(ক)
জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
(খ)
জুম চাষ হলো পাহাড়ের ঢালে প্রচলিত এক ধরনের স্থানান্তর কৃষি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রথমে বনের গাছপালা কেটে পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং সেই ছাই মিশ্রিত মাটিতে চাষাবাদ করা হয়। যখন ওই জমির উর্বরতা কমে যায়, তখন চাষিরা অন্য স্থানে চলে যায় এবং পুনরায় একই প্রক্রিয়া শুরু করে। এই বিশেষ কৃষি পদ্ধতিটি পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীদের জীবনজীবিকার প্রধান উৎস।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নৃগোষ্ঠী-১ দ্বারা সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, নৃগোষ্ঠী-১ এর বাস রাজশাহী অঞ্চলে, তাদের মধ্যে বহিগোত্র বিবাহ বিদ্যমান, পিতার সম্পত্তিতে পুত্রের অধিকার রয়েছে এবং তাদের প্রধান উৎসব হলো সোহরায়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
নৃগোষ্ঠীগত বিচারে সাঁওতালরা আদি-অস্ট্রেলীয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল তথা রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, রংপুর প্রভৃতি অঞ্চলে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বসবাস। সাঁওতালদের মধ্যে ১২টি গোত্র রয়েছে এবং তাদের মধ্যে বহির্বিবাহ প্রচলিত। অর্থাৎ নিজ গোত্রের বাইরে অন্য গোত্রের সদস্যকে তাদের বিয়ে করতে হয়। তাদের সমাজের মূল ভিত্তি হলো গ্রাম পঞ্চায়েত এবং মানযহি বা মাঝি হলেন গ্রামপ্রধান। তার নেতৃত্বেই গ্রামের যাবতীয় কার্যকলাপ সম্পাদিত হয়। এছাড়া সাঁওতালদের মধ্যে পিতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা বিদ্যমান। পরিবারে পিতাই প্রধান এবং পিতার সূত্রেই সন্তানদের পরিচয় নির্ধারিত হয়। পিতার সম্পত্তিতে পুত্রদের সমান অধিকার থাকলেও কন্যারা সাধারণত কোনো সম্পত্তি দাবি করতে পারে না। পাশাপাশি সাঁওতালরা বিভিন্ন উৎসব পালন করে, যার মধ্যে সোহরায় তাদের প্রধান উৎসব এবং এটি ছয় দিনব্যাপী স্থায়ী হয়।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের নৃগোষ্ঠী-১ হলো সাঁওতাল সম্প্রদায়।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত "নৃগোষ্ঠী-২" তথা গারোদের জীবনধারা ও বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ ভিন্নতা রয়েছে।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, নৃগোষ্ঠী-২ এর বাস ময়মনসিংহ অঞ্চলে, তাদের মধ্যে প্যারালাল কাজিন বিবাহ নিষিদ্ধ, সম্পত্তিতে কন্যাদের অধিকার বিদ্যমান এবং তাদের প্রধান উৎসব হলো ওয়ানগালা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো গারো সম্প্রদায়কে নির্দেশ করে। গারোরা প্রধানত ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, সিলেট প্রভৃতি অঞ্চলে বাস করে।
গারোদের জীবনধারা ও বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে প্রধান ভিন্নতাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পরিবার ব্যবস্থা: গারোদের পরিবার ব্যবস্থা মাতৃসূত্রীয় বা মাতৃতান্ত্রিক। সন্তানরা মায়ের বংশের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হয় এবং মেয়েরা বংশানুক্রমে মায়ের সম্পত্তিতে অধিকার পায়। অন্যদিকে, বাঙালি সমাজে সাধারণত পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা বিদ্যমান, যেখানে পিতার পরিচয়েই সন্তানরা পরিচিত হয় এবং পিতার সম্পত্তিতে পুত্রদের প্রাধান্য থাকে।
২. বিবাহ রীতি: গারো সমাজে প্যারালাল কাজিন বিবাহ নিষিদ্ধ এবং তারা বহির্বিবাহ রীতি মেনে চলে। অন্যদিকে, বাঙালি সমাজে ক্রস কাজিন ও প্যারালাল কাজিন উভয় রীতিই প্রচলিত এবং গ্রহণযোগ্য।
৩. সাংস্কৃতিক উৎসব: গারোদের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো ওয়ানগালা, যা মূলত কৃষিভিত্তিক উৎসব। অন্যদিকে, বাঙালিদের প্রধান উৎসবগুলো হলো ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব প্রভৃতি, যা গারোদের উৎসব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পারিবারিক কাঠামো, উত্তরাধিকার আইন, বিবাহ রীতি এবং সাংস্কৃতিক উৎসবের দিক থেকে গারো নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা ও বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভিন্নতা রয়েছে।