Facebook Pixel

ক. শ্বসন কী? খ. ওটিটিস মিডিয়া কী? গ. চিত্রে প্রদর্শিত অন্ত্রটির ক্ষুদ্রতম এককের গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা কর। ঘ. উপরের চিত্রের 'A' চিহ্নিত অংশে সংক্রমণ হলে যে সমস্যা দেখা যায় তা প্রতিকারের উপায় বর্ণনা কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ মানব শারীরতত্ত্বঃ শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া

উৎস: Board Exam Question SB 2015

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় কোষের সরল খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে স্থিতিশক্তি বা ATP উৎপন্ন করে এবং উপজাত হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি ত্যাগ করে, তাকে শ্বসন বলে। (খ) মধ্যকর্ণের (middle ear) অভ্যন্তরে সংক্রমণজনিত প্রদাহকে ওটিটিস মিডিয়া বলা হয়। সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে ইউস্টেশিয়ান নালী বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যকর্ণে তরল জমে এই প্রদাহের সৃষ্টি হয়, যা কানে ব্যথা ও শ্রবণ সমস্যার কারণ হতে পারে। (গ) উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি মানুষের শ্বসনতন্ত্রের ফুসফুসকে নির্দেশ করছে। ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যকরী একক হলো অ্যালভিওলাস। অ্যালভিওলাসের গঠন ও কাজ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: গঠন: অ্যালভিওলাস হলো ফুসফুসের প্রান্তীয় অংশে অবস্থিত ক্ষুদ্র, বায়ুপূর্ণ থলি বা বুদবুদ সদৃশ গঠন। মানুষের দুটি ফুসফুসে প্রায় ৭০ কোটির বেশি অ্যালভিওলাস থাকে। প্রতিটি অ্যালভিওলাসের ব্যাস প্রায় ০.২ মি.মি. এবং প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা, যা মাত্র ০.১ মাইক্রোমিটার পুরু। এই প্রাচীর একস্তর বিশিষ্ট স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম কোষ দ্বারা গঠিত এবং এর বাইরের দিকে কৈশিক জালকের নিবিড় বিন্যাস থাকে। প্রাচীরে কোলাজেন ও স্থিতিস্থাপক তন্তু থাকে, যা একে প্রসারণ ও সংকোচনে সহায়তা করে। কাজ: অ্যালভিওলাসের প্রধান কাজ হলো গ্যাসীয় আদান-প্রদান। পাতলা প্রাচীর ও কৈশিক জালকের উপস্থিতির কারণে রক্ত ও অ্যালভিওলাসের বায়ুর মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। এছাড়া, অ্যালভিওলাসের প্রাচীর থেকে নিঃসৃত সারফেকট্যান্ট নামক পদার্থ অ্যালভিওলাসের পৃষ্ঠটান কমিয়ে এদের চুপসে যাওয়া রোধ করে। (ঘ) উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অংশটি ল্যারিংক্স বা স্বরযন্ত্রকে নির্দেশ করছে। ল্যারিংক্স বা শ্বাসনালীর উপরের অংশে সংক্রমণ হলে সাধারণত ল্যারিঞ্জাইটিস বা শ্বসনতন্ত্রের ঊর্ধ্বমুখী প্রদাহজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এর প্রতিকারের উপায়গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. বিশ্রাম ও কণ্ঠস্বরের ব্যবহার কমানো: সংক্রমণের সময় কথা বলা কমিয়ে স্বরযন্ত্রকে বিশ্রাম দিতে হবে। ২. বাষ্পীয় চিকিৎসা (Steam Inhalation): মেনথলযুক্ত গরম পানির বাষ্প গ্রহণ করলে শ্বাসনালীর মিউকাস ঝিল্লি আর্দ্র থাকে এবং অস্বস্তি কমে। ৩. পর্যাপ্ত পানি পান: প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে, যা মিউকাস পাতলা রাখতে সাহায্য করে। ৪. লবণ-পানির গার্গল: কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করলে গলার প্রদাহ ও অস্বস্তি কমে। ৫. চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি সংক্রমণ তীব্র হয় বা জ্বর থাকে, তবে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। ৬. ধূমপান ও ধুলোবালি পরিহার: ধোঁয়া, ধুলোবালি এবং শুষ্ক বাতাস থেকে দূরে থাকতে হবে, কারণ এগুলো স্বরযন্ত্রের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। পরিশেষে, ল্যারিংক্সের সংক্রমণ প্রতিকারে সঠিক বিশ্রাম, আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2015)

ক. শ্বসন কী?

খ. ওটিটিস মিডিয়া কী?

গ. চিত্রে প্রদর্শিত অন্ত্রটির ক্ষুদ্রতম এককের গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উপরের চিত্রের 'A' চিহ্নিত অংশে সংক্রমণ হলে যে সমস্যা দেখা যায় তা প্রতিকারের উপায় বর্ণনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।