ক.
মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক পদার্থ, ভারী ধাতু, রোগজীবাণু বা বিষাক্ত উপাদানমুক্ত এবং সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত খাওয়ার উপযোগী মাছকেই নিরাপদ মাছ বলে।
খ.
মাছ পচে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো এনজাইম বা উৎসেচকের ক্রিয়া এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ।
মাছ মারা যাওয়ার পর তার শরীরের ভেতরের এনজাইমগুলো সক্রিয় হয়ে নিজস্ব টিস্যু বা কোষগুলোকে গলিয়ে ফেলতে শুরু করে, যাকে অটোলাইসিসবা আত্মপচন বলে। একইসাথে মাছের ফুলকা, নাড়িভুঁড়ি ও ত্বকের স্লাইমে থাকা ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে মাংসপেশিতে আক্রমণ করে এবং দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস তৈরি করে। এছাড়া বাতাসের অক্সিজেনের প্রভাবে মাছের চর্বির জারণ ঘটলেও মাছ দ্রুত নষ্ট হয়ে পচে যায়।
গ.
উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত 'A' চিহ্নিত চিংড়িটি হলো স্বাদু পানির গলদা চিংড়ি। ধান ক্ষেতে এই গলদা চিংড়ি চাষ করার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, যা নিচে দেওয়া হলো:
১. জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার: এর জন্য আলাদা কোনো পুকুর বা জমির প্রয়োজন হয় না। একই জমি থেকে ধান এবং চিংড়ি—উভয় ফসলই পাওয়া যায়।
২. সারের খরচ সাশ্রয়: চিংড়ির মলমূত্র ও উচ্ছিষ্ট খাবার পচে ধান ক্ষেতে উৎকৃষ্ট জৈব সার তৈরি করে। ফলে জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না।
৩. পোকামাকড় ও আগাছা দমন: চিংড়ি ধান ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড়, লার্ভা ও ছোট আগাছা খেয়ে ফেলে। এতে জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন অনেকাংশে কমে যায়।
৪. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি: চিংড়ির চলাফেরার কারণে জমির মাটি ওলট-পালট হয়, ফলে মাটির নিচে ক্ষতিকর গ্যাস জমতে পারে না এবং ধানের শিকড়ে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে, যা ধানের ফলন বৃদ্ধি করে।
৫. বাড়তি আয়: একই শ্রমে ও খরচে ধান ও চিংড়ি দুটিই পাওয়ায় কৃষকের আয় বাড়ে এবং আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হওয়া যায়।
ঘ.
উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত 'B' চিহ্নিত চিংড়িটি হলো লোনা পানির বাগদা চিংড়ি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই বাগদা চিংড়ি চাষের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ আসে বাগদা চিংড়ি থেকে। বিশ্ববাজারে এর ব্যাপক চাহিদার কারণে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। এজন্য বাগদা চিংড়িকে বাংলাদেশের 'সাদা সোনা' (White Gold) বলা হয়।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বাগদা চিংড়ির খামার, হ্যাচারি, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা (Processing Plant) এবং বাজারজাতকরণ খাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
৩. পতিত ও অনাবাদি জমির ব্যবহার: উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে যেখানে সাধারণত ভালো ফসল হয় না, সেসব পতিত বা একফসলি জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে জমির লাভজনক ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
৪. দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: বাগদা চিংড়ি চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের দারিদ্র্য দূর করতে এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
৫. আনুষঙ্গিক শিল্পের প্রসার: বাগদা চিংড়ি চাষকে কেন্দ্র করে দেশে হ্যাচারি শিল্প, মৎস্য খাদ্য তৈরির কারখানা (Feed Mill), বরফকল ও প্যাকেজিং শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো মজবুত করতে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে বাগদা চিংড়ি চাষের অবদান অনস্বীকার্য।