ক.
যে সম্প্রসারণ পদ্ধতিতে দলগতভাবে কৃষকদের একত্রিত করে কৃষির নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে কৃষক সভা বলে।
খ.
কৃষি তথ্য ও সেবা প্রাপ্তিতে ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক ওয়েবসাইট (যেমন- কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি বাতায়ন) ব্যবহার করে খুব সহজেই উন্নত জাতের বীজ, সার প্রয়োগের মাত্রা এবং রোগবালাই দমনের উপায় সম্পর্কে আধুনিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
এছাড়া ঘরে বসেই আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস এবং কৃষি পণ্যের বর্তমান বাজারদর জানা যায়। ফসলের কোনো অপরিচিত রোগ বা পোকার আক্রমণ হলে তার ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে খুব দ্রুত সঠিক পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে কৃষকের সময় ও খরচ বাঁচে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
গ.
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত ফসলগুলো (ধান, গম, ভুট্টা) কৃষির দানা ফসল বা খাদ্য ফসল-কে নির্দেশ করে, যা মূলত মাঠ ফসলের একটি অন্যতম প্রধান শ্রেণি।
চাষপদ্ধতি: এগুলো বিস্তীর্ণ উঁচু, মাঝারি বা নিচু মাঠে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয় এবং উদ্যান ফসলের মতো প্রতিটি গাছের জন্য আলাদা বা নিবিড় যত্নের প্রয়োজন হয় না।
খাদ্য ও পুষ্টি: এই ফসলগুলো মানুষের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস, যা আমাদের দেহের দৈনন্দিন শক্তির সিংহভাগ চাহিদা মেটায়।
সংরক্ষণ সুবিধা: দানা ফসল ভালোভাবে রৌদ্রে শুকিয়ে আর্দ্রতা নির্দিষ্ট মাত্রায় কমিয়ে (সাধারণত ১২-১৪% এর নিচে) দীর্ঘদিন গুদামে সংরক্ষণ করা যায়। এটি দেশের আপৎকালীন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
ফসল সংগ্রহ: মাঠের এই ফসলগুলোর জীবনকাল প্রায় একই হওয়ায় এগুলো সাধারণত একই সময়ে পেকে যায়। ফলে পুরো মাঠের ফসল একসাথে কর্তন বা সংগ্রহ করা সুবিধাজনক এবং এতে শ্রমিকের খরচ বাঁচে।
বহুমুখী ব্যবহার: মানুষের প্রধান খাদ্য (ভাত, আটা, ময়দা) হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি এগুলোর উপজাত অংশ (যেমন- ধানের খড় ও কুঁড়া, গমের ভুসি, ভুট্টার গাছ) গবাদিপশু, মাছ ও পোল্ট্রির ফিড তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং বলা যায়, মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন এবং দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় কৃষির এই দানা ফসল বা মাঠ ফসল ক্ষেত্রটি সবচেয়ে বেশি ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঘ.
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত ফসলগুলো (ধান, গম, ভুট্টা) হলো দানা ফসল এবং 'B' চিহ্নিত ফসলগুলো (পাট, আখ, তুলা) হলো অর্থকরী ফসল বা শিল্প ফসল। এগুলোর মধ্যে কৃষকের আর্থিক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে 'B' চিহ্নিত ফসল (অর্থকরী ফসল) চাষ করা অধিক লাভজনক। এর সপক্ষে যুক্তি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ও মুনাফা: 'A' চিহ্নিত দানা ফসল সাধারণত কৃষকরা নিজেদের পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য চাষ করেন। উদ্বৃত্ত ফসল বাজারে বিক্রি করলেও একক প্রতি এর মুনাফা তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, 'B' চিহ্নিত ফসলগুলো সরাসরি বাজারে বিক্রি করে নগদ অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই চাষ করা হয় এবং এগুলোর লাভজনকতা অনেক বেশি।
শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার: পাট, আখ ও তুলা সরাসরি শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আখ থেকে চিনি ও গুড়, তুলা থেকে সুতা ও বস্ত্র এবং পাট থেকে নানাবিধ পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি হয়। ফলে দেশীয় বাজারে এসব ফসলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: 'B' চিহ্নিত অর্থকরী ফসল এবং এর থেকে উৎপাদিত পণ্য (যেমন- পাটের তৈরি জিনিসপত্র বা তৈরি পোশাক) বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
পরিশেষে বলা যায়, দানা ফসল ('A') আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য হলেও, কৃষকের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অধিক মুনাফা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতির প্রসারে 'B' চিহ্নিত অর্থকরী ফসলের চাষ করা বাণিজ্যিকভাবে বেশি লাভজনক।