Facebook Pixel

ইদানীং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রচন্ড গাড়ির চাপে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এছাড়াও টঙ্গীর শিল্পাঞ্চল ও আশুলিয়াতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইট ভাটা। এদের শিল্পবর্জ্য ও নির্গত গ্যাসীয় পদার্থ ক্রমাগত বায়ুতে মিশছে। এসব এলাকায় মানুষ প্রায়শঃই কাপড় দিয়ে নাক, মুখ চেপে শ্বাসকষ্ট ও দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করে। ক. গ্রিনহাউস কাকে বলে? খ. ওজোনস্তর কেন গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণের প্রভাব বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণ প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ভূগোল ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বায়ুমণ্ডল ও বায়ুদূষণ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. শীতপ্রধান দেশে শীতকালে শাকসবজি উৎপাদন করার জন্য যে স্বচ্ছ কাচের তৈরি ঘর তৈরি করা হয় তাকে গ্রিনহাউস বলে। খ. বায়ুমন্ডলের স্ট্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন (O 3 ) গ্যাসের স্তরটি পৃথিবীর জীবজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে থাকে। এ স্তরটি না থাকলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দহনে পৃথিবীর মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী বসবাসের জন্য উপযোগী হতো না। শুধু তাই নয়, ক্যান্সার জাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব প্রকট আকারে দেখা যাবে। ফলে মানবকুলের অধিক প্রাণহানি ঘটবে। তাই প্রাণিকুলকে টিকিয়ে রাখতে এ স্তরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ স্তরে ধূলিবালি, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি পদার্থ অতিসামান্য পরিমাণে থাকে। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণ হলো বায়ুদূষণ। উক্ত বায়ু দূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো: সময়ের বহুল আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে বায়ুদূষণ যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক হারে বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার হেলথ ইফেক্ট ইনস্টিটিউট ও ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন ২০১৯, বৈশ্বিক বায়ু দূষণের ঝুঁকিবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০১২ সালে বায়ুদূষণ সারা বিশ্বে ৭ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে। চলতি বছরে বায়ু দূষণের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে। সেই সঙ্গে বায়ু দূষণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বাণিজ্যিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রগুলোতে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে পৃথিবীর শতকরা প্রায় ৯১ ভাগ মানুষ নির্মল বায়ু সেবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় ৩৩ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হলো বায়ুদূষণ। এসবের মাঝে ৭৫ শতাংশরই মৃত্যু ঘটে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক থেকে, বাকি ৭৫ শতাংশ হয় ফুসফুসের রোগে। শুধু তাই নয়, এত মৃত্যুর ৭৫ শতাংশ ঘটে এশিয়া মহাদেশে, যেখানে বায়ু দূষণের মাত্রা ভয়াবহ বিশেষ করে চীন এবং ভারতে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা এ ব্যাপারটাকে আরও শক্তপোক্ত করেছে যে, দূষিত বায়ু বেশকিছু দিক দিয়ে আমাদের ক্ষতি করতে সক্ষম। যেমন- শুক্রাণুর ক্ষতি, জন্মগত ত্রুটি, স্ট্রোকের ঝুঁকি, কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি। বায়ুদূষণ মানসিক সমস্যাও বাড়ায়। দেখা যায় বায়ু দূষণের পরিমাণ যত বেশি হয়, মানুষের হতাশা, বিষাদ, অস্থিরতা এবং অন্যান্য নেতিবাচক অনুভূতির প্রকোপ ততই বেশি হয়। বায়ু দূষণের সাথে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার বেশ গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণায় জানা যায়। বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যায়, ফলে এর প্রভাব পড়ে জলবায়ুর ওপর এবং তা বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বায়ুদূষণের প্রতিকার নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো: সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বায়ুদূষণের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বায়ুদূষণের বর্তমান অবস্থা পরিমাপের জন্য ব্যাপক জরিপ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জনসাধারণকে বায়ুদূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য ও সম্পদের কী ক্ষতি হতে পারে সে সম্বন্দ্বে পরিচিতি প্রদান করতে হবে। পরিবেশে জনসংখ্যা ভার কমাতে হবে। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে দেশে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। ইটের ভাটায় কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহার করতে হবে। যানবাহনে ডিজেলের পরিবর্তে সিএনজির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে বনায়ন করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, জাতিসংঘের পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষ করে বায়ুদূষণ প্রতিরোধে গৃহীত বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের দেশকে যথার্থ ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ইদানীং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রচন্ড গাড়ির চাপে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এছাড়াও টঙ্গীর শিল্পাঞ্চল ও আশুলিয়াতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইট ভাটা। এদের শিল্পবর্জ্য ও নির্গত গ্যাসীয় পদার্থ ক্রমাগত বায়ুতে মিশছে। এসব এলাকায় মানুষ প্রায়শঃই কাপড় দিয়ে নাক, মুখ চেপে শ্বাসকষ্ট ও দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করে।

ক.

গ্রিনহাউস কাকে বলে?

খ.

ওজোনস্তর কেন গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণের প্রভাব বর্ণনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত দূষণ প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. বায়ুতে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের শতকরা পরিমাণ কত? খ. গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া কী? গ. উদ্দীপকের ক-স্তরের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। ঘ....

ক. সৌরপর্দা কাকে বলে? খ. বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণগুলো ব্যাখ্যা কর। গ. 'ক' চিত্রে কোন নিয়ত বায়ুপ্রবাহকে ইঙ্গিত করা হয়...

ক. দূষণ কাকে বলে? খ. বিষমমণ্ডল কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে প্রেক্ষাপট-২ এ উল্লিখিত বিষয়টির কারণ বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকে...

ক. বায়ু দূষণ কী? খ. স্ট্রাটোস্ফিয়ারের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ। গ. ছকে উল্লিখিত 'ক' উপাদানটি বায়ুমণ্ডলে কী ভূমিকা পালন করে?...

ক. জলবায়ু কাকে বলে? খ. সাময়িক বায়ু কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' বায়ু স্তরটির বিবরণ দাও। ঘ. উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' এ...

ক. বায়ুদূষণ কাকে বলে? খ. জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'খ' স্তরের বর্ণনা দাও। ঘ...

ক. সিএফসি এর পূর্ণরূপ কী ? খ. বায়ু দূষণের কারণ ব্যাখা করো। গ. চিত্রে বর্ণিত কোন স্তরটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন তা ব্যা...

ক. দূষণ কাকে বলে ? খ. জীবজগতের জন্য ট্রপোমণ্ডল গুরুত্বপূর্ণ — ব্যাখ্যা দাও ৷ গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' স্তরের বর্ণন...

ক. বায়ুমণ্ডল কাকে বলে? খ. জলীয়বাষ্প বায়ুমন্ডলের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে চিত্র ২ এর 'ক' স্তরের বর...

ক. দূষক কাকে বলে? খ. বনায়নের দ্বারা পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' স্তরের বর্ণনা দ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।