(ক)
কূটাভাস হলো এমন এক ধরনের বক্তব্য যা আপাত দৃষ্টিতে অসঙ্গত বা স্ববিরোধী মনে হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে তা বাস্তব সত্য প্রতিষ্ঠা করে থাকে।
(খ)
প্রকৃতির ঐক্য বলতে এমন একটি নিয়মকে বোঝায় যা প্রকৃতির বিভিন্ন অঙ্গসমূহের নিরন্তর পরিবর্তনের মাঝে নিজেকে অপরিবর্তনীয় রাখে।
প্রকৃতির বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে এবং প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব নিয়ম আছে। সেসব নিয়মের মাধ্যমেই প্রকৃতির প্রত্যেকটি বিভাগ পরিচালিত হয়। তবে প্রকৃতির বিভাগগুলো একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এরা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। প্রকৃতির এই অখণ্ড বৈশিষ্ট্যকেই বলা হয় প্রকৃতির ঐক্য। যুক্তিবিদ ওয়েলটন প্রকৃতির বিভিন্ন বৈচিত্র্যের মধ্যে এই সামঞ্জস্য বোঝানোর জন্য প্রকৃতির ঐক্য (Unity of Nature) কথাটি ব্যবহার করেছেন।
(গ)
প্রথম বন্ধুর বক্তব্যে আরোহের আকারগত ভিত্তি হিসেবে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির দিকটি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি একটি সার্বিক নিয়ম। বিশ্বজগতে যা কিছু আছে এবং যা কিছু ঘটে সবই এই নিয়মের অধীন। এই নীতি অনুসারে জগতের সবকিছু ধারাবাহিকভাবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে ঘটে। জগতের কোনো কিছুর পক্ষেই এই সর্বব্যাপক নিয়মের বাইরে অবস্থান করা সম্ভব নয়। ফলে প্রকৃতির সামগ্রিক কাজকর্ম ও গতিবিধি সব সময় একইরূপে পরিচালিত হয় এবং প্রকৃতির সামগ্রিক রূপ অপরিবর্তিত থাকে।
উদ্দীপকের প্রথম বন্ধুর বক্তব্যে দেখা যায়, প্রকৃতি একইভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। কারণ তুরস্কের ভূমিকম্প হলো অতীতের পুনরাবৃত্তি এবং ভবিষ্যতেও একই রূপ হওয়ার আশঙ্কা। অর্থাৎ, যেসব অবস্থায় অতীতে ভূমিকম্প হয়েছে, সেসব অবস্থায় ভবিষ্যতেও ভূমিকম্প হবে। সুতরাং বলা যায় যে, প্রকৃতি একটি নিয়মের রাজত্ব এবং এখানে আকস্মিকতার কোনো স্থান নেই। এভাবে প্রথম বন্ধুর বক্তব্যে আরোহের আকারগত ভিত্তি হিসেবে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি প্রকাশ পেয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে দ্বিতীয় বন্ধুর বক্তব্যে কার্যকারণ নীতির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। নিচে কার্যকারণ নীতির পরিমাণগত বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করা হলো:
পরিমাণের দিক দিয়ে কারণ ও কার্য সমপরিমাণ। কারণের মধ্যে যে বস্তু ও শক্তি নিহিত থাকে, তার পরিমাণ কার্যের বস্তু ও শক্তির পরিমাণের সাথে সমান। পরিমাণের এই সমতার বিষয়টিকে বস্তুর অবিনশ্বরতা নিয়ম (Law of Conservation of Matter) এবং শক্তির অবিনশ্বরতা নিয়মের (Law of Conservation of Energy) সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়।
বস্তুর অবিনশ্বরতা নিয়ম অনুসারে, এক প্রকারের বস্তু অন্য প্রকারের বস্তুতে রূপান্তরিত হতে পারে। বস্তুর আকৃতি, গঠন বা প্রকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু বস্তুর পরিমাণের কোনো হ্রাস বা বৃদ্ধি হয় না। তাই বিশ্বজগতের বস্তুর সামগ্রিক পরিমাণ সব সময়ই অপরিবর্তিত থাকে। যেমন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস মিশালে পানি উৎপন্ন হয়; এখানে রূপের পরিবর্তন ঘটলেও পরিমাণের কোনো তারতম্য হয় না। সুতরাং বস্তুর দিক দিয়ে কারণ ও কার্যের পরিমাণ সব সময়ই এক থাকে।
শক্তির অবিনশ্বরতা নিয়ম অনুসারে, এক প্রকারের শক্তি অন্য প্রকারের শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে, কিন্তু শক্তির পরিমাণের কোনো পরিবর্তন হয় না। যেমন, বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে এবং আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, কিন্তু তাদের পরিমাণের কোনো তারতম্য ঘটে না।
পরিশেষে বলা যায়, কারণ যখন কার্যে পরিণত হয়, তখন কারণের মধ্যে যে বস্তু ও শক্তি থাকে তা একই পরিমাণে কার্যের মধ্যে প্রকাশিত হয়। সুতরাং পরিমাণের দিক থেকে কারণ হলো কার্যের সমান।