Facebook Pixel

পৌরনীতি হলো সামাজিক বিজ্ঞানের একটি অংশ। সমাজবদ্ধ মানুষের আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, আশা-আকাঙ্ক্ষা, কার্যাবলি ইত্যাদি নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনা। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা একান্ত প্রয়োজন। সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হলে নাগরিকদের পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। ক. CIVITAS শব্দের অর্থ কী? খ. আইনের শাসন বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকের জ্ঞান কীভাবে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে- ব্যাখ্যা কর। ঘ. সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাগরিকদের উদ্দীপকে উল্লিখিত জ্ঞান অর্জন আবশ্যক- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

উৎস: Test Exam Question SSNIC

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ল্যাটিন শব্দ CIVITAS-এর অর্থ হলো নগররাষ্ট্র। (খ) আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের চোখে সবাই সমান এবং সবকিছুর উপরে আইনের প্রাধান্য। এর অর্থ হলো ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি এবং পদমর্যাদা নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আইনের শাসনের ফলে নাগরিক ও শাসক উভয়েই আইনের অধীন থাকে, যার ফলে সমাজে স্বাধীনতা ও সাম্য সুরক্ষিত হয়। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান একজন নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার এবং রাষ্ট্রপ্রদত্ত কর্তব্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করে। এই জ্ঞান নাগরিককে সচেতন ও বিচক্ষণ করে তোলে, যা তাকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্রিয় হতে সাহায্য করে। এটি মনের সংকীর্ণতা দূর করে এবং ভ্রাতৃত্ব ও মানবতাবোধ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। সুনাগরিক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি প্রধান গুণ হলো বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম। পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নাগরিকরা এই গুণাবলি অর্জন করতে পারে। এটি নাগরিকদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে এবং শাসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করতে শেখায়। ফলে একজন সাধারণ মানুষ আদর্শ ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে রূপান্তরিত হয়। (ঘ) সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাগরিকদের উদ্দীপকে উল্লিখিত পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান অর্জন করা একান্ত আবশ্যক। সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান পূর্বশর্ত হলো একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ। পৌরনীতি হলো তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং সুশাসন হলো সেই জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ। নাগরিকরা যখন এই শাস্ত্রের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন সম্পর্কে জানতে পারে, তখনই তারা প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারে। এটি নাগরিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতা জাগ্রত করে, যা একটি কার্যকর শাসনব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পৌরনীতির জ্ঞান নাগরিকদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজে অংশগ্রহণে আগ্রহী করে তোলে। এই জ্ঞান থাকলে নাগরিকরা তথ্যপ্রবাহের অধিকার এবং সরকারের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে সচেতন থাকে, যা প্রশাসনকে জনমুখী করতে বাধ্য করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সুশাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবনেও এই শিক্ষা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান ছাড়া সুশাসনের মূল লক্ষ্যসমূহ যেমন: সাম্য, ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা অসম্ভব। এই শিক্ষা নাগরিককে সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করার সক্ষমতা দান করে এবং একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং, সুশাসনকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে নাগরিকদের এই জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Shahid Syed Nazrul Islam College, Mymensingh

পৌরনীতি হলো সামাজিক বিজ্ঞানের একটি অংশ। সমাজবদ্ধ মানুষের আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, আশা-আকাঙ্ক্ষা, কার্যাবলি ইত্যাদি নিয়ে পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনা। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা একান্ত প্রয়োজন। সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হলে নাগরিকদের পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

ক. CIVITAS শব্দের অর্থ কী?

খ. আইনের শাসন বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকের জ্ঞান কীভাবে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে- ব্যাখ্যা কর।

ঘ. সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাগরিকদের উদ্দীপকে উল্লিখিত জ্ঞান অর্জন আবশ্যক- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।