(ক)
UNICEF-এর সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত।
(খ)
আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে একাধিক জাতি বা রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত এমন সংগঠনকে বোঝায়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে এবং যার কার্যক্রম একাধিক দেশে বিস্তৃত থাকে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বা জাতির সমন্বয়ে গঠিত যেসব সংস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজকল্যাণ কার্যক্রম প্রণয়ন, উন্নয়ন ও প্রসারে নিয়োজিত থাকে, তাদের আন্তর্জাতিক সংস্থা বলা হয়। যেমন: জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইত্যাদি। এসব সংস্থা নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
(গ)
উদ্দীপকে জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা ইউএনডিপি (UNDP)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের যে অঙ্গসংগঠনগুলো কাজ করছে, ইউএনডিপি তার অন্যতম। এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development Programme। ১৯৬৫ সালের নভেম্বর মাসে এই সংস্থাটি গঠিত হলেও ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। এর সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।
ইউএনডিপি বিশ্বের উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে টেকসই জাতি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে। এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য হ্রাস করা। সেইসাথে সংস্থাটি ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত SDG (Sustainable Development Goals) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। যেসব দেশের শাসনকাঠামো তুলনামূলকভাবে দুর্বল, সেসব দেশের গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার সাধন করা এর অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সহায়তা ও পরিবেশের উন্নয়নেও সংস্থাটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। ইউএনডিপি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংরক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন, উন্নয়নে নারীর অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। মূলত বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ইউএনডিপি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনডিপি (UNDP)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
(ঘ)
মানবাধিকার সংরক্ষণ ও পরিবেশ উন্নয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থা তথা UNDP অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মানবাধিকার সংরক্ষণে ইউএনডিপির ভূমিকা নিম্নরূপ:
ইউএনডিপির মানবাধিকার কর্মসূচি (HRP) প্রকল্পটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান মানবাধিকার বিষয়ক কাঠামোর সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। একইসাথে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে নাগরিক সমাজের প্রধান উদ্যোগগুলোকেও এর মাধ্যমে সহায়তা করা হয়। এই কর্মসূচিতে বিশেষভাবে নারী ও কমবয়সী মেয়ে, শিশু ও তরুণ, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘুসহ অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
পরিবেশ উন্নয়নে ইউএনডিপির ভূমিকা নিম্নরূপ:
পরিবেশ ও জ্বালানি প্রকল্পের মাধ্যমে ইউএনডিপি মূলত দুটি প্রধান ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করে: প্রথমটি হলো জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং দ্বিতীয়টি হলো পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন। গ্রিন হাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণে UNDP মন্ট্রিল প্রোটোকলের আওতায় বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া UNDP এবং Global Environment Facility (GEF)-এর মাধ্যমে ইট প্রস্তুত কারখানায় জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করা হয়েছে, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়ক।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং পরিবেশ উন্নয়নসহ সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থায় UNDP এবং তার উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।