(ক)
শিক্ষার অধিকার একটি সামাজিক অধিকার।
(খ)
আইনের শাসন বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের সকল কার্য প্রতিষ্ঠিত আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়া এবং আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র, উচ্চ-নীচ নির্বিশেষে সকলের সমানাধিকার নিশ্চিত করা।
আইনের শাসন নাগরিক অধিকার রক্ষায় নিম্নোক্তভাবে সক্ষম:
১. এটি সরকারকে স্বৈরাচারী হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে।
২. পূর্বনির্ধারিত ও ঘোষিত আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার সুরক্ষিত হয়।
৩. আইনের শাসন থাকলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকে না, ফলে সাধারণ নাগরিকরা আইনি সুরক্ষা পায় এবং তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
(গ)
উদ্দীপকের আলোচিত বিষয়টি হলো মানবাধিকার। কারণ এখানে একটি আন্তর্জাতিক ধারার কথা বলা হয়েছে যার ৬নং ধারায় আইনের চোখে সকলের সমান মর্যাদার কথা উল্লেখ আছে, যা মূলত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের (UDHR) মূল চেতনা। অন্যদিকে, মৌলিক অধিকার হলো কোনো দেশের সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রীয় অধিকার।
মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের সম্পর্ক নিচে নিরূপণ করা হলো:
মানবাধিকার হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তির সহজাত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার, যা মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্জিত হয়। অন্যদিকে, নাগরিকের সুসভ্য জীবনযাপনের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা কোনো দেশের সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অলঙ্ঘনীয়, তাকে মৌলিক অধিকার বলে।
সম্পর্কগত দিক থেকে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার নিবিড়ভাবে জড়িত কারণ উভয়টির মূল লক্ষ্য ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও কল্যাণ সাধন। প্রকৃতপক্ষে, মানবাধিকার হলো মৌলিক অধিকারের ভিত্তি। যখন কোনো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার একটি রাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয়, তখন তা ওই দেশের প্রেক্ষাপটে মৌলিক অধিকারের মর্যাদা পায়। যেমন: উদ্দীপকের আলোচিত মানবাধিকারের ৬নং ধারাটি বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে ২৭নং অনুচ্ছেদে স্থান পেয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকের আলোচিত বিষয়টি অর্থাৎ মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সুশাসন একটি অপরিহার্য উপাদান। সুশাসন ব্যবস্থার প্রতিটি স্তম্ভ মানবাধিকারের সুরক্ষা ও বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
মানবাধিকারের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আইনের শাসন: সুশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমানাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যা মানবাধিকারের মূল ভিত্তি।
২. স্বচ্ছতা ও তথ্য অধিকার: সুশাসন ব্যবস্থায় সরকারি কার্যক্রম উন্মুক্ত থাকে। ফলে নাগরিকরা তথ্য অধিকারের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ করে নিজেদের মানবাধিকার রক্ষা করতে পারে।
৩. জবাবদিহিতা: সুশাসনে সরকার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে, যার ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ কমে যায়।
৪. স্বাধীন বিচার বিভাগ: সুশাসনের অধীনে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে। এটি নাগরিকের মৌলিক ও মানবাধিকারের অভিভাবক হিসেবে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে এবং অধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রতিকার নিশ্চিত করে।
অতএব বলা যায়, সুশাসন ব্যতীত মানবাধিকারের চর্চা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। একটি সমাজ যখন মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং সুশাসনের চর্চা করে, তখনই নাগরিকের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে প্রতিফলিত হয় এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়।