(ক)
সরকারের আইন বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
(খ)
কমনওয়েলথ হলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত বা ব্রিটিশ শাসনাধীন ছিল এমন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের একটি স্বেচ্ছাসেবী আন্তর্জাতিক সংগঠন। অতীতে যেসব অঞ্চল ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে শাসিত হয়েছে, পরবর্তীতে স্বাধীনতা লাভের পর সেসব রাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে এই সংস্থা গড়ে তুলেছে। কমনওয়েলথ-এর কোনো রাষ্ট্র ইচ্ছা করলে এর সদস্যপদ গ্রহণ বা বর্জন করতে পারে। ব্রিটেনের রাজা বা রানি এই সংস্থার প্রধান হিসেবে বিবেচিত হন এবং এর সদর দপ্তর লন্ডনে অবস্থিত।
(গ)
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. সর্বজনীন ভোটাধিকার: বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের সকল নাগরিকের ভোটাধিকার স্বীকৃত। ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জাতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ভোট দেওয়ার সমান অধিকার রয়েছে।
২. গোপন ব্যালট: নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য গোপন ব্যালট বা ইভিএমের মাধ্যমে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে ভোটার নির্ভয়ে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
৩. একক নির্বাচনী এলাকা: সমগ্র বাংলাদেশকে জনসংখ্যার সমতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক একক নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকা থেকে একজন প্রতিনিধি জাতীয় সংসদের জন্য নির্বাচিত হন।
৪. প্রত্যক্ষ নির্বাচন: জাতীয় সংসদ সদস্যগণ নাগরিকদের সরাসরি বা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। এছাড়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরেও প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
৫. নির্বাচন কমিশন: নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে নির্বাচন কমিশন কাজ করে। জাতীয় সংসদ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নির্বাচন পরিচালনা ও তদারকি করা এই কমিশনের দায়িত্ব।
(ঘ)
উদ্দীপকের সর্বশেষ বাক্যটি হলো, "কাজেই নির্বাচন ব্যবস্থায় নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।" এই উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। নির্বাচকমণ্ডলী বা ভোটাররাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিনিধি বাছাই করে সরকার গঠন করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইস যথার্থই বলেছেন, "রাজনৈতিক অধিকারের মাধ্যমে মানুষ ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাসম্পন্ন হয়।" নির্বাচকমণ্ডলীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র অর্থবহ হতে পারে না।
নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকার গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. জনমতের প্রতিফলন: নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচকমণ্ডলী তাদের পছন্দ ও মতামতের প্রতিফলন ঘটায়, যা সরকারের নীতি নির্ধারণে দিকনির্দেশনা দেয়।
২. সরকারের জবাবদিহিতা: নির্বাচকমণ্ডলী সচেতন থাকলে সরকার স্বৈরাচারী হতে পারে না। নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা জনগণের কাছে তাদের কাজের জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন।
৩. সুশাসন প্রতিষ্ঠা: যোগ্য ও সৎ প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচকমণ্ডলী দেশে সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪. গণসার্বভৌমত্বের বিকাশ: ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের শাসনকার্যে নিজেদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে, যা গণসার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করে।
পরিশেষে বলা যায়, নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের প্রাণ এবং নির্বাচকমণ্ডলী হলো সেই প্রাণশক্তির ধারক। নির্বাচকমণ্ডলী ছাড়া নির্বাচন ব্যবস্থা অচল এবং গণতন্ত্র অকার্যকর। তাই নির্বাচন ব্যবস্থায় নির্বাচকমণ্ডলীর ভূমিকা যে অনস্বীকার্য, তা উদ্দীপকের আলোকে প্রমাণিত।