস্যরাই শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র শিল্প পারিবারিক মালিকানার পাশাপাশি অংশীদারি বা সমবায়ভিত্তিক মালিকানায় পরিচালিত হতে পারে। ২. পুঁজি ও মূলধন: কুটির শিল্পে খুব সামান্য পুঁজির প্রয়োজন হয় যা সাধারণত পারিবারিক সঞ্চয় বা ক্ষুদ্র ঋণ থেকে আসে। কিন্তু ক্ষুদ্র শিল্পে কুটির শিল্পের তুলনায় অধিক পুঁজির প্রয়োজন হয় এবং তা বিভিন্ন ঋণদানকারী সংস্থা থেকে সংগৃহীত হতে পারে। ৩. যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল: কুটির শিল্পে মূলত হস্তচালিত বা অত্যন্ত সাধারণ যন্ত্রপাতি এবং দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। ক্ষুদ্র শিল্পে আধুনিক ও উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় এবং দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের কাঁচামাল ব্যবহৃত হতে পারে। (গ) উদ্দীপকের আলোকে প্রদীপদের শিল্পটি হলো কুটির শিল্প। ব্যাখ্যা: যে শিল্পে স্বল্প মূলধন এবং পারিবারিক সদস্যসহ সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে এবং যা সাধারণত ঘরোয়া পরিবেশে পরিচালিত হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রদীপ ও তার মা এনজিও (NGO) থেকে ঋণ নিয়ে হস্তচালিত তাঁতের মাধ্যমে লুঙ্গি, শাড়ি ও গামছা তৈরি করেন। এই কাজে তাদের পরিবারের সদস্য যেমন দাদা-দাদিরাও সাহায্য করেন। অর্থাৎ, এই শিল্পটি পারিবারিক মালিকানায়, স্বল্প পুঁজি ও হস্তচালিত যন্ত্রপাতির সাহায্যে ঘরোয়া পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রদীপ কিছু মেশিন কিনে উৎপাদন বৃদ্ধি করলেও এর সামগ্রিক প্রকৃতি এবং পারিবারিক সংশ্লিষ্টতা কুটির শিল্পের বৈশিষ্ট্যকেই নির্দেশ করে। সুতরাং, প্রদীপদের শিল্পটি কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। (ঘ) উদ্দীপকের আলোকে উল্লিখিত কুটির শিল্পের গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: কুটির শিল্প একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকের প্রদীপদের শিল্পের মাধ্যমে এই গুরুত্বগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: ১. কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি: কুটির শিল্পে খুব সামান্য পুঁজি দিয়ে সহজেই ব্যবসা শুরু করা যায়। উদ্দীপকে প্রদীপ ও তার মা ঋণ নিয়ে শিল্প শুরু করার ফলে পরিবারের সদস্যসহ অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটি বেকারত্ব দূর করতে সহায়ক। ২. দারিদ্র্য বিমোচন ও আয় বৃদ্ধি: কুটির শিল্প নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আয়ের উৎস তৈরি করে। প্রদীপ মেশিন কিনে উৎপাদন বাড়ানোর ফলে তার আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তার পরিবারের দারিদ্র্য কমাতে সাহায্য করেছে। ৩. স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ: হস্তচালিত তাঁতের কাজ বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্য। প্রদীপদের এই শিল্পের মাধ্যমে দেশীয় কাঁচামাল ও ঐতিহ্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। ৪. জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন: কুটির শিল্পজাত পণ্য যেমন শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার চাহিদা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক। এসব পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি পেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদান রাখে। পরিশেষে বলা যায়, প্রদীপদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগটি কেবল একটি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করেনি, বরং কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে কুটির শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2022)

প্রদীপদের সংসারে মোট ৭ জন সদস্য। অভাবের সংসার। প্রদীপ ও তার মা কোনো একটি গ্রামের NGO' থেকে ঋণ নিয়ে হস্তচালিত তাঁতের লুঙ্গি, শাড়ি, গামছা তৈরি করেন। এ কাজে তাদের দাদা-দাদিরাও সাহায্য করেন। কিন্তু হস্তচালিত হওয়ায় তাদের উৎপাদন কম ও সময় সাপেক্ষ। তাই প্রদীপ আরও কিছু ঋণ নিয়ে কয়েকটি মেশিন কিনে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছার পাশাপাশি কিছু হোসিয়ারি দ্রব্য তৈরি করে। ফলে তার আয় যেমন বাড়ে, সবার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, দারিদ্র্য কমে তেমনি দেশেরও উন্নতি হয়।

ক. মাঝারি শিল্প কাকে বলে? খ. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে পার্থক্য কী? গ. প্রদীপদের শিল্প কী ধরনের শিল্প? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে উল্লিখিত শিল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।