(ক)
'Charities Review' পত্রিকাটি ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয়।
(খ)
পঞ্চদৈত্য বলতে ১৯৪২ সালে পেশকৃত বিভারিজ রিপোর্টে উল্লেখিত পাঁচটি সমস্যা, অভাব, রোগ, অজ্ঞতা, মলিনতা ও অলসতাকে বোঝায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধজনিত আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলার লক্ষ্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ স্যার উইলিয়াম বিভারিজ একটি সামাজিক নিরাপত্তা রিপোর্ট পেশ করেন। এই রিপোর্টে তিনি উপরিউক্ত পাঁচটি সমস্যা চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, তৎকালীন দারিদ্র্যপীড়িত ইংল্যান্ডের সমাজজীবনকে এই পাঁচটি সমস্যা অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে রেখেছিল। এই সমস্যাগুলোই পঞ্চদৈত্য নামে পরিচিতি পায়।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত যুগান্তকারী পরিবর্তনকে শিল্পবিপ্লব নামে আখ্যায়িত করা হয়।
শিল্পবিপ্লব হলো কৃষিভিত্তিক, হস্তশিল্পনির্ভর ক্ষুদ্রায়তন উৎপাদন ও অর্থনীতি থেকে শিল্প ও যন্ত্রচালিত বৃহদায়তন উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব শুরু হয়। এর প্রভাবে সমাজের সকল স্তরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা লক্ষ করা যায়। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এর প্রভাব সর্বাধিক গুরুত্ববহ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত সময়ে ইংল্যান্ডে এবং পরে অন্যান্য দেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়, যার ফলে নানা ধরনের জটিল সমস্যার উদ্ভব ঘটে। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে, উদ্দীপকে শিল্পবিপ্লবের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, শিল্পবিপ্লব আর্থ-সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এর ফলে অর্থব্যবস্থা দ্রুত সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পায়ন শিল্পবিপ্লবের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং এর ফলে শহরায়ন প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে, যার ফসল আজকের শহরকেন্দ্রিক সভ্যতা। তবে এর ফলে মানবজীবনে কিছু নতুন সমস্যারও উদ্ভব ঘটে, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে শিল্পবিপ্লবের ফলে সৃষ্ট আমূল পরিবর্তনের কথাই নির্দেশিত হয়েছে।
(ঘ)
সমাজকর্ম পেশার বিকাশে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পরিবর্তন তথা শিল্পবিপ্লবের ভূমিকা অপরিসীম।
শিল্পবিপ্লবকে আধুনিক সমাজকর্মের মূল উৎস বা ভিত্তিভূমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শিল্পবিপ্লব পরবর্তী আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাকে বৃদ্ধি করে। এর ফলে হঠাৎ করেই শহরে আবাসন সংকট ও বস্তি সমস্যা বাড়তে থাকে। সেই সাথে নানা রকম রোগ-ব্যাধি, অপরাধ এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যাও দেখা দেয়। ফলে এই সমস্ত জটিল সামাজিক সমস্যার সমাধানে সুসংগঠিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যার সূত্র ধরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সাহায্যার্থীর প্রকৃত সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এভাবেই ধাপে ধাপে আধুনিক সমাজকর্ম পেশা হিসেবে বিকশিত হয়।
উদ্দীপকে নির্দেশিত শিল্পবিপ্লব ইংল্যান্ড তথা বিশ্বের প্রতিটি দেশকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। এর ইতিবাচক প্রভাব যেমন পৃথিবীকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়, অন্যদিকে নানামুখী সমস্যারও জন্ম দেয়। শিল্পবিপ্লবের পর উন্নত দেশসমূহে সামাজিক সমস্যার অবনতি, যৌথ পরিবার ব্যবস্থায় ভাঙন, অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ, শ্রেণিদ্বন্দ্ব, অপরাধ বৃদ্ধি ও মানসিক সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যা সমাধানে চিকিৎসা সমাজকর্ম, বিদ্যালয় সমাজকর্ম, ব্যক্তি সমাজকর্ম, সমষ্টি সমাজকর্ম প্রভৃতিসহ পেশাদার সমাজকর্মের বিভিন্ন শাখার উদ্ভব ও প্রয়োগ শুরু হয়। ফলে আধুনিক সমাজকর্ম বিকাশ লাভ করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় সৃষ্ট জটিলতা সমাধানের প্রচেষ্টাই আধুনিক সমাজকর্মের বিকাশে মূল ভূমিকা পালন করেছে।